তিশার বান্ধবী এখন দেশসেরা সুন্দরী

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: পড়েন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। মাত্র সাড়ে ৩ বছর বয়সে নাচের প্রতি ঝুঁকে পড়েছিলেন। সেই নাচ তাঁকে যে সম্পর্কে জড়িয়েছিল তা আজও বিদ্দমান। এবং সেই সম্পর্কই আজ তাঁর মাথায় দেশসেরা সুন্দরীর মুকুট পরিয়ে দিয়েছে।

ইতোমধ্যে মিসওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের ২০১৯ সালের শীর্ষ সুন্দরীর নাম জেনে গেছেন। রাফাহ নানজীবা তোরসা। তোরসা মানে পৃথিবী। আর এই বিশ্বব্রক্ষ্মাণ্ডে নিজের নাম ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই হয়তো তোরসার জন্ম হয়েছে। অন্তত সে আত্মবিশ্বাস তোরসার রয়েছে বলেই জানালেন।

‘গত দুইবার বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতা হয়েছে। এরপরই আমি বিষয়টিতে মনোযোগ দেই। আমি বিশ্লেষণ করে দেখলাম আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সৌন্দর্যের যে মানদণ্ড, যে গুণাবলী বিবেচনা করা হয় সেটা আমার মধ্যে কেন থাকবে না, কেনইবা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পদাচারণা করা মেয়েদের সঙ্গে আমি পাল্লা দিতে পারবো না? এরপর মনে হলো এবার আমি প্রতিযোগিতায় অংশ নেবো।’ বলছিলেন তোরসা। উত্তরের মাঝেই তাকে থামিয়ে দিয়ে বললাম- অংশ নেওয়ার সময় মনে কি হয়েছিল যে আপনি অন্তত ১০ জনের মধ্যে থাকবেন?

কালের কণ্ঠে তোরসা

প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী মেয়ে তোরসা। প্রশ্নের উত্তর শুনে যে শব্দে হাসলেন, যে ঝংকার কানে ভেসে এল, সে শুধু আত্মবিশ্বাসী মানুষের। বললেন, ‘আমি খুব পজেটিভ। আমি হেরে যাবো এটা ভাবি না। টপ টেন আর টপ ফাইভ ভাবিনি, ভেবেছি আমার মধ্যে সোউন্দর্য বিদ্যমান তা প্রকাশ করবো। সৌন্দর্য বলতে তো আর শুধু রূপ নয়, মেধা মনন আর ভেতরের আলো নিয়েই সৌন্দর্য প্রকাশের যে মঞ্চ সেখানে নিজেকে উদ্ভাসিত করবো। হয়তো সেটা পেরেছি।’

মিসওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ হওয়ায় শুভেচ্ছায় ভেসেছেন। কিন্তু এই মুকুট মাথায় ওঠার আগেই তোরসাকে পর্দা দেখা গিয়েছিল। তৌকির আহমেদের হালদা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন। খুব বড় কোনো চরিত্রে নয়, মাত্র তিনটা সিকোয়েন্সে কাজ করেছেন। পর্দার অভিজ্ঞতা হলো এই। যেখানে নুসরাত ইমরোজ তিশার পাড়ার বান্ধবী ছিলেন তোরসা। যদিও ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির বিভিন্ন মঞ্চে মূকাভিনয় করেছেন, নাটক করেছেন, আবৃত্তি করেছেন। কিন্তু পর্দায় সেই হালদার চরিত্রটিই।

তোরসার মাথায় মুকুট পরিয়ে দিচ্ছেন ঐশী 

যদিও তোরসা বলছেন ঢাকা থেকে বিভিন্ন কাজের বিশেষ করে মিউজিক ভিডিওর প্রস্তাব পেতেন কিন্তু সেসবের সঙ্গে ব্যাটে বলে মেলেনি। যার কারণে আলোর আড়ালেই ছিলেন। কিন্তু এখন যখন সব আলো একসাথে মুখের ওপর পড়ল, চারিদিক আলোকিত হয়ে উঠল; তখন কী করতে যাচ্ছেন এই নতুন সুন্দরী?

তোরসা বলেন, ফিল্মে কাজ করার ইচ্ছে রয়েছে। তবে তথাকথিত বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র নয়, সেই চলচ্চিত্রতেই কাজ করবো যার গল্পের গভীরতা থাকবে। প্রভাব থাকবে দীর্ঘমেয়াদী, এলাম কাজ করলাম, চলে গেলাম- এটা করবো না। চলচ্চিত্র নিয়ে আমার স্বপ্ন রয়েছে। নিজেকে অভিনয়শিল্পী হিসেবে পরিচিত করতে আমি সেই সকল চলচ্চিত্রেই কাজ করবো যার সমালোচনা মূল্য থাকবে। নিজের পরিচয়ের গণ্ডি পরিবৃদ্ধির চেয়ে নিজের ভালো কাজের বিষয় নিয়েই আমি চিন্তিত।

চিত্রকলা,আবৃত্তিতেও অনবদ্য। আর এসব নিয়েই গিয়েছেন দেশের বাইরে। ২০১০ সালের ‘জাতীয় শিশু প্রতিযোগিতা’র চ্যাম্পিয়ন এবং ভারতনাট্যমে গোল্ড মেডেল অর্জন করেন। একই বছরে এনটিভি’র আয়োজনে ‘মার্কস অলরাউন্ডার’ প্রতিযোগিতায় প্রথম রানার আপ হয়েছিলেন তোরসা। সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে জড়িয়েছেন লিও ক্লাবের সঙ্গে। লিও ক্লাব অব চিটাগং ডাইনামিক সিটির সর্বকনিষ্ঠ প্রেসিডেন্ট তিনি।

1