আয়ু কমছে মদনগঞ্জবাসীর?

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডকটমঃ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ১৯ নং ওয়ার্ডস্থ মদনগঞ্জ বসুন্ধরা সিমেন্ট ফ্যাক্টরি যেন পরিবেশ দূষণের কল। আবাসিক এলাকায় এই ধরনের ফ্যাক্টরির বিরূপ প্রভাবে দিশেহারা মদনগঞ্জবাসী।
খোলা ক্রেনে করে জাহাজ থেকে ক্লিংকার অপসারণে নদীর পানি, নদীর তল দেশ ও বায়ু মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এতে ঐ এলাকা ও আশপাশের মানুষ নানা রোগে ভুগছে।
শীতলক্ষ্যার পানির দুর্গন্ধে নদী তীরের মানুষেরটিকে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে। জলজ প্রাণীগুলোর অবস্থাও বিপন্ন। মাছ মরে ভেসে উঠছে। বায়ুতে মিশ্রিত কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও সালফারডাইঅক্সাইড দূষণের প্রভাবে এখানে হলুদ ও এসিড বৃষ্টির ঘটনা পর্যন্ত ঘটছে। আশপাশের জমি উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গাছপালা।
প্রতিদিন প্রায় হাজার হাজার বস্তা সিমেন্ট উৎপাদনের ধারণ ক্ষমতার এই সিমেন্ট ফ্যাক্টরি লাখ লাখ টন ক্লিংকার জাহাজ থেকে খোলা ক্রেনে করে অপসারণ করছে। ক্লিংকারের ডাস্ট উড়ে গিয়ে পড়ছে নদী, জমি, বাড়িঘরে।
মানব দেহের ক্ষতি করছে মারাত্মকভাবে। যথাযথ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণনা করে কর্মরত থাকায় এই সিমেন্ট ফ্যাক্টরিগুলোতে কর্মরত হাজারো শ্রমিকও ভুগছেন নানা রোগে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু শ্রমিকরাই নন, এই অঞ্চলে বসবাসরতরা ফুসফুসের বিভিন্ন রোগভুগছে। মানব দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকার কক্লিংকারের ফ্লাইএ্যাশ এ্যাজমা, শ্বাসকষ্টসহ ফুসফুসজনিত নানা রোগের কারণহয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই ক্রমেই এই অঞ্চলে এই রোগীরসংখ্যা বাড়ছে। এ সংক্রান্ত শিশু রোগীও আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতিএতটাই খারাপ যে, কোনও ব্যক্তি যদি ধূমপায়ীনা-ও হন, তাও স্রেফ বায়ু দূষণের জন্য তিনি চেন স্মোকারেরস মান।
স্থানীয়রা জানান, দিনদিন এরূপ চলতে থাকলে একদিন আমাদের এই মদনগঞ্জ ছেলেচলে যেতেহবে। হয়ত এর দ্বারা অনেকের কর্মসংস্থান হচ্ছে।
কিন্তু প্রাণই যদি না বাঁচেতা হলেআমরা কর্মদিয়ে কি করব? হয় আমাদের বাঁচার ব্যাবস্থা করে দিননা হয় নিজেদের পৈত্তিক সম্পত্তি ছেড়ে চলে যাই।

1