নারায়ণগঞ্জের মূর্তিমান আতঙ্ক এসপি হারুন

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাসী, ভূমিদুস্য, চাঁদাবাজ, মাদকব্যবসায়ীদের কাছে মূর্তিমান আতঙ্কের নাম এসপি হারুন অর রশিদ। গত ডিসেম্বর মাসে নারায়ণগঞ্জে পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন হারুন-অর-রশিদ । যোগদান করার পরই নারায়ণগঞ্জ শহরের অবৈধ ভাবে দখল করে রাখা ফুটপাত, চাষাড়ায় অবৈধ সিএনজি ষ্ট্যান্ড উঠিয়ে দিয়ে সাধারন মানুষের মন জয় করেছেন।
এ ছাড়াও পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ সন্ত্রাসী, ভূমিদুস্য, চাঁদাবাজ, মাদক ও অবৈধ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করে মাঠে নামেন, এরপর থেকে নারায়ণগঞ্জে শুরু হয় একের পর এক সাঁড়াশি অভিযান । গ্রেপ্তার হতে থাকে মাদক ব্যাবসায়ী, চাঁদাবাজসহ অবৈধ ব্যবসায়িরা।
পুলিশ সুপরা বিভিন্ন সভাসমাবেশে বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাসী, ভূমিদুস্য, চাঁদাবাজ, অবৈধ মাদক ব্যবসায়ীদের কোন ছাড় দেওয়া হবে না। শুধু তাই নয় তাদের আড়ালে যে সকল গড ফাদার রয়েছে তাদের ও আইনের আওয়াত আনা হবে।
তিনি বলেন, সন্ত্রাসী, ভূমিদুস্য, চাঁদাবাজ, অবৈধ মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ পেশায় সবাইকে খুশি করা সম্ভব না। যত বড় ক্ষমতাশীল হোক আমাদের কাজ আমরা চালিয়ে যাবো।
উল্লেখ্য গত (২ এপ্রিল) বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পাগলায় বুড়িগঙ্গা নদীতে পরিচালিত ভাসমান রেঁস্তোরা মেরীএন্ডারসনে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান মদ ও বিয়ারসহ ৬৮ জনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) সুবাস চন্দ্র সাহার নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। অভিযানে ১ হাজার ৯২০ ক্যান বিয়ার, ৪২ বোতল বিদেশী মদ এবং ৭৫ বোতল দেশীয় কেরু কোম্পানীর মদ উদ্ধার ও মদ-বিয়ার বিক্রির প্রায় ৪৯ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতার ৬৮জনসহ মোট ৬৯ জনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করে ডিবি পুলিশের এসআই প্রকাশ চন্দ্র সরকার।
গ্রেফতার ৬৮ জনের মধ্যে ২৫ জন মেরী এন্ডারসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারী। গ্রেফতারকৃত ওই ২৫ জনকে মাদক ব্যবসায়ি হিসেবে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি ২৩ জন সেখানে মদ-বিয়ার পানরত অবস্থায় ছিলেন বলে এজাহারে বলা হয়। এছাড়া ভাসমান রেস্তোঁরা কাম বারটির ইজারাদার সঞ্জয় রায়কে মামলায় পলাতক দেখানো হয়েছে। মামলায় বারের ইজারাদার সঞ্জয় রায়ের সহযোগি হিসেবে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমানের শ্যালক তানভীর আহমেদ টিটুর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
তানভির আহমেদ টিটুর নাম আসার পর বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে নিন্দা ও প্রতিবাদ আসতে থাকে। গত শনিবার (৬ এপ্রিল) জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের বিশেষ জরুরী সভায় পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়। এসপির বিরুদ্ধে নেতাকর্মীদের একের পর এক স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠে সভাস্থল। একই সাথে নেতাকর্মীরা এসপি ‘ঘুষখোর এসপি’ বলে আখ্যা দিতে থাকেন। তখন এমপি শামীম ওসমান সহ সিনিয়র নেতারা নেতাকর্মীদের নিবৃত্ত করেন।

1