আওয়ামী লীগ নেতার অফিসে মধ্যযুগীয় নির্যাতন

1

ছাগল চোর আখ্যা দিয়ে  নাঈম ও রাতুল নামের দুই যুবকের ওপর মধ্যযুগীয় নির্যাতন করা হয় কুতুবপুরে আওয়ামী লীগের সভাপতি আলাউদ্দিন হাওলাদারের নিজ বাড়ির কার্যালয়ে ।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় যুবকদের পুলিশে দিলে সাজানো ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরণ করে।

ওই সময় ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ দাবি করেছিলেন, ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর শাহী মহল্লা এলাকার শফিকুল ইসলামের দুটি বিদেশি জাতের ছাগল চুরি হয়। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে দুজন চোরকে ধরে তাদের স্বীকারুক্তিতে মুন্সিগঞ্জ থেকে ছাগল দুটি উদ্ধার করা হয়।

পিটুনিতে আহত নাঈম (২৫) কুতুবপুর ইউনিয়নের মুসলিমপাড়া এলাকার আব্দুর রব মাস্টারের ছেলে এবং অপরজন একই এলাকার যুবক, তার নাম রাতুল (৩০)।

আলাউদ্দিন হাওলাদার বলেন, নাঈম ও রাতুলকে মারধরের সময় ছাগলের মালিক শরীফ মিয়া নিজেই তার মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম ফেসবুকে মারধরের ভিডিও কিভাবে গেছে। তিনি আমাকে জানিয়েছেন, স্থানীয় ছেলেরা তার কাছ থেকে ভিডিওটি নিয়েছে ফেসবুকে পোস্ট করেছে।

বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়।

দুই মিনিট সাত সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, বিশ থেকে বাইশ বছর বয়সী দুই যুবককে একটি বিলাসবহুল কক্ষে মাটিতে ফেলে কয়েকজন পালাক্রমে পেটাচ্ছে। এরপর তাদের দুই পা জাপটে ধরে ওপরে তুলে শূন্যে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এ অবস্থায় তাদের পায়ে, পিঠে ও কোমরে এলোপাতাড়ি পেটানো হয়। ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন চেয়ারে বসে বিষয়টি দেখছেন ও আরো জোরে পেটানোর নির্দেশ দিচ্ছেন।

নাঈমের মা নাজমা বেগম বলেন, আমার ছেলে প্রিন্টিং কারখানায় কাজ করে। ৩১ ডিসেম্বর রাতুলের সঙ্গে তাকেও মারতে মারতে নিয়ে গেছে। পরে আবার আলাউদ্দিন হাওলাদার তার অফিসে নিয়ে গিয়া ইচ্ছামত পিটিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। একটা পাগলা কুকুরকেও মানুষ এভাবে পিটায় না। আমার ছেলে অন্যায় করলে আমাদের জানাতে পারতো, পুলিশে দিতো। আমরা ওই বর্বরদের নির্যাতনের বিচার চাই।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, কেউ আইন হাতে তুলে নিতে পারে না। এটা অবশ্যই অপরাধ। এভাবে যদি পিটিয়ে থাকে, আর কেউ যদি লিখিত অভিযোগ দেয় তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

1