একমাত্র নাসিকই এ প্রকল্পের উদ্যোগ নিয়েছে- মেয়র আইভী

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, প্লাস্টিক নিয়ে যে সমস্যা হচ্ছে তা প্রত্যেক ওয়ার্ডে। প্লাস্টিকের কারণে ড্রেন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ আমাদেরকে দোষারোপ করছে। কিন্তু এই যে শত শত প্লাস্টিক,পলিথিন থেকে শুরু করে এমন কিছু নাই যা ড্রেনে ফেলা হয় না। বালিশ, তোষক পর্যন্ত ড্রেনে পাওয়া যায়।

সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফতুল্লার পঞ্চবটিতে জৈব সার উৎপাদন কেন্দ্রে প্লাস্টিক-পলিথিন থেকে ডিজেল ও পেট্রোল উৎপাদন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এই প্রকল্প থেকে যে তেল উৎপাদন হবে নাসিকে যে সকল ময়লা গাড়ি আছে তা এই পজেকটের উৎপাদিত তেল কিনে নিবো। এই ব্যাপারে আমাদেরকে সহযোগিতা করবে। আমরা চাই না নারায়ণগঞ্জ শহরে ও তার আশেপাশে প্লাস্টিক-পলিথিন থাকুক। তাই আমাদের কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে।

তিনি আরো বলেন,  আমাদের তো সবকিছুতেই দোষ। আপনারা আমাদের নির্বাচন করে পাশ করিয়েছেন যার ফলে সকল দোষ আমাদের মাথা পেতে নিতে হয়। কিন্তু পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করার জন্য গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসতে হয়।

তিনি আরো বলেন,  বাসা বাড়ি থেকে ময়লা আনার পরও দেখা গেছে হকাররা বঙ্গবন্ধু সড়কে বসে তারা প্রত্যেকটা ড্রেনের মুখ ভরে রাখছে। প্রত্যেকটা ড্রেনের মুখ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এগুলো আপনাদেরকে সচেতন ভাবে প্রচার করতে হবে। গত ঈদে আমরা ১০ থেকে ১২ ট্রাক ভর্তি পলিথিন আমারা কর্মীরা সড়ক থেকে সরিয়েছে। ঈদের আগের দিন সারারাত জেগে তারা এ পলিথিন পলিথিন পরিস্কার করা হয়। তা যদি ভিডিও বা কোনো ছবি তুলে রাখা হত তাহলে বুঝাতে পারতাম যে আমাদের উপর কি পরিমাণ অত্যাচার করা হয়?

তিনি বলেন, কিন্তু এর পেছনে কি? কেন বঙ্গবন্ধু সড়ক নিয়ে এত কথা বলতে হচ্ছে? কেন হকারদের নিয়ে এত কথা বলছি? আমি কিন্তু ৬’শ থেকে ৭’শ পূর্নবাসন করেছি। তাদের বসার জায়গা করে দিয়েছি। তাহলে কেন তারা বঙ্গবন্ধু সড়কে বসবে? কেন একই কথা বার বার বলতে হবে? শুধু যে বঙ্গবন্ধু সড়ক তা নয়।

এ সকল সমস্যা থেকে সমাধান পেতে আমারা প্লাস্টিক দিয়ে ডিজেল তৈরি কাজ শুরু করলাম। বিষয়টি নিয়ে মেঘা অর্গানিক বাংলাদেশ যখন আমাদের কাছে আসে আমারা তাদেরকে সহযোগীতা করার জন্য চেষ্টা করেছি। আরও করবো। এখানে তাদের আসার আগে এই সেটা তৈরি করে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

এ সময় তিনি মেঘা অগার্নিকের নির্বাহী পরিচালকের উদ্দেশ্যে করে বলেন, শুধু নিজের এলাকার ময়লা নেবেন আর বাইরের ময়লা নেবেন না তা হবে না। এলাকার পাশাপাশি শহরের ময়লাও নিতে হবে। আগে আপনি আমার শহর পরিস্কার করবেন তারপর আপনি আপনার কাজ করবেন। তাহলেই আমি আপনাকে সহযোগীতা করতে পারবো।

মেয়র আইভী বলেন, এই প্রথম বাংলাদেশে বড় পরিসরে এই প্রকল্প নিয়ে কাজ করতে যাচ্ছি আমরা। ব্যক্তি উদ্যোগে অনেকেই ছোট ছোট পরিসরে করছে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনই বাংলাদেশে একমাত্র সিটি করপোরেশন যেটা এ প্রকল্পে পরিসরে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছে। আমরা চাই এর স্থায়িত্ব হোক। আরও বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ হোক এবং আমাদের শহর পরিস্কার থাকুক।

এ সময় নগর ভবনের সামনে ট্রাকস্ট্যান্ডের প্রসঙ্গে বলেন, এর পাশেই আমাদের ট্রাকস্ট্যান্ড। প্রায় ২ থেকে ৩ কোটি টাকা ব্যয় করে এত সুন্দর করে ট্রাক স্ট্যান্ডটি করে দিয়েছি। এখানের অনেককে জায়গা করে ঘর করে দিয়েছি। পুকুর বাঁধিয়ে দিয়েছি। কিন্তু আমরা সিটি করপোরেশনের লোক বন্দি অবস্থায় থাকি। নেতা ও মালিকরা মিলে আমাদেরকে জিম্মি করে রাখছে।

সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব এ,এফ,এম এহতেশামূল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, মেঘা অর্গানিক বাংলাদেশ এর নির্বাহী পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান, পরিবেশ আন্দলন নারায়ণগঞ্জ এর সভাপতি জনাব এবি সিদ্দিক, প্যানেল মেয়র আফসানা আফরোজ বিভা, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আশরাফুল ইসলাম, সংরক্ষিত কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম, আয়শা আক্তার দিনা, হোসনে আরা বেগম, শিউলি নওশাদ, ৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ সাদরিল, ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রুহুল আমিন মোল্লা, ১০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইফতেখার আলম খোকন, ১১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জমসের আলী ঝন্টু, ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, ১৪ নং কাউন্সিলর শফিউদ্দিন প্রধান, ১৫ নং কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস, ১৭ নং কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু, ১৮নং কাউন্সিলর কবির হোসাইন, ১৯ নং কাউন্সিলর ফয়সাল মোহাম্মদ মো. সাগর, নগর পরিকল্পনাবিদ মোঃ মঈনুল ইসলাম, মেডিকেল অফিসার ডা. শেখ মোস্তফা আলী, পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আবুল হোসেন ও পরিচ্ছন্ন পরিদর্শক শ্যামল পালসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মককর্তা প্রমুখ।

1