আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রের ৮ সদস্যকে গ্রেফতার

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম:  আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রের ৮ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১। গত রবিবার (২৬ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর, কেরানীগঞ্জ ও মুগদা এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীনগর এলাকায় র‌্যাব-১১ এর সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল ইমরান উল্লাহ সরকার।
র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন জানান, গত ২৩ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকা থেকে নারী পাচারকারী চক্রের ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় বিপুল পরিমাণ পাসপোর্ট, পাসপোর্টের কপি, ট্যুরিস্ট ভিসার ফটোকপি, নগদ দেড় লাখেরও বেশি টাকা এবং পাচারের উদ্দেশ্যে আটক রাখা চার তরুণীকে উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিদের তথ্যের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্রের আরও ৮ জনকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ৩৯টি পাসপোর্ট, ৬৬টি পাসপোর্টের ফটোকপি, ১৮টি বিমান টিকেটের ফটোকপি, ৩৬টি ভিসার ফটোকপি, ১টি সিপিইউ, ১৯টি মোবাইল জব্দ করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে পাচারের উদ্দেশ্যে রাখা দুইজন ভুক্তভোগী তরুণীকে উদ্ধার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় আসামিরা জানায়, আসামি শাহাবুদ্দিন ধানসিড়ি ট্র্যাভেল এজেন্সির মালিক। তার নিয়োগকৃত বিভিন্ন এজেন্টদের মাধ্যমে ১৫-২৫ বছর বয়সী সুন্দরী নারীদের সংগ্রহ করতো। এ সকল নারীদের বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের ড্যান্স বারে পাচার করতো। শাহাবুদ্দিনের সাথে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের ড্যান্স বারের মালিকদের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। গ্রেফতারকৃত অন্যান্য আসামিরা শাহাবুদ্দিনের হয়ে পাচারের জন্য নারী সংগ্রহ করতো। এই চক্রের মাধ্যমে বিগত দুই বছরে সহ¯্রাধিক তরুণী মধ্যপ্রাচ্যে পাচার হয়েছে বলে জানায় র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।
তিনি আরো বলেন, গত ২৩ নভেম্বর রূপগঞ্জ থেকে নারী পাচারকারী চক্রের ৬ সদস্য গ্রেফতার হওয়ার পর পাচারকারী চক্রের অন্যান্য সদস্যরা সতর্ক হয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোঁখকে ফাঁকি দিতে পাঁচারের কৌশল ও পথ পরিবর্তন করে। প্রথমে তারা মধ্যপ্রাচ্যে না পাঠিয়ে পাশ্ববর্তী দেশসমূহের বিমানবন্দর ব্যবহার করে নারী পাচার অব্যাহত রেখেছে। পূর্বে তারা শুধুমাত্র ঢাকা শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করতো কিন্তু বর্তমানে দেশের অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও ব্যবহার করছে তারা। এই মানবপাচারকারী চক্রের উপর র‌্যাব-১১ এর বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারী ছিল।
গ্রেফতারকৃত নারী পাচারকারী চক্রের সদস্যরা হলো, ধানসিড়ি ট্রাভেল এজেন্সির মালিক, লক্ষীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানার বাসিন্দা মোঃ শাহাবুদ্দিন (৩৭), তরুণী সংগ্রহকারী এজেন্ট নোয়াখালীর শ্যামবাগ থানার বাসিন্দা মোঃ হৃদয় আহম্মেদ ওরফে কুদ্দুস (৩৫), চাঁদপুরের হাজ¦ীগঞ্জ থানার বাসিন্দা মোঃ মামুন (২৪), মাদারীপুরের কালকিনি থানার বাসিন্দা মোঃ স্বপন হোসেন (২০), চট্টগ্রামের মীরসরাই থানার বাসিন্দা মোঃ শিপন (২২), মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থানার বাসিন্দা রিজভী হোসেন ওরফে অপু (২৭), পটুয়াখালীর বাউফল থানার বাসিন্দা মোঃ মুসা ওরফে জীবন (২৮) ও চাঁদপুরের মতলব থানার বাসিন্দা শিল্পী আক্তার (২৭)।

1