মাদ্রাসা ছুটি হলে আল আমিন ধর্ষণ চালাতো কৌশলে

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জটুয়েন্টিডটকমঃ  ফেসবুকে ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনার সংবাদ দেখছিলেন নারায়ণগঞ্জের এক মাদ্রাসা ছাত্রীর মা। পাশে শুয়ে থাকা তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীটি তখন মাকে বললো, এই শিক্ষক গ্রেপ্তার হয়েছেন। কিন্তু আমাদের মাদ্রাসার হুজুরকে কেন গ্রেপ্তার করা হয় না?

এ কথা শুনে ওই শিশুর মা জানতে চান, কেন, কী হয়েছে?

তখন তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী বলে, আমাদের মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আল আমিন মেয়েদের ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন।

মায়ের আত্মা কেঁপে ওঠে। ছোট্ট মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে প্রাণ শীতল হয়ে আসে। এই ভয়ঙ্কর শিক্ষকের কাছেই যে নিজ মেয়েছে পাঠাচ্ছেন বিদ্যালাভের জন্য!

ছাত্রীর মা দেরি করেননি। বিষয়টি জানান র‌্যাবকে। এরপর র‌্যাব অনুসন্ধানে নেমে জানতে পারে ভয়ঙ্কর সব তথ্য। ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ওই অধ্যক্ষ মাদ্রাসার ১০ থেকে ১২ জন ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছেন! এ ছাড়া ধর্ষণের চেষ্টা ও যৌন হয়রানির অভিযোগও পাওয়া গেছে। এরপর ওই অধ্যক্ষকে আটক করে র‍্যাব।

আটক ধর্ষক হচ্ছেন- আটক করা অধ্যক্ষের নাম আল আমিন। বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ভূঁইয়াপাড়া এলাকায়। তিনি বাইতুল হুদা ক্যাডেট মাদ্রাসার অধ্যক্ষ।

র‌্যাব জানায়, মাদ্রাসার ভেতরে পরিবার নিয়ে থাকতেন অধ্যক্ষ আল আমিন। বাসায় তাঁর স্ত্রী না থাকলে বা মাদ্রাসা ছুটি হলে নানা কৌশলে অধ্যক্ষ আল আমিন ছাত্রীদের মাদ্রাসায় ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা ও যৌন হয়রানি করতেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই অধ্যক্ষ শিশুদের ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা ও যৌন হয়রানির কথা স্বীকার করেছেন।

এ ঘটনা জানতে পেরে অধ্যক্ষের শাস্তির দাবিতে এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় লোকজন।

প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে শিক্ষকের হাতে ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনার পর এবার একই ধরনের অভিযোগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষক আল আমিনকে আটক করেলো র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফতুল্লা উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের মাহমুদপুর এলাকায় বাইতুল হুদা ক্যাডেট মাদ্রাসা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। ওই অধ্যক্ষের মুঠোফোন ও কম্পিউটারে তল্লাশি চালিয়ে পর্নোগ্রাফি ভিডিও পাওয়া গেছে।

1