ছাত্রলীগ নেতার পায়েররগ কেটে হত্যা ॥ গ্রেফতার-৪

0

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে স্থানীয় ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা সোহেল মিয়া (২৭) ছাত্রলীগ নেতার পায়ের রগ কেটে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত (১৩ মার্চ) বুধবার মধ্যে রাতে উপজেলার ভোলাব ইউনিয়নের টাওড়া এলাকায় ঘটে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা। নিহত সোহেল মিয়া ভোলাব ইউনিয়ন ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি টাওড়া এলাকার মজিবুর রহমানের ছেলে।

নিহত সোহেল মিয়ার বাবা মজিবুর রহমান জানান, ভোলাব ইউনিয়ন ১নং ওয়ার্ড সদস্য শরীফ মিয়াসহ তার লোকজন বিএনপি সমর্থক। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে তারা সব সময়ই তার ছেলে সোহেল মিয়ার পেছনে লেগে থাকতো। এর আগেও একাধিক বার সোহেলসহ তার লোকজনের উপড় হামলা চালিয়েছে তারা।

বুধবার রাত ৯টার দিকে সোহেল মিয়া ও তার বন্ধু সিরাজ মিয়া টাওড়া বাজার থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। আদর্শ বিদ্যাপিঠ নামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে আসামাত্র ইউপি সদস্য শরীফের নেতৃত্বে লোকমান, কামাল, সাদ্দত আলীসহ ৫/৭ জন জন মিলে সোহেল মিয়াকে জোরপুর্বক উঠিয়ে বিলের দিকে নিয়ে গিয়ে দুই পায়ের রগ কেটে দেয়। এছাড়া পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশ থেতলে দিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে রাখে। এসময় সোহেলের বাবা মজিবুর রহমান দৌড়ে গিয়ে দেখতে পান সদস্য শরীফ, লোকমান, কামাল, সাদ্দত আলীসহ ৫/৭ জন সোহেলকে ফেলে রেখে পালিয়ে যাচ্ছে। পরে সোহেলকে মুমুর্ষ অবস্থায় প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠায় চিকিৎসকরা কিন্তু হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায় সোহেল।

বাবা মজিবুর রহমানের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংশার জেরে স্থানীয় বিএনপির কর্মীরা রগ কেটে ও পিটিয়ে হত্যা করে তার ছেলে সোহেলকে।

এদিকে, হত্যাকান্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে ভোলাব তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ শহিদুল আলমসহ পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে এলাকাবাসীর মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, সোহেলের বন্ধু সিরাজসহ চার জনকে সন্দেহজনক ভাবে আটক করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে। হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

0