নারী পাচারকারী চক্রের ৬ সদস্য’কে গ্রেফতার

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ  র‌্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সমাজের বিভিন্ন অপরাধ এর উৎস উদ্ঘাটন, অপরাধীদের গ্রেফতারসহ আইন শৃংখলার সামগ্রিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। র‌্যাব শুরু থেকে যে কোন ধরনের অপহরণ ও জিম্মি প্রতিরোধ এবং অপহরণ চক্রকে সনাক্ত, অপহৃত ভিকটিম উদ্ধারসহ অপহরণকারী ও মানব পাচারকারীদের গ্রেফতারে সার্বক্ষনিকভাবে অভিযান পরিচালনা করে থাকে।

এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব ১১ এর এক বিশেষ অভিযানে গত ২৩ নভে¤¦র ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে দিবাগত রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন তারাবো মোড়ের শাহ চন্দপুরী রেস্টুরেন্টে ৪জন তরুণীকে পাচারের উদ্দেশ্যে একত্রিত করা অবস্থায় পাচারকারী চক্রের সদস্য ১। মোঃ অনিক হোসেন (তরুণী সংগ্রহকারী এজেন্ট), বয়স-৩১, থানা-ধুপাউড়া, জেলা-ময়মনসিংহ, ২। মোঃ আক্তার হোসেন (তরুণী সংগ্রহকারী এজেন্ট), বয়স-৪০, থানা-সিদ্ধিরগঞ্জ, জেলা-নারায়ণগঞ্জ, ৩। মোঃ আফতাউল ইসলাম @ পারভেজ (পাসপোর্ট প্রস্তুতকারী দালাল) বয়স-৩৭, থানা-কচুয়া, জেলা-চাঁদপুর, ৪। মোঃ মনির হোসেন @ সোহাগ (দুবায়ের ড্যান্স ক্লাবের মালিক) বয়স-৩০, থানা-চাটখিল, জেলা-নোয়াখালী এবং ৫। আঃ হান্নান (দুবায়ের ড্যান্স ক্লাবের মালিক) বয়স-৫২, থানা-চান্দিনা, জেলা-কুমিল্লা’দেরকে গ্রেফতার করা হয় এবং গ্রেফতারকৃতদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ডিএমপি, খিলগাঁওয়ের গোড়ান এলাকা অভিযান পরিচালনা করে ৬। মোঃ আকাশ (ট্রাভেল এজেন্সির মালিক), বয়স-২৯, থানা- সদর ও জেলা- মাদারীপুর’কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীদের দখল হতে ৭০ টি পাসপোর্ট, নগদ ১,৫৮,০০০/- টাকা, ২০০ টি পাসপোর্টের ফটোকপি, ৫০ টি বিমান টিকেট, ৫০ টি ট্যুরিস্ট ভিসার ফটোকপি, ০১টি সিপিইউ, ০১টি মনিটর ও ০১টি অত্যাধুনিক বিলাসবহুল মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়। এসময় তাদের হেফাজত হতে ০৪ জন ভিকটিম তরুণী’কে উদ্ধার করা হয়।

 গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃত আসামীরা একটি সংঘবদ্ধ আর্ন্তজাতিক নারী পাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী সুন্দরী তরুনীদের উচ্চ বেতনে বিদেশে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করে থাকে। এই পাচারকারী সিন্ডিকেটের সহিত বিপুল সংখ্যক এজেন্ট, পাসপোর্টের দালাল, ড্যা›স বারের মালিক, ট্র্যাভেল এজে›সী ও অসাধু ব্যক্তি যুক্ত রয়েছে। এই নারী পাচারকারী সিন্ডিকেটের এজেন্টরা নিমণ্টবিত্ত পরিবারের, পোষাক শিল্পের, ব্রোকেন ফ্যামিলির সুন্দরী তরুণীদের প্রাথমিকভাবে টার্গেট করে থাকে। টার্গেট করার পর প্রথমে তরুণীদের ছবি বিদেশে অবস্থিত ড্যা›স বারের মালিককে পাঠানো হয়। ছবি দেখে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর ড্যা›স বারের মালিক অথবা তার প্রেরিত প্রতিনিধি সরাসরি উক্ত তরুণীদেরকে নির্বাচনের উদ্দেশ্যে ঢাকা অথবা আশে পাশের কোন রেস্টুরেন্ট, হোটেল অথবা লং ড্রাইভের নামে অত্যাধুনিক বিলাসবহুল মাইক্রোবাসে সাক্ষাৎ করে থাকে। চুড়ান্তভাবে নির্বাচিত তরুণীদের পাসপোর্ট উক্ত নারী পাচারকারী সিন্ডিকেট তাদের নিজস্ব পাসপোর্ট দালালের মাধ্যমে প্রস্তুত করে থাকে। ট্রাভেল এজে›সীর মালিকের মাধ্যমে নথিপত্র ম্যানেজ করে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে এই সকল তরুণীকে মধ্যপাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করে থাকে।

 গ্রেফতারকৃত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে আরোও জানা যায় এই সকল তরুণীরা বিদেশে পৌঁছা মাত্র এয়ারপোর্ট থেকে উক্ত সিন্ডিকেটের সদস্যরা রিসিভ করে হোটেলে নিয়ে গৃহবন্দি করে রাখত। বিদেশে অবস্থানকালীন সময়ে এই সকল তরুণীকে কোন অবস্থাতেই নিজের ইচ্ছায় হোটেল তথা ড্যা›স বারের বাইরে যেতে দেওয়া হয় না। প্রাথমিক অবস্থায় তরুণীরা এসকল আসামাজিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হতে রাজি না হলে বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য জোরপূর্বক প্রয়োগ করা হয়ে থাকত। এভাবে দিনের পর দিন উক্ত তরুণীদের উপর পৈশ্বাচিক নির্যাতন চলতে থাকে। কোন খদ্দরের কোন নির্দিষ্ট তরুণীকে পছন্দ হলে উক্ত ড্যা›স বারের মালিকের নিকট হতে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে কয়েক দিনের জন্য ভাড়া নিয়ে থাকে। এই মানব পাচার চক্রের উপর দীর্ঘদিন যাবৎ র‌্যাব-১১ গোয়েন্দা নজরদারী চালিয়ে আসছিল। যার প্রেক্ষিতে গত ২৩ নভেম্বর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে দিবাগত রাতে র‌্যাব-১১ অভিযান চালিয়ে উক্ত মানব পাচার চক্রের ৬ জন’কে গ্রেফতার করে। এই সমস্ত মানব পাচারকারী চক্রের মূলোৎপাটন করার লক্ষ্যে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

1