খারাপ সময়টা দূরে রাখার চেষ্টায় তামিম

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম:  ২৩ ম্যাচ পর পেয়েছেন ওয়ানডেতে সেঞ্চুরির দেখা। ছুঁয়েছেন ৭ হাজার রানের মাইলফলকও। সব মিলিয়ে মঙ্গলবার দিনটি দারুণ কেটেছে তামিম ইকবালের। তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটে গত বছর থেকে ধুঁকছিলেন এই ওপেনার। কিন্তু জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১৫৮ রানের ইনিংস খেলে ফের ছন্দে ফিরেছেন। তিনি জানেন, মাঝে মাঝে ক্রিকেটারদের সময় খারাপ সময় আসে। সেটা কাটিয়েও উঠেছেন। এখন তার একটাই চেষ্টা- যতদিন সম্ভব এই বাজে সময়টা দূরে রাখা।
গতকাল সিলেটে টিম হোটেলে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তামিম কথা বলেন নানা বিষয়ে। সেই কথোপকথনের মূল অংশ তুলে ধরা হলো।
প্রশ্ন: এমন ইনিংস খেলার পর নিজেকে চাপমুক্ত মনে হচ্ছে?
তামিম: প্রেশারে তো ছিলাম। ‘না’ বললে মিথ্যা বলা হবে। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় যে একটা ভালো জিনিস ছিল, আমি ব্যাটিং খুব ভালো করছিলাম। আমি হয়তো অতো বড় রান করতে পারছিলাম না। টেস্টে যেমন ৪১ রান করলাম। পাকিস্তানে ৩৫/৩৬ রানের একটা ইনিংসও খেললাম। তো একটা বিশ্বাস অবশ্যই ছিল যে ‘ইটস এ ম্যাটার অব টাইম।’ ইনিংস বড় হয়ে যাবে, হয়ে যাবে। দুর্ভাগ্যবশত অনেকদিন ধরেই হচ্ছিল না। অনেককেই এটার পেছনে (ফর্মে ফেরায়) ক্রেডিট দেয়া উচিৎ। টিম ম্যানেজমেন্ট বলেন বা আমার টিমমেটরা বলেন, একটা মিনিটের জন্যেও তারা বিশ্বাস হারায়নি আমার ওপর থেকে। আশা করি যে একটা সুন্দর স্টার্ট হয়েছে। সবসময় চেষ্টা করি ভালো কিছু করার। যদিও সবসময় সম্ভব হয় না।
প্রশ্ন: পুরনো মেজাজে ব্যাটিংয়ে ফিরলেন। মাঝখানে কিছুটা সময় কি একটু দ্বিধায় ছিলেন?
তামিম: সত্যি কথা বলতে আমি কিন্তু কাল কোনোকিছুই ব্যতিক্রম করিনি। একটা জিনিস যে আমি প্রথমে দু-তিনটা বাউন্ডারি বেশি পেয়ে গেছি। আপনি যদি দেখেন একটা ওভারে দুইটা বল আমার পায়ে ছিল যেটা আমি ফ্লিক করে চার মেরে দিয়েছি। সবসময় যে মানসিকতা নিয়ে ব্যাটিং করি, কালও ওই একই ধরণের মানসিকতা নিয়ে ব্যাটিং করেছি।
প্রশ্ন: ২০০ করার সম্ভাবনা কতটুকু দেখছিলেন?
তামিম: ২০০ থেকে মনে হয় ৪৮ রান দূরে ছিল। তবে সত্যি বলতে তখন ওরকম কিছু ভাবিনি। নরমালি আরো ৫ ওভার যখন ছিল তখন একটা ওভারে যদি ১৫/২০ করে নিতে পারতাম তাহলে একটা চান্স হয়তো থাকতো। কিন্তু যেহেতু ৪৮ রান দূরে ছিলাম। এখন যদি বলি ‘না, ভেবেছিলাম’ তাহলে সেটা বলা ঠিক হবে না।
প্রশ্ন: আগের ১৫৪ আর এখনকার ১৫৮, দুটোর মধ্যে কোনটিকে এগিয়ে রাখবেন?
তামিম: অবশ্যই ২০০৯ সালেরটা। আমার কাছে মনে হয়, সেবারই প্রথম ৩০০ রান প্লাস তাড়া করে ম্যাচ জিতেছিলাম আমরা। এখন ৩০০ রানটা যতো সহজে মানুষ দেখে ওই সময় কিন্তু সহজ ছিল না। তখন কার ৩’শ রান এখনকার ৪’শর সমান।
প্রশ্ন: মুশফিক বলেছিলেন আপনার ৩৩৪ রানের রেকর্ডটা ভাঙতে চান…
তামিম: ক্রিকেটে কতটা অনিশ্চয়তা কালই বুঝতে পেরেছি। আমার মনে হয় না, কেউ ভেবেছিল এই অবস্থায় চলে যাবে খেলা (জিম্বাবুয়ের জেতার অবস্থায়)। একটা ভালো দিক আমাদের জন্য- ইতিমধ্যেই সিরিজ জিতে গেছি। আর মুশফিক আমার রেকর্ড ভাঙার যোগ্য। শুধু সেই নয়, আমাদের দলের তরুণ খেলোয়াড় যারা আছে লিটন, শান্ত তারাও সামর্থ্য রাখে। দুই তিন বছরের মধ্যেই ভেঙে যাবে। আগামী বছরও ভেঙে যেতে পারে।
প্রশ্ন: ওয়ানডেতে কত রান করতে চান?
তামিম: কত রান করবো লক্ষ্য সেট করিনি। কোনো ক্রিকেটারের কাছে যদি জানতে চাওয়া হয় সে কত রান করবে? হয়তো বলবে ১০ হাজার রান করবে। কিন্তু আমি কোনো সময় এটা নিয়ে চিন্তা করি না।
প্রশ্ন খারাপ সময়গুলো কাটিয়ে উঠতে কতটা পরিণত হয়েছেন?
তামিম: ২০১৫ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত আমি খুব ভালো ছন্দে ছিলাম। তখনও কিন্তু অনেক সাক্ষাৎকারে বলেছি, খারাপ সময় আসবে। তখন প্রশ্ন হতো ২০১৫ সাল থেকে আপনি কীভাবে উত্তরণ ঘটিয়েছেন। আমি আবারো বললাম এরকম সময় আবারো আসবে। এটা ক্রিকেটারের জীবন। এটা সবারই কম বেশি যায়। আমি চেষ্টা করতে পারি যেন ওই সময়টা কত দেরিতে আসে।

1