রানা প্লাজা ধসের ষষ্ঠ বার্ষিকী; গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের মানববন্ধন

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোরডটকমঃ রানা প্লাজা ধসের ষষ্ঠবার্ষিকীতে ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রীয়ভাবে গার্মেন্টস শ্রমিক শোক দিবস পালনের দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট ফতুল্লা আঞ্চলিক শাখার উদ্যোগে আজ বিকাল ৫ টায় শিবু মার্কেটে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট ফতুল্লা আঞ্চলিক শাখার সংগঠক মোহসিন হোসেন এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম গোলক, বাসদ ফতুল্লা থানার সমন্বয়ক এম এ মিল্টন, রি-রোলিং স্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি জামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাাদক এস এম কাদির,্ গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার দপ্তর সম্পাদক কামাল পারভেজ মিঠ,ু গাবতলী-পুলিশ লাইন শাখার সভাপতি সাইফুল ইসলাম শরীফ, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সোহাগ ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ভয়াবহ রানা প্লাজা ধসের ষষ্ঠ বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসে ১১৩৬ জন শ্রমিক মৃত্যুবরণ করে, নিখোঁজ হয়েছে ৩০০ জনের অধিক এবং আহত হয় ২৫০০ শ্রমিক। সারাকা, স্পেক্ট্রাম, কে.টি.এস, তাজরিন এরূপ অসংখ্য শ্রমিক হত্যাকা-ের ঘটনার বিচারহীনতার মতোই রানা প্লাজা হত্যাকা-ের জন্য যারা দায়ী এখন পর্যন্ত তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা হয়নি। দায়িত্ব অবহেলার জন্য দায়ী অসাধু সরকারি কর্মকর্তা আর মুনাফালোভী মালিকদের বিচারের মুখোমুখি হতে হয়নি বলেই রানা প্লাজা হত্যাকা-ের পরও টেম্পাকো, মাল্টি ফ্যাবসের মত কর্মস্থলে শ্রমিকের জীবনহানির মিছিল থামানো যায়নি।
নেতৃবৃন্দ বলেন, রানা প্লাজা ধসে সহ¯্রাধিক শ্রমিক নিহতের ঘটনার পরপরই কর্মস্থলে শ্রমিকের মৃত্যুতে ক্ষতিপূরণের হার কত হওয়া উচিত তার একটি প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছিল। সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট তার প্রস্তাবনায় সংশ্লিষ্ট ওখঙ ঈড়হাবহঃরড়হ ্ ঋধঃধষ ধপপরফবহঃ অপঃ -১৮৫৫ এর আলোকে খড়ংঃ ড়ভ ুবধৎ বধৎহরহম অনুযায়ী আজীবন আয়ের পরিমাণ হিসাব করে পরিবার প্রতি ৪৮ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের দাবি করেছিল। পরবর্তীতে অধিকাংশ জাতীয় পর্যায়ের শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও মালিকের আবহেলায় মৃত্যুজনিত কারণে আজীবন আয়ের সমপরিমাণ অর্থ ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিধান করার দাবি উচ্চারিত হয়েছিল। হাইকোর্টের নির্দেশনায় গঠিত ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ কমিটি ও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক পরিবার প্রতি ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের প্রস্তাব করেন। লাখ লাখ শ্রমিকের যথার্থ ক্ষতিপূরণের দাবিকে উপেক্ষা করে কর্মস্থলে শ্রমিকের মৃত্যুতে মাত্র ২ লাখ টাকা করে শ্রম আইন সংশোধন করেছে। আমরা অবিলম্বে শ্রম আইনের এই অগণতান্ত্রিক সংশোধোনী বাতিল করে কর্মস্থলে শ্রমিকের মৃত্যুতে আজীবন আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিধান করার দাবি জানাই।
নেতৃবৃন্দ ২৪ এপ্রিলকে রাষ্ট্রীয়ভাবে গার্মেন্টস শ্রমিক শোক দিবস ঘোষণা, রানা প্লাজা ভবন ধসে শ্রমিকের মৃত্যুতে মালিকসহ দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি, রানা প্লাজা ভবনের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে শ্রমিক কলোনী এবং নিহত শ্রমিকদের স্মরণে রানা প্লাজার স্থানে ও জুরাইন কবরস্থানে শহিদ বেদী নির্মাণের দাবি করেন।প্রেস বিজ্ঞপ্তি

1