নগরীর লঞ্চঘাটে এলাকায় জিএমবি’র দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান গ্রেফতার

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জ নগরীর ১নং লঞ্চঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন জেএমবির দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান মোঃ তরিকুল ইসলাম ওরফ তারেক ওরফে বাপ্পী ওরফে সাকিব ওরফে নাজমুস সাকিব (৩০)কে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১ সদস্যরা। এ সময় তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ উগ্রবাদী বই, উগ্রবাদী লিফলেট, প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল ও ১টি চাপাতি উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। শনিবার দুপুরে র্যাব-১১ এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্ণেল কাজী শামশের উদ্দিন সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীতে অবস্থিত র্যাব-১১ এর প্রধান কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে গণমাধ্যমে এ তথ্য জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- র্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আলেপউদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ জসিমউদ্দীন চৌধুরী ও এএসপি মোঃ মশিউর রহমান।
র্যাব-১১ অধিনায়ক লে. কর্ণেল কাজী শামশের উদ্দিন আরো জানান, গ্রেফতারকৃত নাজমুস সাকিব ২০১৩ সালে এমবিএ তে অধ্যায়নরত থাকাকালীন সময়ে জসিম উদ্দিন রাহমানির বছিলা মসজিদে বয়ান শুনতে যেতো। জসিম উদ্দিন রহমানির বয়ানের মাধ্যমে তার মাঝে উগ্রবাদী চেতনা জাগ্রত হয়। ঐ সময় একই মসজিদে জেএমবি নেতা আব্দুল-াহ আল মামুনের সাথে তার পরিচয় হয়। আব্দুল¬াহ আল মামুন তৎকালিন জেএমবির দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান ছিল। তার মাধ্যমে ২০১৩ সালে সাকিব জেএমবিতে যোগদান করে। ২০১৬ সালে বাগেরহাট জেলা পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে আব্দুল¬াহ আল মামুন নিহত হলে তার স্থলে সাকিব দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়। সাকিব দায়িত্ব পাওয়ার পর খুলনা, বাগেরহাট, বরগুনা, পিরোজপুর, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জেএমবির কর্মী সংখ্যা বাড়ানোর তৎপরতা অব্যাহত রাখে। সাকিবের মাধ্যমে মাহবুবুর রহমান উকিল, কাইয়ুম হাওলাদার, কাউছার বিন হালিম, হামদান বিন ফিরোজ, মামদুদুর রহমান মিশু, কামরুল, ইউনুছসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ৫০জন সদস্য জেএমবিতে যোগ দেয়। এদের অধিকাংশ সদস্যকে বিভিন্ন সময়ে আইন শৃংখলা বাহিনী কর্তৃক গ্রেফতার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১১ এর অধিনায়ক আরো জানান, গ্রেফতারকৃত আসামী নাজমুস সাকিব প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায় প্রথম পর্যায়ে সে জেএমবির সামরিক শাখার সদস্য ছিল এবং জামালপুরের যমুনা নদীর চর, আব্দুল¬াহ আল মামুনের বাসার ছাদসহ বিভিন্ন জায়গায় জেএমবির অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়েছিল। ২০১৭ সালে আইন শৃংখলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা শুরু হলে সাকিব ঢাকায় এসে আত্মগোপন করে তার দায়িত্বপূর্ণ এলাকা দক্ষিণাঞ্চলের পাশাপাশি ঢাকা ও এর আশেপাশের জেলা গুলোতে জেএমবির দাওয়াতি কাজে মনোনিবেশ করে সম্পূর্ণ নতুন ভাবে সদস্য সংগ্রহ করে সংগঠনকে পূর্ণগঠনের চেষ্টা করে। বর্তমানে সে জেএমবির দাওয়াতি শাখার দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছে বলে র্যাবকে জানায়। জিজ্ঞাসাবাদে সাকিব আরো জানায় যে, সে জেএমবিকে পূর্ণগঠিত করার জন্য অস্ত্র সংগ্রহের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে এবং জামালপুর জেলার যমুনা নদীর চরে জেএমবির নতুন ১টি প্রশিক্ষণ শিবির খোলার কথা ছিল। তার বিরুদ্ধে বাগেরহাটে কচুয়া থানায় ১টি, ডিএমপি যাত্রাবাড়ী থানায় ১টি, নরসিংদী সদর থানায় ১টি, নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানায় ৫টিসহ সর্বমোট ৮টি মামলা রয়েছে। যার সবগুলোই সন্ত্রাস বিরোধী আইন ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা। তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

1