চার কন্যার সংবাদ সম্মেলন,ন্যায় ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি

0

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: আপন ভাইয়ের, ম্যানেজারের মামলা, নিজ মায়ের করা মামলায় নির্যাতিত হয়ে রেহাই পায়নি চার বোন। শুধুই তারাই নয় মামলায় কারাভোগ করতে হয়েছে স্বামী সন্তানদের। এরপরেও হয়রানি থেকে রেহাই মিলেনি তাদের,, মামলা আর জেলে যাওয়ার প্রভাবে অনেকটাই লজ্জিত হয়ে পড়েছে। ছোট ছোট ছেলেমেয়ের উপর, লজ্জায় আর ভয়ে স্কুলে যাওয়াই ছেড়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী ওই চার-পরিবারের সদস্যরা। এ থেকে মুক্তি পেতে ন্যায় ও সুষ্ঠু বিচার ও সকল মামলা সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে মামলার নিষ্পত্তিসহ সঠিক ও ন্যায়সংগত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা। রবিবার বেলা ১২ টায় নারায়নগন্জ প্রেসক্লাবের কনফারেন্স রুমে এসব কথা বলেন। নারায়ণগঞ্জ নগরীর সুনামধন্য সুতা ব্যবসায়ী মরহুম আব্দুর রউফের চার মেয়ের কপালেই জুটেছে এই করুণ পরণতি।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী চারবোনের পক্ষে লিখিত অভিযোগ পড়ে শোনান দ্বিতীয় বোনের স্বামী আল মামুন মাকসুদ। এসময় তিনি বলেন, চাষাড়ার লুৎফা টাওয়ারের মালিক মরহুম আব্দুল রউফের এক ছেলে লুৎফর রহমান সুমন (৪২) এবং চার কন্যা আসমা আক্তার সুইটি (৩৬), মাহমুদা মাকসুদ সোনিয়া (৩৪), তানিয়া রউফ অথী (২৮) এবং সাদিয়া রহমান (২৭)। আব্দুল রউফ জীবদ্দশায় বিশাল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি রেখে গেছেন। তিনি জীবিত থাকা অবস্থায় কিছু সম্পত্তি তার স্ত্রী লুৎফা বেগম (৫৯) ও সন্তানদের বিলি বন্টন করেন।
আব্দুল রউফ শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকাবস্থায় তার ছেলে সুকৌশলে বাবার সমস্ত সম্পত্তি আয় ও উপার্জন ও জমির দলিলপত্রসহ ব্যাংকে গচ্ছিত সকল অর্থ আয়ত্তে নেয়ার পায়তেরা করতে থাকে। ২০১৮ সালের ২১ জানুয়ারি আব্দুল রউফ মারা যান। এর কয়েকমাস পর ভাই ও মায়ের কাছে বিশাল সম্পত্তি নিয়ে আলাপ আলোচনা করতে গেলে চারমেয়েকে লাঞ্ছিত করে। এবং এবিষয়য়ে নারায়ণগঞ্জ সদর ও ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মহলের সহযোগিতায় দফায় দফায় জিডি করে। পারিবারিক সম্পত্তির বিরোধের বিষয়টি দুই থানাতেই অবহিত আছে। কিন্তু ভাই লুৎফর রহমান সুমন পেশী শক্তি ও অর্থ বলে চারবোনের পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছে। এরমধ্যে মা ও ভাই সৈয়দপুরের একটি জায়গা চারবোনকে না জানিয়ে বিক্রি করে দেয়। একথা জানতে পেরে তারা বাবার সম্পত্তির ন্যায্য অংশ দাবি করেন। এরপরেই মা লুৎফা বেগম ও ভাই লুৎফর রহমান সুমন; চার বোন ও তাদের স্বামীর উপর ক্ষিপ্ত হন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে লুৎফা টাওয়ারের ম্যানেজারের মাধ্যমে একটি চাঁদাবাজি, দ্বিতীয় দফায় ৫ মে ভাই লুৎফর রহমান চাঁদাবাজির এবং ৮ মে মা লুৎফা বেগম বাদী হয়ে ছিনতাইয়ের তিনটি মামলা দায়ের করেন।
একের পর এক মামলায় মেয়ে আসমা আক্তার সুইটি, তাঁর স্বামী ব্যবসায়ী আজিজুল হক শুভ, তাদের তিন বছরের কন্যা আরিয়ান, দ্বিতীয় মেয়ে মাহমুদা মাকসুদ সোনিয়া, তাঁর চাকুরীজীবী স্বামী আল মামুন মাকসুদ, তৃতীয় মেয়ে তানিয়া রউফ অথী, তার স্বামী মোবাইল ব্যবসায়ী ই¯্রাফিল খান মানিক, চতুর্থ মেয়ে সাদিয়া রহমান এবং তার স্বামী গার্মেন্ট ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান চারবোনের ন্যায্য হিস্যা দাবি করায় ভাই লুৎফর রহমানের করা মামলায় ২২ দিন জেল খাটে। জেলা থাকা অবস্থাতেই লুৎফা টাওয়ারের একটি ফ্ল্যাটে থাকা বোনের মালামাল বাইরে ফেলে দিয়ে তাদের উচ্ছেদ করে। ভাইয়ের পেশী শক্তির কারণেই অত্যন্ত সম্মানিত রউফ সাহেবের মেয়ে হওয়া সত্ত্বেও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের মাধ্যমে নিজ নিজ বাসা থেকে তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। এখনও তার ভাই ও মা তাদের অনেক কর্মচারী ও অপরিচিত সন্ত্রাসীদের দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে। এই অবস্থায় মা ও ভাইয়ের এমন কার্যকলাপে চারবোনের পরিবারই চরমভাবে বিপর্যস্ত ও পারিবারিক, সামাজিক ও মানুষিকভাবে চরম ক্ষতির শিকার।
এ অবস্হা থেকে ন্যায়সংগত অধীকার পেতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করেছে ভুক্তভোগি পরিবার।

0