সড়ক ও ফুটপাত দখল করে চুনা পাথরের ব্যবসা

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মেসার্স মেঘনা লাইম’স নামে একটি চুন তৈরির কারখানা সড়ক ও জনপথের সরকারী জায়গা ও ফুটপাত দখল করে প্রায় এক বছর যাবত ব্যাবসা করে আসছে এক প্রভাবশালী। ফলে ঐ রাস্তা দিয়ে রিক্সা বা সাধারণ পথচারীরা চলালচল করতে পারছে না। এতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। সড়কের জায়গা দখলের পাশাপাশি বিদ্যুত সঞ্চালনের একটি খুঁটির চারিদিকে পাথর স্তুপাকারে রাখায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কায় রয়েছে আশেপাশের লোকজন। তবে, প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেও কোন ফল পাচ্ছেনা এলাকাবাসী। দখলকৃত সওজে’র জায়গা দ্রুত দখলমুক্ত করা হবে বলে জাানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগ সওজ’র নির্বাহী প্রকৌশলী। অন্যদিকে বিদ্যুতের খুঁটি থেকে নির্ধারীত সময়ের মধ্যে পাথর অপসারণ না করা হলে মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুতের নির্বাহী প্রকৌশলী।
ডেমরা-নারায়ণগঞ্জ-আদমজী রোডের সিদ্ধিরগঞ্জের রংধনু সিমেনা হল সংলগ্ন চিটাগাংরোডস্থ আটি এলাকায় মেসার্স মেঘনা লাইম’স নামে চুনা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটির মালিক আব্দুল হাই মেম্বার। মেঘনা লাইমসের প্রকৃত মালিকের কাছ থেকে চুন তৈরীর কারখানাটি ভাড়া নিয়ে চুন উৎপাদন করছেন তিনি। তবে তিনি কারখানার নির্ধারীত জায়গা ছাড়াও ডেমরা-নারায়ণগঞ্জ-আদমজী সড়কের রিক্সা চলাচলের লেন ও ফুটপাত দখল করে চুন উৎপাদনের পাথরগুলো সেখানে স্তুপাকারে জমিয়ে রেখেছেন। রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে রাখায় ঐ পথ দিয়ে কোন রিক্সা এমনকি সাধারণ পথচারীরা হেঁটে যেতে পারে না। বাধ্য হয়ে রিক্সা বা পথচারীরা প্রধান সড়ক দিয়ে হাঁটছে। তাছাড়া পাহাড়সম স্তুপকৃত পাথর পড়ে গাড়ী কিংবা সাধারণ মানুষের হতাহতের আংশকাও রয়েছে।
এদিকে একই জায়গায় সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুত ষ্টেশন টু ডেমরা ৩৩ কেভি লাইনের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি রয়েছে। যার চতুর্পাশে কয়েক টন পাথর স্তুপাকারে জমিয়ে রাখেন কারখানার ভাড়া মালিক আব্দুল হাই মেম্বার। টিলার মত উুঁচু স্তুপ আকারে চুনা পাথরগুলো রাখায় বিদ্যুতের খুঁটিটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে ভেঙ্গে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে আতঙ্কীত এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা ঐ পাথরগুলো দ্রুত অপসারণের ব্যবস্থা করে সড়কের জায়গাকে দখলমুক্ত করব।
সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলস্থ বিদ্যুত কার্য্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মেঘনা লাইম’স নামে ঐ চুনা কারখানার মালিককে বিদ্যুতের খুঁটির পাশ থেকে পাথর সরিয়ে নিতে প্রথমে মৌখিকভাবে ও পরে লিখিত চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনদিনের মধ্যে পাথরগুলো সরিয়ে না নিলে তার বিরুদ্ধে আমরা মামলা করবো। এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায়ও জানানো হয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, বিগত বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড় দখল করে এককভাবে সিদ্ধিরগঞ্জে তিনি পাথর ও বালু ব্যবসা করেছেন। সেই সময় তিনি শীতলক্ষ্যায় আর কাউকে বালুর ব্যবসা করতে দেননি। আব্দুল হাই সে সময় কোটি কোটি টাকা আয় করেছিলেন। বিএনপি ক্ষমতা থেকে যাওয়ার পর কয়েকমাস তিনি পালিয়ে ছিলেন। জরুরী অবস্থায় ফখরুদ্দিন সরকারের সময় শীতলক্ষ্যা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে সে সময় আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতারও হয়েছিলেন তিনি। পরে জামিনে এসে তিনি আবারও পালিয়ে যান।
আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার কয়েকমাস পর নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুনের অন্যতম আসামী নুর হোসেনকে ম্যানেজ করে এলাকায় ফিরে এসে তিনি নুর হোসেনের প্রভাবে সিদ্ধিরগঞ্জে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, নুর হোসেনকে কমিশন দিয়ে ব্যাবসা করে রাতারাতি অনেক টাকার মালিক বনে যান তিন। সেভেন মার্ডারের কারণে নুর হোসেন এলাকা ছেড়ে গেলে আব্দুল হাই মেম্বারও এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। কয়েক মাস পালিয়ে থাকার পর এলাকার এক শিল্পপতিকে ম্যানেজ করে এলাকায় ফিরে আসে। সেই শিল্পপতির প্রভাবেই তিনি বর্তমানে সরকারী জায়গা ও ফুটপাত দখল করে চুন তৈরীর কারখানা পরিচালনা করছেন।
তবে চুন উৎপাদনকারী প্রতিষ্টান মেসার্স মেঘনা লাইমসের মালিক আব্দুল হাই মেম্বারের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সাথে কোন কথা বলতে রাজী হননি।

1