কালাশনিকভ একসঙ্গে তৈরি করবে ভারত–রাশিয়া

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ ভারত ও রাশিয়ার কূটনৈতিক সুসম্পর্ক অনেক দিন ধরেই। সামরিক ক্ষেত্রেও দুই দেশ যৌথভাবে অনেক কাজ করে। এবার একসঙ্গে কালাশনিকভ (একে-২০৩ অ্যাসল্ট রাইফেল) তৈরি করবে দেশ দুটি।

ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরামে অংশ নেওয়ার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখন রাশিয়ায় আছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর নরেন্দ্র মোদি এ কথা জানান। রাশিয়ার ভ্লাদিভস্তক শহরে ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে এ বৈঠক হয়। অস্ত্র তৈরির ব্যাপারে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে চুক্তি হয়েছে।

অস্ত্র তৈরি উদ্যোগের ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নতুন পর্যায়ে পৌঁছে যাবে বলে মনে সামরিক বিশ্লেষকেরা।

ভারতে রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তৈরি অস্ত্র কারখানা আছে। উত্তর প্রদেশের আমেথির কোরওয়াতে ওই অস্ত্র কারখানার নাম ইন্দো–রাশিয়ান রাইফেলস প্রাইভেট লিমিটেড। এতে ভারতের শেয়ার ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ ও রাশিয়ার ৪৯ দশমিক ৫ শতাংশ।

নতুন চুক্তি অনুযায়ী সম্ভবত উত্তর প্রদেশের কোরওয়াতে তৈরি হবে একে-২০৩ রাইফেলের কারখানা। প্রযুক্তি হস্তান্তরের সামরিক ক্ষেত্রে একে অপরকে সাহায্য করবে ভারত ও রাশিয়া। কোরওয়াতের কারখানায় তৈরি হবে ৬ দশমিক ৭ লাখ একে-২০৩ রাইফেল। এ অস্ত্র ব্যবহার করবে দুটি দেশই। বাড়তি অস্ত্র তৃতীয় কোনো দেশে রপ্তানি করা হবে। ভারতীয় সেনাসদস্য ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের জন্য অপেক্ষাকৃত হালকা হেলিকপ্টার নির্মাণের চুক্তিও করে ভারত ও রাশিয়া৷

কালাশনিকভ (একে-২০৩ অ্যাসল্ট) রাইফেল এখন একসঙ্গে তৈরি করবে ভারত ও রাশিয়া। ছবি: সংগৃহীতকালাশনিকভ (একে-২০৩ অ্যাসল্ট) রাইফেল এখন একসঙ্গে তৈরি করবে ভারত ও রাশিয়া। ছবি: সংগৃহীতভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি মনে করেন, যৌথভাবে এই অস্ত্র তৈরি ভারত-রাশিয়ার সম্পর্কেই মজবুত করবে না, সঙ্গে ভারতের কারখানাকেও উৎসাহ দেবে। মোদি বলেন, বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সম্পর্ক এক অন্য পর্যায়ে নিয়ে গেছেন তিনি।

নরেন্দ্র মোদি বলেন, তাঁদের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ–সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া তেল ও গ্যাস, পরমাণুশক্তি, প্রতিরক্ষা নিয়েও হয়েছে আলোচনা।

২০২০ সালের মে মাসে ৭৫তম বিজয় দিবসের প্যারেড উপলক্ষে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আমন্ত্রণ জানালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সহজ হলো।

ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিজয় গোখলে জানিয়েছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে রুশ ফেডারেশন এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের ৭৫তম বিজয় দিবস উদ্যাপনের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

২০১৫ সালে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি ৭০তম বিজয় দিবসে রাশিয়ার আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েছিলেন।

1