সরকারের নগ্ন হস্তক্ষেপে খালেদা জিয়ার জামিন হচ্ছে না: মির্জা ফখরুল

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিচার বিভাগের ওপর সরকারের নগ্ন হস্তক্ষেপের কারণেই বেগম খালেদা জিয়াকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। তিনি বলেল, রাজনীতি থেকে দূরে রাখতেই আওয়ামী লীগ সরকার তাকে কারাগারে বন্দি করে রেখেছে। আদালত আইনজীবীদের মৌখিক আবেদন গ্রহণ না করায় সমগ্র জাতি আজ বিক্ষুব্ধ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আজ বেলা পৌনে ১২ টায় পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ  সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন না হওয়ায় জাতি আজ বিক্ষুব্ধ বলে মন্তব্য করেছেন দলটির। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বেগম খালেদা জিয়ার আপিল শুনানি সাত দিন পিছিয়ে দেয়া এবং তার আইনজীবীদের মৌখিক আবেদন গ্রহণ না করায় সমগ্র জাতি শুধু হতাশই নয়, তারা বিক্ষুব্ধ।

ফখরুল বলেন, অত্যন্ত বিস্ময় ও উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার শুরু থেকেই সাধারণ মানুষ যে সুযোগ-সুবিধা পান, তাকে সে সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়নি। এ ধরনের মামলায় সাধারণত ৭ দিনের মধ্যে জামিন হয়। কিন্তু তার ক্ষেত্রে এটা হয়নি। খালেদা জিয়ার জামিনে পদে পদে বাধা দেয়া হচ্ছে। তার জামিন না দেয়াটা প্রচলিত রীতিনীতির বিরুদ্ধেই শুধু নয়, অমানবিকও বটে।

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য প্রতিবেদন উপস্থাপন না করার বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ খালেদার স্বাস্থ্য প্রতিবেদন উপস্থাপনে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত অবমাননা করেছেন বলে আমরা মনে করি।

খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গে গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্যের বিষয়ে ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সরাসরি আদালতের ওপর হস্তক্ষেপের শামিল। প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকার চান না দেশনেত্রীর (খালেদা জিয়া) জামিন হোক। তিনি খালেদা জিয়াকে ‘সন্ত্রাসের গডমাদার’ বলেছেন। বলেছেন, তিনি রাজার হালে আছেন। এর মাধ্যমে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষকে ভয় দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি কাকতালীয় কি না জানিনা। একদিকে সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন করা হয়েছে, অপরদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য। তার এই বক্তব্য ও এই ঘটনায় আদালতের ওপর থ্রেট (হুমকি) করা হয়েছে বলে মনে করি। এটা ফ্যাসিবাদের একটি রূপ।

ফখরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার পরবর্তী চিকিৎসা না হলে তার মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। তার চিকিৎসার ক্রমাবনতি ও চিকিৎসা না হওয়ার দায়-দায়িত্ব এই সরকার প্রধানকে বহন করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড তার সর্বশেষ স্বাস্থ্যগত অবস্থা জানাতে রিপোর্ট (প্রতিবেদন) জমা দিতে পারেনি। রিপোর্ট জমা দিতে না পারায় রাষ্ট্রপক্ষের সময়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে আগামী ১১ই ডিসেম্বরের রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। এর পরদিন ১২ই ডিসেম্বর জামিন শুনানি হবে বলেও জানিয়েছেন আদালত।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার জামিন প্রশ্নে আপিল বিভাগের আদেশ দেয়ার কথা ছিলো আজ। মামলাটি আপিল বিভাগের আজকের কার্যতালিকায় ৭ নম্বরে শুনানির জন্য রাখা হয়। বেগম জিয়ার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্ট ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

1