আমার হিম্মতের কারণে কারো কাছে মাথা নত করি নাই- মেয়র আইভী

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, চারুকলা একটি সংস্কৃতি, একটি ঐতিহ্য, চারুকলা আমাদের পরিচয়, চারুকলা আমাদের বাঙালির ইতিহাস।

রোববার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে দেওভোগ নগর শেখ রাসেল পার্ক সংলগ্ন নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউট (আর্ট কলেজ) এর আধুনিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন,  ‘আমি আঁকতে পারিনা। যদি আকঁতে পারতাম তাহলে হয়তো পুরো নারায়ণগঞ্জকে এঁকে দেখাতাম আমার মনে কি ইচ্ছা। মাঝে মাঝে আমার মনে যেটি চায় সেটি অনেককে এঁকে দিতে বলি। মনের মাধুরী মিশিয়ে আমি নারায়ণগঞ্জকে সাজাতে চাই। জানি না কতখানি পারবো।’

তিনি আরো বলেন,  ছাত্র ও শিক্ষকদের সময় এক সময় বিভক্তি ছিলো। তবে আমার মধ্যে কিভাবে জানি আসলো চারুকলা এখানে থাকতে হবে। যাই হোক না কেন। এরজন্য উপায় খুঁজতে বের করতে হবে। আমার মানসিকতা ছিলো এটাই।

মেয়র আইভী বলেন, আমাদের সংগ্রাম শুরু হলো। প্রায় ৪০টি চিঠি দিয়েছি। বিএনপি, তত্ত্বাবধায়ক এবং আওয়ামী লীগ সরকার কেউ কথা রাখেনি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় রেলের এই জায়গা বিক্রি করতে চেয়েছিলো। অনেকে নানা ভয় দেখিয়েছিলো। তবে আমি বলেছিলাম আমি বেঁচে থাকতে চারুকলার এই জায়গা বিক্রি করতে দেবোনা। জনস্বার্থে এই জায়গাটি চেয়েছি। অনেক ঘোরাঘুরির পর আমরা জলাশয় আইন, ভূমিরক্ষা আইন দিয়ে টেন্ডার আহবান করলাম। তবে আমার চীফ অফিসার বললেন, তিনি স্বাক্ষর করতে পারবেননা। আমি বললাম সেটিই লিখে দেন। এরপর আমি লিখলাম জনস্বার্থে আমি এটি করতে প্রস্তুত আছি যদি কোনদিন আমার বিরুদ্ধে মামলা হয় তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি মানুষকে নিয়ে এটা মোকাবেলা করবো এবং টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য থাকবো। টেন্ডার আহবান করার পর রেলের মাধ্যমে মামলা করা হলো, ঠিকাদারদের ধরে নেয়া হলো। এবং তাদের জেলে পাঠানো হলো।

মেয়র আইভী আরো বলেন, বস্তিবাসীর প্রতি সহানুভূতিশীল তবে নারায়ণগঞ্জে সবচেয়ে মাদকের আখড়া এখানেই ছিলো। বস্তিবাসীরা এখানে ভাড়া দিয়ে থাকতো।তারা একজন ম্যাসলম্যানকে টাকা দিতো। বস্তিবাসীদের নিয়ন্ত্রণকারীরা ভাড়া নিতো। এদের লিস্ট আমার কাছে আছে। যেটি আমি মন্ত্রীকেও দেখিয়েছিলাম। বাবুরাইল, পাইকপাড়া, দেওভাগবাসী সবাই আমাদের সহযোগিতা করেছিলেন। প্যানেল মেয়র বিভাসহ এলাকাবাসীদের নিয়ে আমরা একদিনে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ছাড়া মুক্তই করেছিলাম বলা চলে। মাদকের আস্তানা আমরা ভেঙে দিয়েছিলাম। এরপর থেকে আমাদের কোন কাজ থেমে নাই। সকলের সহযোগিতা ছিলো বলেই এটা সম্ভব হয়েছিলো।

সিটি করপোরেশন এখন অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী। ৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে এই চারুকলা ইন্সস্টিটিউট ভবন নির্মাণের টেন্ডার কাজ আহবান করা হয়েছে।

শেখ রাসেল পার্ক সম্পর্কে মেয়র আইভী বলেন, এখানকার আবহটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। যখন এই পার্কটার কাজ শুরু করেছিলাম তখন এই নাম ছিলোনা। নামটা আমার মনে মনেই ছিলো। কিন্তু কেউ যাতে বলতে না পারে আমি দলে থেকে দলকে ব্যবহার করে আমি এই পার্কটি করতে চাচ্ছি। একারণে তখন আমরা এই নামটি দেইনি। যথাযথভাবে বঙ্গবন্ধু পরিষদ ট্রাস্টি থেকে অনুমোদন নিয়ে পরবর্তীতে এই নামটি আমরা দিয়েছি। আমরা এখানে দলকে ব্যবহার করিনি। একাজে নারায়ণগঞ্জবাসী আমাকে সহযোগিতা করেছে। আমার হিম্মত ও সাহসের কারণে আমি কারো কাছে মাথা নত করি নাই। অনেকে বলেছে ২০০ কোটি টাকা দিয়ে কেন বাতাস খাওয়াবেন এখানে মতিঝিল হবে। আমি বলেছিলাম ২০০ কোটি টাকা দিয়ে আমি আমার নারায়ণগঞ্জবাসীকে বিশুদ্ধ বাতাস খাওয়াব। মতিঝিল হবে না এটা হবে হাতিরঝিল হবে। শেখ রাসেল পার্ক হবে। এবং তাই হয়েছে।

অতিথিদের বক্তব্য শেষে নতুন আঙ্গিকে নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউট (আর্ট কলেজ) এর আধুনিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইন্সটিটিউট এর গভর্নিং বডির সভাপতি এড.আহসানুল করিম চৌধুরী। অনুষ্ঠানে ফ্রান্স সরকার কর্তৃক নাইট উপাধি প্রাপ্ত আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন শিল্পী, মুক্তিযোদ্ধা ২নং সেক্টরের প্লাটুন কমান্ডার শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের কনিষ্ঠপুত্র ও প্রকৌশলী ময়নুল আবেদীন, একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী সামছুদ্দোহা, চারুকলা অনুষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অংকন ও চিত্রায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান শিল্পী শিশির ভট্টাচার্য, দৈনিক সংবাদের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক কাশেম হুমায়ূন, নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইন্সটিটিউট এর অধ্যক্ষ মো.সামছুল আলম, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মনোয়ার হোসেন, দাতা সদস্য রফিউর রাব্বি, হিতৈষী সদস্য আব্দুস সালাম, জহিরুল ইসলাম নাসিক প্যানেল মেয়র বিভা হাসান, কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস, সাবেক কাউন্সিলর মো.ওবায়দুল্লাহ, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী কাশেম জামাল, জেলা আওযামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল কাদির, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সুফিয়ান, মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আহমদ আলী রেজা উজ্জল, নাগরিক কমিটি সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ভবানী শংকর রায়, সেক্রেটারি শাহীন মাহমুদ, খেলাঘর নারায়ণগঞ্জের সভাপতি রথিন চক্রবর্তী, সেক্রেটারি ফারুক মহসিন, নারায়ণগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের (এনইউজে) সেক্রেটারি আফজাল হোসেন পন্টি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

1