প্রতিবন্ধী সুরক্ষা আইন’২০১৩ সরকার কার্যকর করছে না-এ্যাডঃ তৈমূর আলম খন্দকার

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ জাতিসংঘ ও বিশ্ব বধির সংস্থার স্বীকৃত মতে ২৩ সেপ্টেম্বর “আন্তর্জাতিক ইশারা ভাষা দিবস-২০১৯” এবং ২৪ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত “আন্তর্জাতিক বধির সপ্তাহ-২০১৯” বিশ্বের সকল দেশের মতো বাংলাদেশেও কেন্দ্রীয় ভাবে ও দেশব্যাপী স্থানীয় জেলা পর্যায়ে একযোগে উদযাপিত হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য ঃ “ঝরমহ খধহমঁধমব জরমযঃং ভড়ৎ অষষ!” অর্থাৎ “ইশারা ভাষা সকলের অধিকার”। উল্লেখিত দিবস ও বধির সপ্তাহ উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় বধির সংস্থা ২৩ সেপ্টেম্বর এক বর্নাঢ্য র্যালী, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও সপ্তাহ ব্যাপি চিত্রাংকন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান এবং বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। এছাড়াও অত্র সংস্থা সহ সংযুক্ত বিভিন্ন জেলার বধির সংঘ, স্কুল এবং বিভিন্ন এনজিও ও সামাজিক সংগঠন সমূহের সমন্বয়ে দেশ ব্যাপী আন্তর্জাতিক ইশারা ভাষা দিবস ও আন্তর্জাতিক বধির সপ্তাহ-২০১৯ উদযাপিত হয়েছে এবং হচ্ছে।

উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় বধির সংস্থার সভাপতি এ্যাড: তৈমূর আলম খন্দকার। সভাপতি মহোদয় তার বক্তব্যে বলেন যে, বাংলাদেশ জাতীয় বধির সংস্থা এদেশে সর্বপ্রথম শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য ১৯৯২ সালে বাংলা ইশারা ভাষা অভিধান প্রণয়ন ও প্রকাশ করে। দেশের সর্বস্তরে ইশারা ভাষার প্রসার ও প্রচারের স্বার্থে ইশারা ভাষা প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য সংস্থার পক্ষ থেকে একটি জাতীয় ইশারা ভাষা ইনষ্টিটিউট স্থাপন করার উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে।

এখানে উল্লেখ্য যে, ঢাকা বধির হাই স্কুল ৬২, বিজয়নগর ঢাকা বাংলাদেশের শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের একমাত্র উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বধিরদের উচ্চ শিক্ষার পথ সুগম করার লক্ষ্যে এই হাই স্কুলকে কলেজে উন্নীত করার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। বিগত ০৬-০৮-২০০৫ইং তারিখে ৩৯৫৫নং লীজ দলিল মূলে ঢাকা বধির স্কুলের নামে লালবাগের জায়গা রেজিষ্ট্রী ভুক্ত হয়। উক্ত দীর্ঘ মেয়াদী বন্দোবস্ত দলিল রেজিষ্ট্রীর পর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের মাধ্যমে আমাদের দখল বুঝিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, পরের দিনই উক্ত জায়গাটি জনাব মোঃ হাজী সেলিম, এম.পি সাহেব পুন:জবর দখল করেন। তার দখল থেকে স্কুলের জায়গাটি দখলমুক্ত করে উক্ত জায়গায় বাংলাদেশ জাতীয় বধির সংস্থা নিজস্ব জায়গা হতে স্কুলটি স্থানান্তরে সহযোগীতার জন্য মাননীয় প্রধান মন্ত্রী এবং স্থানীয় সাংসদ এবং জাতীয় বধির সংস্থার আজীবন সদস্য জনাব রাশেদ খান মেনন মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এছাড়াও তিনি আরো বলেন যে- প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন-২০১৩ এর বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশ ও জাতীয় উন্নয়নের স্বার্থে সর্বস্তরের জনগনের জন্য বাংলা ইশারা ভাষা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা অতিব জরুরী। এজন্য সর্বস্তরের সর্বাত্মক সহযোগিতা তিনি কামনা করেন। উক্ত র্যালী, আলোচনা সভা অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে সংস্থার সহ-সভাপতিবৃন্দ ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফজলে এলাহী খান সহ অন্যান্য কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।

1