সিমু আনন্দধাম বৃদ্ধাশ্রম নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে আমাদের বক্তব্য

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ সম্প্রতি নারায়নগঞ্জের কয়েকটি অন লাইন নিউজ পোর্টাল ও নারায়নগঞ্জ থেকে প্রকাশিত কয়েকটি সংবাদ পত্রে সিমু আনন্দধাম বৃদ্ধাশ্রম নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জনমনে সৃষ্টি বিভ্রান্তি নিরসনে ও ভবিষ্যৎ এ ধরনের প্রতিবেদনে সমাজসেবায় আগ্রহী ব্যক্তিবর্গ যেন আগ্রহ হারিয়ে না ফেলে সেই জন্য আমরা আমাদের বক্তব্য পেশ করছি। প্রথমেই আমরা প্রকাশিত সংবাদে যে প্রতারনা শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে তার প্রতি দ্বিমত পোষন করে বলতে চাই “সিমু আনন্দধাম বৃদ্ধাশ্রম “- সামাজিক সংগঠন আনন্দধামের একটি স্থায়ী প্রকল্প। আমাদের মুল লক্ষ্য প্রথম পর্যায়ে সমাজের বিশ জন আশ্রয়হীন বৃদ্ধ বৃদ্ধাকে নিয়ে দৃশ্যমান ও ১০ জন অসহায় বৃদ্ধ বৃদ্ধাকে অদৃশ্যমান রেখে ( যারা তাদের পুর্বের সামাজিক মর্জাদার কারনে ও পরিবারের অন্যান্যদের সামাজিক সম্মানের কথা চিন্তা করে জনসমুখ্যে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ) মোট ৩০ জনকে ৫ টি ইউনিটের মাধ্যমে সংগঠনের আর্থিক সক্ষমতা সাপেক্ষে প্রথমে আশ্রয়ের আওতায় নিয়ে আসা। প্রাথমিক পর্যায়ে বৃদ্ধাশ্রমের প্রথম ইউনিটের কাজ শুরু করার জন্য আনন্দধামের নির্বাহী চেয়ারম্যান হাসিনা রহমান সিমু তাদের নিজেদের বাড়ীর একটি ঘর গরীব মানুষদের মাথা গুজার আশ্রয়ের জন্য বিনা পয়সায় ব্যবহারের জন্য ছেড়ে দেন। শুধু তাই নয় নিজের কষ্টার্জিত আয় হতে ওই ঘরটা যতটুকু সামর্থে কুলিয়েছে তা সাজাতে চেস্টা করেছেন। এইখানেই ৪ জন দৃশ্যমান বৃদ্ধাকে নিয়ে ও একজনকে অদৃশ্যমান রেখে ( পরিচয় গোপন রেখে ) গত ১০ ই জুন প্রকল্পটি প্রাথমিক পর্যায়ে উদ্বোধন করা হয়। আশ্রিতারা কখনো আসে রাত্রি যাপন করে সকালে চলে যায়, আবার কেহ কেহ কয়েক দিন ব্যাপিও অবস্থান করে। হাসিনা সিমু তাদের ঘর থেকে যতটুকু পারেন চেস্টা করেন তাদের খাবার দিতে। আমরা মনে করি প্রকাশিত প্রতিবেদনে হাসিনা রহমান সিমুর এই মহান ও নি:স্বার্থ অবদানকে অবলুণ্ঠিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এখানে গিয়ে কাহুকে পাওয়া যায়নি বরং বাড়ীতে কিছু ছেলে পেলে দেখেছে। ওটা হচ্ছে হাসিনা সিমুদের নিজেদের বাড়ী , এই বাড়ীতে তার ভাইবৃন্দ, তার ছেলে, বাবা সবাই ছিলো ওই সময়ে। তাদেরকে ১০ ১২ জন ছেলে বলা লজ্জাজনক। আর বৃদ্ধাশ্রমে কাহাকেও স্থায়ী ভাবে বসবাসের অনুমতিও দেওয়া হয়নি, যে ৪ জনকে নিয়ে শুরু করা হয়েছিলো তাদেরকে অনুমতি দেওয়া হয়ে ছিলো