নারায়নগঞ্জে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের মানববন্ধন

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ছাত্র রাজনীতি নয় সন্ত্রাস বন্ধের দাবিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট আজ সোমবার সকাল ১১ টায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সামনে মানববন্ধন করে। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সুলতানা আক্তার। বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসাইন, নারায়ণগঞ্জ জেলার সহ-সভাপতি জেসমিন আক্তার, অর্থ সম্পাদক মুন্নি আক্তার, নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের সভাপতি সানজিদা শান্ত, নারায়ণগঞ্জ কলেজের আহ্বায়ক রায়হান শরীফ ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয়ের ট্রিপল ই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে শেরে বাংলা হলে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা ফেসবুকে সরকারের সাথে ভিন্ন মত প্রকাশ করায় পিটিয়ে হত্যা করেছে। প্রত্যেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবাসিক হলগুলো সরকারি দলের ছাত্র সংগঠনের অভয়ারণ্যে পরিনত হয়েছে। গণরুম, গেস্টরুমের নির্যাতনের ছবি বহুবার সংবাদে এসেছে। হলগুলোর এই টর্চার সেলের কারনে বহু শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন বিপন্ন হয়েছে। এবার বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরারের জীবন প্রদীপ নিভে গেলো। আবরারকে নিয়ে গড়ে উঠা ছাত্রদের আন্দোলনের ফলে গত ১১ অক্টোবর বিকেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয় (বুয়েট) প্রশাসনের সাথে এক সভায় বসে আন্দোলনরত শির্ক্ষাথীরা। সভায় বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। আমরা মনে করি এটি একটি অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত এবং সকল ধরনে বিরোধী মত এবং তার ভিত্তিতে সংগঠিত শক্তিকে দমনের একটি হাতিয়ারমাত্র। এটি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে একটি প্রতারণাও বটে। কার্যত বুয়েট চলে ’৬১ এর অধ্যাদেশ অনুযায়ী, যে অধ্যাদেশে ইতিমধ্যেই ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ , দ্বিতীয়ত বুয়েটে গত এক দশকে ছাত্র রাজনীতি ছিলই না। শুধু ছিলো রাজনীতির নামে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড আর নির্য়াতন। বিরোধী কোন ছাত্র সংগঠন ক্যাম্পাসে কাজ করতে গেলে নির্মমভাবে তাদের দমন করা হয়েছে। আর এই ভাবে তো বিশ^বিদ্যালয় চলতে পারে না।
নেতৃবৃন্দরা আরো বলেন শাসকরা বিশ^বিদ্যালয়গুলোকে ভয় পায়, তারা জানে এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে প্রতিরোধের শক্তি আছে তা যেকোন মুহূর্তে ক্ষমতার মসনদকে কাঁপিয়ে দিতে পারে। তাইতো তারা বিশ^বিদ্যালয়গুলোকে নিয়ন্ত্রনে রাখতে চায়। আর এ নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা সৃষ্টি করে টর্চার সেল। এর মাধ্যমে তারা একধরনের মৃত মেরুদন্ডহীন মানুষ তৈরি করতে চায়। সরকার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রসাশনের ছত্র ছায়ায় ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী, লাঠিয়াল বাহিনীতে পরিনত হয়েছে। এদের কাজ হলো সরকারের গণবিরোধী দুঃশাসন এবং ক্যাম্পাস গুলোতে প্রশাসনের ছাত্র ও শিক্ষা বিরোধী কর্মকান্ডকে সহায়তা করা। সাধারণ ছাত্র ছাত্রীদের শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে দমন করার প্রয়োজনে ক্যাম্পাস ও হলগুলোতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা। তাই আজ ছাত্র রাজনীতি বন্ধ নয়, বন্ধ করতে হবে সন্ত্রাসী অপরাজনীতি। তাই আজ ছাত্রলীগ নামধারী সস্ত্রাসীদের গণবিরোধী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ছাত্র সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নেতারা অবিলম্বে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

1