দুই লাখ টাকা না দেওয়ায় এ এস আই এনায়েত ছেলেকে ফাসিয়েছে-বাবা মজিবর

1

নারায়নগন্জে এক পুলিশ সদস্য কে দুই লাখ টাকা না দেয়ায় হোসিয়ারি ব্যবসায়ীকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ এনেছেন নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার এএসআই এনায়েত করীমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জিকুর পিতা মজিবুর রহমান মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপারসহ আইজিপি ও স্বারষ্ট্রন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগের অনুলিপি দিয়েছেন।
রোবববার সকাল সাড়ে ১০ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জিকুর বাবা মজিবুর রহমান পুলিশের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, জিকুর মা সুলতানা বেগম, চাচা ইসমাহিল হোসেন, ভাতিজি অন্তরা আক্তার, ছোট ভাই জামিল আহমেদ রিকু।
সংবাদ সম্মেলনে জিকুর পিতা মজিবর রহমান লিখিত বক্তব্যে সাংবাদিকদের জানান , তার বড় ছেলে জিকু ৩টি মেশিন নিয়ে একটি ছোট হোসিয়ারি দিয়ে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছে। গত ১২ই ডিসেম্বর মাগরিবের নামাজের সময় নারায়ণগঞ্জ সদর থানার এ এস আই এনায়েত করিম গিয়ে তার ছেলে জিকু এবং অপারেটর শামীমকে মাদকাসক্তের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে থানায় নিয়ে আসে।
তিনি নামাজ শেষে এসে বাসার সামনে লোকজনের ভীড় দেখে এ ঘটনা জানতে পারেন। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনের সাথে কথা বলে আরও জানতে পারে, ওই সময় তার ছেলের কাছে কিছুই পায়নি, এসে আটক করে নিয়ে যায়। এরপর আমি এ এস আই এর সাথে যোগাযোগ করলে টাকা দাবি করে। আর না দিলে ছেলেকে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দিবে বলে হুমকি দেয়। অনেক অনুরোধ করেও তার এই অনৈতিক সুবিধা না দিলে আমার ছেলেকে ছাড়বে না সাফ জানিয়ে দেয়।
তিনি বলেন, যেখানে আমার ছেলে একটি সিগারেটও খায় না, সেখানে হেরোইনের মতো নেশাদ্রব্য দিয়ে আমার ছেলেকে ফাঁসানো হয়। আমি সন্ধ্যার পর থানায় গেলে আমার নিকট এএসআই এনায়েত দুই লক্ষ টাকা দাবী করে এবং শাসাইয়া বলে টাকা নিয়ে আসেন।
আমি অনেক কষ্ট করে স্ত্রীর জিনিস বন্ধক রেখে ৩০ হাজার টাকা পরের দিন শুক্রবার ১৩ই ডিসেম্বর সকাল ৯টায় সুমনের মাধ্যমে এ এস আইকে দেই। কিন্তু দাবিকৃত ২ লাখ টাকা না দেওয়ায় ৩০ হাজার টাকা দেয়ায় আমার ছেলে ও শামীমকে ১০০ পুড়িয়া হেরোইন দিয়ে চালান দেয়।
যে ছেলে জীবনে মাদক স্পর্শ করে নাই তাকে মাদক ব্যবসায়ী বানিয়ে কোর্টে পাঠায়। তাই আমি ও আমার পরিবার আপনাদের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের মাননীয় পুলিশ সুপার ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি। কারণ বিনা অপারাধে আজ আমার ছেলে জেলের ভিতর কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে।
এর জন্য দায়ী নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার এএসআই এনায়েত করিম। আপনারাই এটা বের করেন, এই হেরোইন আসলে পেল কোথায়? এসব কতিপয় পুলিশ সরকারের বদনাম করছে। যাদের জন্য ভালো মানুষ অপরাধী হয়ে যাচ্ছে।
সাংবাদিকদের কাছে তিনি সহযোগিতা চেয়ে বলেন, আপনারা জাতির বিবেক।আমি আপনাদের সহযোগিতা চাই, কারণ আপনারা ও পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকমর্তারাই এখন আমার আস্থা।যার জন্য এই বয়সে একজন পিতাকে এভাবে আপনাদের সামনে একটি অসাধু পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিচার দাবি করতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে আমি এই মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রসঙ্গে জেলা পুলিশ সুপারসহ আইজিপি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগের অনুলিপি দিয়েছি।

1