ব্যবসায়ীকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ আওলাদ হোসেন (৪২) নামে এক ব্যবসায়ীকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।

নিখোঁজ স্বামীর সন্ধান চেয়ে মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্ত্রী জান্নাতুল নাঈম সিমলা। ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের মাধবদী শাখায় চাকরি করেন তিনি।

নিখোঁজ আওলাদ হোসেন উপজেলার কাঞ্চর পৌরসভার চরপাড়া এলাকার মৃত কেরামত আলীর ছেলে। তিনি ইট ভাটার ব্যবসা করতেন বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কন্ঠে স্ত্রী জানান, সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে আটটার দিকে রূপগঞ্জের কাঞ্চন বাজার থেকে রিকশা যোগে বাড়ি ফিরছিলেন তার স্বামী। বাজারের জনৈক সানোয়ারের চা-পানের দোকানে পৌছানোর পরপরই দুইটি কালো রঙের হাইয়েস গাড়ি রিকশার গতিরোধ করে ডিবি পরিচয়ে তিন জন ব্যক্তি তাকে তুলে নিয়ে যায়। স্থানীয় লোক মারফত খবর পেয়ে তার স্বামীর মোবাইল ফোনের নম্বরে কল করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। পরে আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও কোন সন্ধান না পেয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে জান্নাতুল নাঈম বলেন, আমরা খুবই নির্বিরোধী মানুষ। আমাদের সাথে কারোর শত্রুতা নেই। তার নামে থানায় কোন মামলাও নেই। আমার স্বামী কোন রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত না থাকলেও আগামী ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য কাঞ্চন পৌরসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র আবুল বাশার বাদশার পক্ষে গত দুই দিন প্রচারণায় গিয়েছিলেন। তবে সে বিষয়ে অন্য কোন প্রার্থী হুমকি-ধামকি প্রদান করেছেন বলে আমার স্বামী আমাকে জানাননি। কে বা কারা তাকে অপহরণ করে নিয়ে গেছেন সে সম্পর্কে কিছুই জানি না। এখন পর্যন্ত কাউকে সন্দেহও করছি না।

এখন পর্যন্ত কেউ মুক্তিপণ দাবি করে কোন ফোন আসেনি উল্লেখ করে প্রশাসনের প্রতি তার নিখোঁজ স্বামীকে ফিরে পাওয়ার দাবি জানান তিনি।

এ ঘটনায় নিখোঁজ ব্যবসায়ীর শ্যালক তানভীর আলম হিমেল বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল ইসলাম বলেন, আমরা এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিভিন্ন থানায় ও ডিবি পুলিশের সাথেও যোগাযোগ করেছি। কিন্তু সেখানেও নিখোঁজ ব্যবসায়ীর বিষয়ে কোন তথ্য পাইনি। নির্বাচনের আগ মুহুর্তে এরকম একটা অভিযোগ খুবই চাঞ্চল্যকর। আমরা খুবই গুরুত্বের সাথে বিষয়টির তদন্ত করছি।

1