সংঘবদ্ধ চোর চক্রের ৭ জন সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম:  র‌্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সমাজের বিভিন্ন অপরাধের উৎস উদঘাটন, অপরাধীদের গ্রেফতার, আইন শৃংখলার সামগ্রিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য র‌্যাব ফোর্সেস নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে থাকে। র‌্যাব-১১ এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিভিন্ন ধরণের অপরাধমূলক কর্মকান্ড বিশেষ করে সংঘবদ্ধ চোর/ছিনতাই চক্র দমনের লক্ষ্যে র‌্যাব-১১ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

 এরই ধারাবাহিকতায় গোপনসূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৬ ফেব্র“য়ারি ২০২০ খ্রিষ্টাব্দে দিবাগত রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জের নোয়াপাড়া ও সিদ্ধিরগঞ্জের বাঘমারা এবং ডিএমপি, ঢাকার ডেমরা থানাধীন পূর্ব বক্সনগর এলাকায় র‌্যাব-১১ এর বিশেষ অভিযানে সংঘবদ্ধ চোর চক্রের মূলহোতাসহ ০৭ জন সক্রিয় সদস্য’কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলোঃ ১। মোঃ শাহাজালাল @ শাংখা(৩৫), ২। আব্দুল কাদির জিলানী (১৯), ৩। মোঃ সাদ্দাম (২৪), ৪। আরিফুল ইসলাম @ মিঠু(২৮), ৫। মোঃ নুর উদ্দিন @ বাবু (২৯), ৬। মোঃ সুজন (২৩) ও ৭। মোঃ শাহিন মিয়া (৪০)। এ সময় তাদের দখল হতে চোরাইকৃত ০৫টি অত্যাধুনিক স¥ার্ট ফোন, ০১টি স্বর্ণের চেইন, ০১ জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, ০১টি হাই কনফিগারেশন ল্যাপটপ ও নগদ ৫,৯০০/- টাকা উদ্ধার করা হয়। এই চোর চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন যাবৎ ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কখনো বিয়ে বাড়িতে বরযাত্রীর ছদ¥বেশে আবার কখনো গণপরিবহনে সাধারণ যাত্রীর ছদ¥বেশে অত্যন্ত চাতুর্যের সাথে স্বর্ণালংকার, মূল্যবান ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী তথা স¥ার্টফোন, ল্যাপটপ ইত্যাদি ও নগদ টাকা চুরি করে আসছে।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধানে জানা যায়, এটি একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্র এবং মোঃ শাহজালাল ওরফে শাংখা এই চক্রের মূলহোতা। শাংখা মোঃ শাহজালাল এর খেতাবী নাম। এই চোর চক্র প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের চুরির কৌশল সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করে। তারা জানায় যে, চুরি কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে তারা বিয়ে বাড়িকে প্রধান টার্গেট হিসেবে নিয়ে থাকে। প্রাথমিকভাবে টার্গেট করার পর বিয়ে বাড়ি চিনে আসা এবং ঔ বিয়ে বাড়ি ও বিয়ের দিন-তারিখ সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করা জন্য তাদের দলের সদস্যদের মধ্য হতে একজনকে দায়িত্ব দেয়া হয়। অতঃপর তারা বিয়ের নির্ধারিত তারিখে বরযাত্রীর ছদ¥বেশে বিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে। যথারীথি বিয়ে বাড়ির বিভিন্ন ঘরে প্রবেশ করে সুবিধাজনক সময়ে মূল্যবান জিনিসপত্র যেমনঃ স্বর্ণালংকার, স¥ার্টফোন, ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী ইত্যাদি চুরি করে। এভাবে চুরির একটি মূল্যবান বস্তু তাদের হস্তগত হওয়া মাত্রই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বিয়ে বাড়ির বাইরে অবস্থানরত তাদের দলের অন্যান্য সদস্যের কাছে হস্তান্তর করে যেন মূল চোর ধরা না পরে। এছাড়াও বিয়ে বাড়িতে তাদের অন্যতম টার্গেট হচ্ছে শিশু ও কিশোরী মেয়ে। বিয়ে বাড়িতে অতিথিদের ভীড়ের মুখে এই সমস্ত টার্গেট করা শিশু ও কিশোরীদের গলা থেকে স্বর্ণের চেইন ছোঁ মেরে ছিড়ে নিয়ে থাকে। শিশু ও কিশোরীরা বিয়ে বাড়িতে বিভিন্ন আনন্দে মেতে থাকায় অসাবধানতা বশতঃ এই চক্রের অন্যতম টার্গেট হয়ে থাকে। এভাবে সারাদিন ব্যাপী বিয়ে বাড়িতে চুরি সম্পন্ন করে সেখান থেকে সু-কৌশলে চোরাইকৃত মালামালসহ বের হয়ে আসে।

1