চীনে মুসলিম নির্যাতন ও করোনা ভাইরাস-এ্যাডঃ তৈমূর

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: চীন বিশ্ব জয় করে চলছে। বিশ্বের উন্নত মানের টেকনোলজি এখন চীনের হাতের মূঠোয়। তারা সমুদ্রে ব্রীজ তৈরী করছে, বাংলাদেশের কল্পনার পদ¥া সেতু নির্মাণ তাদেরই নিয়ন্ত্রণে, আধুনিক মালোয়শিয়া গড়ার কারিগরি কন্ট্রাক সবই চীনাদের সাথে। বানিজ্যিক ভাবে গোটা পৃথিবী এখন তাদের বাজার। সৌদী আরবও এখন তাদের কাস্টমার। যে দেশ করিগরি দিক থেকে এতো উন্নত এবং সমৃদ্দশালী তারা কেন করোনা ভাইরাসকে প্রতিরোধ করতে পারছে না? অত্র আর্টিকেল লিখা (১৯/২/২০২০ ইং) পর্যন্ত চীনে করোনা ভাইরাসে প্রায় ৭৫ হাজার জন আক্রান্ত হয়েছে, তম্মধ্যে ২ হাজার জন করেছে মৃত্যু বরণ। ভাইরাসটি জামিত্যিক হারে বৃদ্ধি পেতে চলেছে। যারা এতো কিছু আবিষ্কার করতে পারে, তবে করোনা ভাইরাস প্রতিশোধক আবিষ্কার করতে পারছে না কেন? এ বিষয়টি গভীর ভাবে পর্যালোচনা করলে চীন সরকারের অত্যাচার নির্যাতন ও সীমা লঙ্গনের কথাই বার বার পর্যালোচিত হয়।

প্রকৃতি একটি শক্তি। প্রকৃতিই বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সীমা লঙ্গনকে প্রশয় দেয় না। তবে প্রকৃতি ভারসাম্য রক্ষা করে। এটাই প্রকৃতির এড়ষফবহ জঁষব বা সোনালী সূত্র। সৃষ্টিকর্তা আল্লাহপাক তুচ্ছ জিনিস দ্বারা পৃথিবীর অনেক জাতি/দেশকে ধ্বংস করে দিয়েছেন সীমা লঙ্ঘন করার দায়ে, এ কথা তিনি বারং বার পবিত্র কোরানে দম্বোক্তি সহকারে বলেছেন। ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণ বা প্রতিরোধ করতে না পারার পিছনেও কি “প্রকৃতির” প্রতিশোধ? আল্লাহ বলেছেন যে, “আমি প্রতিশোধ গ্রহণে তৎপর”। গোটা বিশ্ব এখন ঐক্যবদ্দভাবে মুসলমানদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। শক্তিশালী মুসলিম রাষ্ট্রগুলির উদাশীনতা ও অনৈক্যের কারণে মুসলিম বিরোধীরা দিনে শক্তিশালী হচ্ছে। মিয়ানমারে অকাতরে মুসলিম নিধন চলছে, এ নিধনকে চীন সমর্থন দিয়েছে শুধুমাত্র রোহিঙ্গারা মুসলমান হওয়ার কারণে। ভারতের উগ্র সাম্প্রদায়িক সরকার মুসলমানদের বিতারিত করার জন্য আইন পাশ করেছে, ভারতের জনগণের প্রতিরোধের মুখে এখন তা স্লোগতিতে। এ জন্য পশ্চিম বাংলার মূখ্যমন্ত্রী মমতা ধন্যবাদ পাওয়ার পাত্র, যদিও তিস্তা নদীর পানি বন্টনে বাংলাদেশের প্রতি তার বিমাতা সুলভ আচরন অব্যাহত রয়েছে।

সম্প্রতি চীনে যে অজানা মরণ ব্যধি ধরা পড়েছে তার আনুষ্ঠানিক নাম করোনা ভাইরাস। কোভিড-১৯ নাম দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এরই ধারাবাহিকতায় এবার প্রকাশ পেলো করোনা ভাইরাসের (কোভিজ-১৯) ছবি। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের ছবি প্রকাশ করেছে মার্কিন গবেষকরা (সূত্র: বুমবার্গ বিবিসি)। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (এনআইএআইডি) ছবিগুলো প্রকাশ করে। ল্যাবে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন স্ক্যানিং অ্যান্ড ট্রান্সমিশন ইলেকট্রন মাইক্রোস্ক্রোপ দিয়ে তারা করোনা ভাইরাসের ছবি ধারণ করেন। এ ধরনের সাইক্রোস্ক্রোপ খুব ছোট বস্তুর ছবি বিশদভাবে তুলতে পারে। করোনা ভাইরাসের চিত্রগুলো সহজে দেখার জন্য রঙিন করেন গবেষকরা। এনঅইএআইডির মলিকিউলার প্যাথোজেনেসিস ইউনিটের প্রধান এমি ডি উইট প্রথমে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর লালা সংগ্রহ করেন। এরপর তা টেস্টটিউবে নিয়ে এলিডাবেথ ফিশারকে দেন। এই এলিজাবেথ ফিশার একজন মাইক্রোস্ক্রোপ বিশারদ। তিনি মাইক্রোস্ক্রোপের ওই নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করলে তাতে জীবাণু ধরা পড়ে। মাইক্রোস্ক্রোপে করোনা ভাইরাসের যে ছবি পাওয়া যায় তাতে অবাক হন ল্যাবের বিজ্ঞানীরা। কারণ ২০০২ সালের সার্স ও ২০১২ সালের মার্স ভাইরাসের সঙ্গে এটার অনেকটাই মিল রয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ ধরনের দ্রুত সংক্রামণযোগ্য ভাইরাসগুলো মাইক্রোস্ক্রোপে প্রায় একই রকম দেখা যায়।

অনিয়নত্রিত মরণ ব্যধি নিয়ে আলোচনা করতে গেলে স্বাভাবিক ভাবে চীনের সার্বিক অবস্থা, জনগণের উপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সামাজিক প্রেক্ষাপট প্রভৃতি বিষয় উঠে সংগত কারণেই উঠে আসে। ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয় যে, সীমা লঙ্গনের দায়ে বিভিন্ন জাতি ধ্বংসস্তুপে পরিনত হয়েছে। বন্যায় প্লাবিত হয়ে পৃথিবী ধ্বংস হয়েছিল, শুধুমাত্র তারা ব্যতীত যারা হযরত নূর নবী (আ:) এর নৌকায় স্থান পেয়েছিল। তখনকার সীমা লঙ্গনের প্রেক্ষাপট এবং চীনে সরকারের বর্তমান কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, চীনে মুসলমানদের ধ্বংস করার জন্য অত্যাচারের সীমালঙ্গন করে চলেছে চীন সরকার।

1