আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ও নির্দেশে ত্বকীকে হত্যা করে –রাব্বি

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহবায়ক ও নিহত ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বি বলেছেন, ২০১৩ সালের ৬মার্চ ত্বকীকে হত্যা করে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেয়া হয়। এর দুইদিন পর ৮মার্চ শীতলক্ষ্যার পাড়ে ত্বকীর লাশ পাওয়া যায়। এ হত্যাকাণ্ডে ওই বছরই ২৯ জুলাই ইউসুফ হোসেন লিটন ও ১২ নভেম্বর সুলতান শওকত ভ্রমর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

রোববার সন্ধ্যায় নগরের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে  নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার ৮১ মাস উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আলোক প্রজ্বালন অনুষ্ঠানে তিনি এ সকল কথা বলেন।

রাব্বি আরও বলেন, সুলতান শওকত ভ্রমর জানায়, শামীম ওসমানের ভাতিজা, নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ও নির্দেশে তারই টর্চারসেলে তারা ত্বকীকে হত্যা করে আজমেরীর গাড়িতে করেই লাশ নিয়ে শীতলক্ষ্য নদীতে ফেলে দেয়। হত্যাকাণ্ডের এক বছরের মাথায় ৫মার্চ ২০১৪ তদন্তকারী সংস্থা র্যাব সংবাদ সম্মেলন করে জানায় যে, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবার তাদেরি টর্চারসেলে ১১জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছে। তারা হত্যার কারণ, স্থান, সময়, কেন, কিভাবে, কেকে জড়িত সমস্ত উল্লেখ করে অভিযোগপত্র তৈরীকরে সংবাদ সম্মেলনে তা সরবরাহ করেন। সে সংবাদ সম্মেলনে তারা সংবাদিকদের একটি অভিযোগপত্র সরবরাহ করে বলেন, অচিরেই তা আদালতে পেশ করা হবে। কিন্তু সে সংবাদ সম্মেলনের তিন মাস পর ৩জুন সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওসমান পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা দেয়ার পর তদন্তের সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। র‌্যাবের তৈরীকরা অভিযোগপত্রটি আজো পর্যন্ত আদালতে পেশ করা হয় নাই।  সে সময় থেকে প্রতিমাসের ৮ তারিখ ত্বকী হত্যার বিচারের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট নারায়ণগঞ্জ ও দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচারের দাবিতে কর্মসূচি পালন করে আসছে।

তিনি আরো বলেন, ত্বকীর ঘাতকরা নারায়ণগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধ ফেরি করে বিক্রি করে এবং তাদের ধারণা মুক্তিযুদ্ধের ঠিকাদার তারা। অথচ স্বাধীনতা যুদ্ধে রাজাকার আলবদর যারা ছিলো তারা সবাই তাদের চারপাশে ঘুরঘুর করে। তারা এই রাজাকারের উত্তরসূরীদের ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানে বসায়, আওয়ামীলীগের বিভিন্ন সংগঠনে তারা তাদের সহযোগী করে, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের তারা সহযোগী করে কিন্তু তারাই আবার মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে। এবং অন্যদেরকে তারা রাজাকার আলবদর বলতে চায়।

নারায়ণগঞ্জ সাংষ্কিৃতিক জোটের সভাপতি ভবানী শংকর রায়ের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাহমুদের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক, নিহত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সংগঠনের সদস্য সচিব হালিম আজাদ, ন্যাপ জেলা কমিটির সম্পাদক আওলাদ হোসেন, খেলাঘর আসর জেলা কমিটির সভাপতি রথীন চক্রবর্তী, জেলা সিপিবি সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, ওয়াকার্স পার্টির জেলার সভাপতি হাফিজুর রহমান, সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি জিয়াউল ইসলাম, সমমনার সভাপতি দুলাল সাহা, গণসংহতি আন্দোলনের জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজন প্রমুখ।

1