বেনাপোল-শার্শার দেড় হাজার গরুর খামার মেটাবে কোরবানির চাহিদা

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ দেশে ভারতীয় গরু না আসায় দেশি পশুর চাহিদা বেড়েছে। এবার লাভবান হওয়ার জোর সম্ভাবনা দেখছেন দেশি খামারিরা। দেশি খামারের গরু গত কয়েক বছর ধরে কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে চলেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে যশোরের শার্শা-বেনাপোলের দেড় হাজার খামার।

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে যশোরের শার্শা-বেনাপোলে খামারিরা গরু ছাগল ও ভেড়া মিলে প্রায় ৪০ হাজার কোরবানির পশু প্রস্তুত করেছেন। উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে এসব পশু সরবরাহ করা হবে দেশের বিভিন্ন স্থানে। বেনাপোলসহ শার্শা উপজেলায় এক হাজার ৫০৪ জন খামারি পরিচর্যা করছেন এসব কোরবানির পশুর।

খামারের গরুগুলোকে লালন-পালন ও সার্বক্ষণিক চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে পরিচর্যা করা হচ্ছে। ভারতীয় গরু না আসায় দেশি পশুর চাহিদা বেড়েছে জানিয়ে খামারিরা জানান, এবার লাভবান হওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। এসব গরু কয়েক বছর ধরে এ অঞ্চলে কোরবানির গরুর চাহিদা পূরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে চলেছে। তবে সীমান্ত পথে ভারতীয় গরু না আসায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়ার কথা বলছেন খামারিরা।

যশোরের বেনাপোল ও শার্শা সীমান্ত দিয়ে চোরাপথে গরু আসা কমে যাওয়ায় অনেক আগে থেকেই এ অঞ্চলের বেশ কিছু বেকার যুবক উন্নতজাতের দেশি গরুর খামার তৈরি করে লাভবান হচ্ছেন। এবাবের কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য শার্শা উপজেলায় ছোট বড় প্রায় এক হাজার ৫০৪টি গরু মোটাতাজাকরণ খামারে সরকারি হিসেবে চার হাজার ৭৮৫টি গরু ও সাত হাজার ৯৯১টি ছাগল-ভেড়া থাকলেও বেসরকারি হিসেবে গরু রয়েছে প্রায় ২০ হাজার। আর ছাগল ভেড়া রয়েছে ১০ হাজারের ওপর। এ ছাড়া অন্যান্য কৃষকের ঘরেও রয়েছে অসংখ্য গরু।

খামার মালিকদের নিবিড় পরিচর্যায় এসব খামারের গরুগুলো অত্যন্ত সুন্দর ও আকর্ষণীয় চেহারায় রূপ নিয়েছে। খামার মালিকরা দিনরাত পরিশ্রম করে এসব গরুর পরিচর্যা করছেন। এক বছর আগে যেসব গরু ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকায় কিনেছেন সেসব গরু এখন দুই লাখ টাকা দাম রেখেছেন। বাড়িতে পালিত কোরবানির হাজার হাজার এসব পশু হাটে তোলা শুরু হয়েছে। অনেক খামারি বাড়ি বসেই এসব পশু বিক্রি করছেন।

যশোরের শার্শা সীমান্ত পথে ভারত থেকে এ বছর গরু না আসায় এখন পর্যন্ত বাজারে গরুর দাম ভালো আছে বলে জানান বেনাপোলের পুটখালি এলাকার গরু খামারি নাসির উদ্দিন। তিনি জানান, গরুর হাটে দেশের অন্যান্য এলাকার ব্যাপারী কম থাকায় বিক্রি কম হচ্ছে। এ উপজেলায় এবারের কোরবানিতে যে পরিমাণ গরুর চাহিদা রয়েছে তার দ্বিগুণ গরু রয়েছে এসব খামারে।

খামারি জালাল উদ্দিন ও পারভীন সুলতানা জানান, দেশি গরু পালন করে ভালোই আছেন। চাহিদা ও দামও ভালো পাবেন বলে আশা করছেন। তারা আরো জানান, অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়াই দেশি জাতের গরু পালন করেন। এতে তারা আর্থিকভাবে বেশ স্বাবলম্বী হচ্ছেন বলে দাবি করেন।

শার্শা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. জয়দেব কুমার সিংহ বলেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে শার্শা উপজেলায় দেড় হাজার অধিক গরু মোটাতাজাকরণ খামার গড়ে উঠেছে। পশুর হাটগুলোতে কেনাবেচা শুরু হয়েছে। এসব খামারিরা এলাকার চাহিদা মিটিয়ে কুষ্টিয়া, ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকারদের কাছে গরু বিক্রি করেন। অনেক ক্রেতা খামার থেকেও কোরবানির পশু কিনে নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘পুষ্টিকর খাদ্য খাইয়ে গরু মোটা তাজা করনে খামারিদের মাঝে প্রাণিসম্পদ বিভাগ বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করে থাকেন। ভারত থেকে গরু না আসায় এ এলাকায় খামার বৃদ্ধি পাবে ও অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। গরুর খামার ব্যবসায়ীরা বিনা সুদে লোন পেলে অনেকেই এ পেশায় আসতে উৎসাহিত হবেন। স্ট্রয়েড ও ডাইক্লোফেন জাতীয় ওষুধ খাইয়ে যাতে কেউ গরু মোটাতাজা করতে না পারে- সে ব্যাপারে আমরা সজাগ দৃষ্টি রেখেছি।’

খুলনা ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল ইমরান উল্লাহ সরকার বলেন, অন্যান্য সময় কোরবানি ঈদের আগে শার্শা সীমান্ত পথে ভারতীয় গরু এলেও এবার সীমান্ত পথে ভারত থেকে গরু আসছে না। কোনো বাংলাদেশি ভারতে প্রবেশ করে গরু আনতে না পারে সে জন্য কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। গরু পাচার নিয়ে সীমান্তে কোনো বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। এ বিষয়টি আমাদের পক্ষ থেকে সমাবেশ করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ভবতোষ কান্তি সরকার বলেন, যশোরের বিশাল এলাকাজুড়ে ভারতীয় সীমান্ত। গতবছর কোরবানি ঈদের আগে থেকে সীমান্ত পথে গরু প্রবেশ বন্ধ ছিল। কিন্তু ঈদের বাজারের শেষ দিকে ভারতীয় গরু ঢুকে বাজারে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। এমনকি, দেশের লাখো খামারি গরু বিক্রি করতেও পারিনি। এতে দেশি খামারিরা ব্যাপকভাবে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হন। তবে এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভারতীয় গরু না আসায় দেশি গরুর প্রতি দৃষ্টি এখন ক্রেতাদের। প্রতিনিয়ত কোরবানির পশুর বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি হাটে ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত থাকবে। কোনো পশুতে আপত্তিকর কিছু দেখা গেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

1