র‌্যাব-১১ এর অভিযানে নরসিংদীর সদর হতে সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম:   র‌্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সমাজের বিভিন্ন অপরাধ এর উৎস উদঘাটন, অপরাধীদের গ্রেফতারসহ আইনশৃঙ্খলার সামগ্রিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য র‌্যাব ফোর্সেস নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে থাকে। র‌্যাব-১১ এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় প্রতারণা, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড দমনের লক্ষ্যে র‌্যাব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনার জন্য র‌্যাব ফোর্সেস নিয়মিত অপরাধ ও সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

গত ২০ ফেব্র“য়ারি ২০২০ তারিখে মোঃ রাসেল (২৮) নামক এক ব্যক্তি র‌্যাব-১১ নারায়ণগঞ্জ বরাবর একটি অভিযোগ করেন যে, গত ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে তাকে ডিবি’র পরিচয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি নরসিংদী আদালতের সামনে থেকে মাইক্রোবাসযোগে তুলে নিয়ে যায়। চেতনানাশক ঔষধ প্রয়োগ করে অবচেতন করে সেখান থেকে তাকে একটি ফ্লাট বাসায় নিয়ে হাত-পা ও চোখ বেঁধে মারধর করাসহ বিভিন্ন শারীরিক নির্যাতন করে এবং সেই নির্যাতনের ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে। ভিকটিম রাসেলকে জিম্মি করতঃ হত্যার হুমকি দিয়ে পরিবারের কাছ থেকে মোটা অংকের মুক্তিপণ আদায় করে। উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে র‌্যাব-১১ কর্তৃক গোয়েন্দা নজরদারী ও গোপন অনুসন্ধানের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা পায়।

এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-১১ এর একটি আভিযানিক দল গত ২১ ফেব্র“য়ারি ২০২০ খ্রিষ্টাব্দে দিবাগত রাতে নরসিংদী জেলার সদর থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্রের ০৪ জন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো ১। মোঃ অভিত মিয়া (২৮), ২। মোঃ পাপ্পু মিয়া (২৮), ৩। মারিয়া আক্তার মন্টি (২৩) এবং ৪। মোঃ বাদল মিয়া (৫৮)। গ্রেফতারকৃত আসামীরা নরসিংদী জেলার সদর থানার স্থায়ী বাসিন্দা।

 গ্রেফতারকৃতরা ভিকটিম মোঃ রাসেল (২৮)কে অপহরণের বিষয়ে স্বীকারোক্তি প্রদানসহ অন্যান্য আরও অপরাধের লোমহর্ষক বর্ননা দেয়। গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা অপহরণের উদ্দেশ্যে নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ছদ্মবেশে মাইক্রোবাস যোগে ঘুরে বেড়ায়। সুযোগ বুঝে বিভিন্ন এলাকার বিত্তশালী লোকদের অপহরণ করে চেতনা নাশক ঔষধ প্রয়োগ করতঃ অবচেতন করে গোপন স্থানে নিয়ে জিম্মি করে বিভিন্ন শারিরিক নির্যাতন করাসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পরিবারের কাছ থেকে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে মোটা অংকের টাকা মুক্তিপণ নিয়ে থাকে।

ভিকটিম রাসেল অপহরণ বিষয়ে তারা জানায় যে, ধৃত আসামীরা গত ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে নরসিংদী আদালতের সামনে থেকে একটি মাইক্রোবাসযোগে ছদ¥বেশে ডিবি’র পরিচয় দিয়ে রাসেলকে অপহরণের উদ্দেশ্যে তুলে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে চেতনা নাশক ঔষধ প্রয়োগ করতঃ অবচেতন করে তাদের ভাড়া করা একটি ফ্লাট বাসায় নিয়ে যায়। অতঃপর উক্ত বাসায় একটি গোপন কক্ষের ভিতর হাত-পা ও চোখ বেঁধে রাসেলকে মারধর করাসহ বিভিন্ন শারীরিক নির্যাতন করতে থাকে এবং সেই নির্যাতনের ভিডিও তারা মোবাইলে ধারণ করে মুক্তিপণের ১০ লক্ষ টাকার জন্য রাসেলের পরিবারের কাছে পাঠায় এবং এই বিষয়ে কাউকে কিছু না বলার জন্য রাসেলের পরিবারকে রাসেল হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। উল্লেখ্য যে, অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা ভিকটিম রাসেল এর যৌনাঙ্গ সিগারেট জ্বালানোর লাইটারের সাহায্যে পুড়িয়ে দেয়। রাসেলের পরিবার কোনো উপায় না পেয়ে রাসেল জীবন বাঁচাতে ঐদিন রাতে বিকাশের মাধ্যমে ৬০ হাজার টাকা তাদের কাছে পাঠায় এবং বাকী টাকা নগদে পরিশোধ করবে বলে জানায়। পরদিন ২৯ ডিসে¤¦র ২০১৯ তারিখ রাতে অবশিষ্ট টাকা নেয়ার জন্য রাসেলকে নিয়ে একটি মাইক্রোবাসযোগে নরসিংদীর শাপলা চত্তরে আসার পর রাসেল প্রস্রাব করা জন্য মাইক্রোবাস থেকে নামে এবং একটি পিকআপ ভ্যান সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় তৎক্ষণাৎ রাসেল ডাকাত, ডাকাত বলে চিৎকার শুরু করে। তার চিৎকারে লোকজন আসতে থাকলে অপহরণকারীরা তাকে রেখেই দ্রুত পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে রাসেল তার পরিবারের লোকজনের মাধ্যমে হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিৎসার নেয়ার পর মোটামুটি সুস্থ্য হয়ে র‌্যাব-১১ বরাবর একটি অভিযোগ দাখিল করে। যার প্রেক্ষিতে র‌্যাব-১১ এর একটি বিশেষ গোয়েন্দা দল কর্তৃক গোয়েন্দা নজরধারীর মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা পেয়ে গত ২১ ফেব্র“য়ারি ২০২০ তারিখে দিবাগত রাতে নরসিংদী সদর হতে সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্রের ০৪ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়

গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে নরসিংদী জেলার সদর থানায় আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

1