থাকার জন্য। এর মানে এটা নয় তারা থাকতে বাধ্য সর্ব সময়। এটা কোন জেলখানা নয়। তারা যখন আশ্রয়ের প্রয়োজন মনে করে আশ্রয় নেয়। আর তার খালার থাকার ব্যাপারটা সামাজিক মর্জাদার কারনে আমাদের গোপন রাখার সিদ্ধান্ত ছিলো। যেভাবে আরো নয়টা আশ্রিত পরিবারের তথ্য সম্পুর্নরুপে গোপন রাখা হয়েছে তাদের পুর্বের সামাজিক মর্জাদার কারনে ও পরিবারের অন্যান্যদের সামাজিক সম্মানের কথা চিন্তা করে, যার সম্পুর্ন ব্যায়ভার এককভাবে আনন্দধামের চেয়ারম্যান বহন করে যাচ্ছেন। খালার ব্যাপারটা অদৃশ্যমান না থেকে আমাদের অসর্কতায় প্রকাশিত হওয়ায় আমরা লজ্জিত। কিন্ত প্রতিবেদনে যে বলা হয়েছে কর্মরত খালাকে আশ্রিতা দেখিয়ে প্রতারনা তা সম্পুর্ন ভুল তথ্য। আর উনার যে ভাষ্য দেওয়া হয়েছে উনি থাকেন না তাও ঠিক নয়, আজকে পর্যন্ত উনি আমাদের সাথেই আছেন। আমরা অনুরোধ করবো উনার সামাজিক মর্জাদার কথা চিন্তা এই বিষয়টা আর না তোলার। আর কাজী বেগম নামে ১১৫ বসরের যে বৃদ্ধার কথা বলা হয়েছে, আমাদের যে তথ্য আছে সেখানে এই বয়সের ও এই নামের কেহ কখনো আশ্রিতই ছিলোনা। আর যদি থেকেও থাকতো তাহলে সে কিভাবে ওই বৃদ্ধাকে খুজে পেলো আর অন্যানদের খুজে পেলো তাদের যাদেরকে আশ্রমে এসে পায়নি। এটা অবাক করা ব্যাপার পুরো প্রতিবেদনের ঘটনাটাই পুর্বপরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে। যে শাড়ী বিতরনের কথা বলা হয়েছে তাও হাসিনা সিমুর নিজস্ব অর্থে কিনা, তাকে ছোট করার জন্য কারো মন্তব্যের কথা উল্লেখ্য করে তুচ্ছ তাচ্ছিল করে প্রকাশ করা কোনভাবেই গ্রহন যোগ্য মনে হয়না। আমাদের পরিকল্পিত বৃদ্ধাশ্রম স্থায়ী ভাবে প্রতিষ্ঠা করতে অবশ্যই সরকারসহ সবার সহযোগিতা আমরা কামনা করতে পারি, এটা কোন অন্যায় নয়। তবে আমরা এখনো এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেইনি। গত দুমাস ধরে আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে পরিচালিত এই বৃদ্ধাশ্রমটি শুধু মাত্র হাসিনা রহমান সিমু ও আমাদের সম্মানিত চেয়ারম্যানের এবং আমাদের সদস্যদের যতসামান্য অর্থে পরিচালনা করতে চেষ্টা করছি, শুধুমাত্র সংগঠনের বাহিরে এক সহৃদয় বন্ধু এক হাজার টাকা প্রধান করেছে। আমরা মনে করি সিমু আনন্দধাম বৃদ্ধাশ্রম নিয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে তাতে হাসিনা রহমান সিমুকে চরমভাবে অপমানিত করা হয়েছে ও আমাদের সংগঠনকে জনগনের সামনে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। আমাদের এই কথা গুলু হয়তো হাজার হাজার পাঠকের কাছে পৌছবে না, হয়ত তারা জানতেও পারবেনা সত্যিটা কি, তবুও যদি একজন পাঠকের কাছেও পৌছে তাতেই আমাদের সান্তনা।

1