বাবা আমাকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার সপ্ন দেখাতেন – জ্যোতি

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম:  রূপগঞ্জে বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা অংশগ্রহণ করল শিশু জ্যেতি আক্তার (১১) সোমবার উপজেলার হাটাব মধ্যেপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে ।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, এ বছরের শুরুর দিকে হঠাৎ হাটাব মধ্যেপাড়া এলাকার হারেজ মিয়ার ছেলে জামান মিয়ার (৪১) শ্বাসনালীতে ছিদ্র ধরা পড়ে। গত কয়েকদিন যাবত তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। রবিবার রাতে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জামান। সোমবার সকাল ১১ টায় তার হাটাব মধ্যেপাড়া এলাকায় তার জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।
কিন্তু শেষ দেখা হয়ে উঠেনি আদরের একমাত্র মেয়ে জ্যোতির সাথে। হাটাব দক্ষিন বাড়ৈ শিশু নিকেতন ব্র্যাক স্কুল থেকে এবার প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে সে। আজ ছিল তার বাংলা পরীক্ষা।
বাবার মৃত্যুতে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে পরিবার পরিজনের মাঝে দোটানা দেখা দিলেও বাবা স্বপ্নপূরণ করতে বাবাকে শেষ বিদায় না দিয়েই পরীক্ষা কেন্দ্রে ছুটে আসে জ্যোতি। পরীক্ষা শেষে পরীক্ষা কেন্দ্র কাঞ্চন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমনটাই জানালেন সদ্যপিতা হারা জ্যোতি।
জ্যোতি জানায়, তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবচেয়ে আদরের ছিলো জ্যোতি। বাবা তাকে নিয়ে উচ্চশিক্ষিত হয়ে ভালো মানুষের মত মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। বলতেন, ‘আমার ঘরে বেহেশত এসেছে। মা তোমাকে পড়ালেখা করে অনেক বড় হতে হবে। জীবনে যত বাঁধাই আসুক তোমাকে পড়াশুনা চালিয়ে যেতে হবে।’
আমিও বাবাকে কথা দিয়েছিলাম। বাবা চলে যাওয়া সংবাদ পাওয়ার পর আমার এ কথাগুলোই মনে পড়ছিলো। এখন যদি এ পরীক্ষা না দিলে তার বাবার আত্মা হয়তো কষ্ট পেতো।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলেন, শিশুটির বাবা এমন সময় মারা গেছেন সেটা খুবই কষ্টদায়ক। তারপরও শিশুটি বাবা হারানোর কষ্ট নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। আমরা তার পরীক্ষার সময় যতোটা সহযোগিতা দরকার করেছি। হল সুপার পুরো সময় শিশুটির পাশে দাড়িয়ে থেকে তাকে শান্তনা দিয়েছেন।

1