এই নৌ যাত্রা দেশের জন্য একটি বড় মাইলফলক- আসাদুজ্জামান খান

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক মনে হয় ভাইয়ে ভাইয়ের সম্পর্ক। এই সম্পর্কটা অত্যন্ত গভীর। আমরা একে অপরের বিপদে পাশে দাড়াই। ৭১’র রণাঙ্গণে যখন গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়েদিচ্ছিল, তখন এই ভারতই আমাদের পাশে দাড়িয়ে ছিল। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনা এবং তাঁরই প্রচেষ্টায় আবারও নৌপথে বাংলাদেশ-ভারত যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে।
ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা নৌরুটে যাত্রিবাহী সার্ভিসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৫টায় পাগলা মেরি এন্ডারসন এলাকায় নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয় এবং বিআইডব্লিওটিসি’র যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নৌপরিবহন মন্ত্রনালয়ের সচিব আব্দুস সামাদ।
মন্ত্রী বলেন, এই নৌ যাত্রার মধ্য দিয়ে দেশে একটি বড় মাইলফলক সৃষ্টি হবে। এতে করে দুই দেশের মধ্যে চলমান সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু ভারতের সাথে সৃষ্টি করেছিলেন যৌথ নদী কমিশন। ১৯৯৬ সালে প্রধানমনন্ত্রী শেখ হাসিনা ঐতিহাসিক বঙ্গপ্রবাহ চুক্তি করেন। এবারে যে চুক্তি হচ্ছে তা আমাদের সাফল্য এবং সৌভাগ্যের বাতিঘর হিসেবে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ হচ্ছে নদীমাতৃক দেশ। যারা প্রথমবারের মতো এই ভ্রমণে অংশ নিচ্ছেন, তারা নদীপথে বাংলার অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে গন্তব্যে পৌছবেন। এই যাত্রার মধ্যে একে অপরকে আরও কাছ থেকে দেখতে পারবে। প্রধানমন্ত্রী যতোদিন বেঁচে থাকবেন, তিঁনি দেশের নদীপথগুলো নিয়ে যে পরিকল্পনা করেছেন তা বাস্তবায়ন হলে ঢাকার উপড় যে যানবাহনের চাপ রয়েছে, এই রুট গুলো তৈরি করতে পারলে সেই চাপ অনেকটাই কমে আসবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয় প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন,বাংলাদেশ নদী মাতৃক দেশ। একটা সময় নৌপথই এদেশের প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম ছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই নদীপথকে ঘিরেই ভারতের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার চুক্তি করেছিলেন। তিঁনি ভারতের সাথে যে সম্পর্কের সৃষ্টি করেছিলেন, বর্তমানে তাঁর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরে নতুন মাত্রা যোগ হলো।

বিমান পরিবহ ও পর্যটন মন্ত্রনালয় প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক শুধু বন্ধুত্বের নয়, রক্তের। ভাইয়ে ভাইয়ে যে সম্পর্ক, ভারতের সাথে আমাদের ঠিক তেমনই সম্পর্ক। ৭১’র মহান মুক্তিযোদ্ধে প্রতিবেশি দেশ হিসেবে বাংলাদেশের নিরীহ মানুষকে অভিবাসন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে তারা সেটিই প্রমাণ দিয়েছিলেন। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এই নদী দিয়েই আমরা সারাবিশে^ বাংলাদেশকে পরিচিতি করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের নদী সংরক্ষণের উপড় জোড় দিয়েছেন। তিনি বুড়িগঙ্গা নদীর স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার জন্য কাগিদ দিয়েছেন। আমরাও চাই দেশের সকল নদীর স্বচ্ছতা ফিরে আসুক।

1