শশুর বাড়িতে যাওয়ার আগেই সড়ক দূর্ঘটনায় বর সহ ৯জন নিহত

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম:  মাত্র এক মাস আগেই মধ্যপ্রাচ্য কাতার থেকে দেশে এসেছেন বিয়ে করবেন প্রবাসী ইমন খান (২৫)। শুক্রবার হবু স্ত্রী জেরিন তালুকদারকে আনুষ্ঠানিক ভাবে আংটি পড়ানোর কথা ছিলো। বাবা ছোট ভাইসহ আত্মীয় স্কজনদের নিয়ে নারায়ণগঞ্জ হতে সিলেটের সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে হবু শশুর বাড়িতে যাওয়ার আগেই সড়ক দূর্ঘনায় বর সহ ৯জন নিহত হয়েছে। একটি দূর্ঘনায় বিয়ের উৎসবের পরিবর্তে ইমনসহ ১০জন পরপাড়ে চলে গেছে। ইমনের হবু শশুর বাড়ি যাওয়ার আগেই একটি দূর্ঘনায় সব কিছু উলোটপালট করে দিয়েছে। আর কাতার প্রবাসী ইমনের পরিবারের সব স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়ে গেছে। ইমনের বাড়িতে বিয়ের উৎসবের পরিবর্তে শোকের ছায়া নেমে আসে।

বৃহস্পতিবার রাতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পাগলা মুসলিমপাড়া এলাকা হতে সিলেটের সুনামগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হলে সড়ক দূর্ঘনা ঘটে।

নিহতরা হলো ফতুল্লার পাগলা মুসলিমপাড়া এলাকার আব্বাস উদ্দিনের ছেলে ইমন খান (২৫) (বর), মৃত আশরাফ আলী তালুকদারের ছেলে আব্বাস উদ্দিন (৫৫—- বরের বাবা), বরের ছোট ভাই রাব্বী (২০), মৃত গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে সুমনা আক্তার (৩৫), তোতা খানের ছেলে ইমরান হোসেন (১৬), আবুল হোসেনের ছেলে রাজিব (২৫), মজিবুর রহমানের স্ত্রী আসমা আক্তার (২৫), আব্দুল গনির ছেলে খলিলুর রহমান (২৫), বেলায়েতের মেয়ে খাদিজা আক্তার (৪) ও হাজী মহসিন (৭০)।

এ ঘটনায় আহতরা হলো নাদিম ৩৬ (ড্রাইভার), আবুল হোসেন (৫৫), রফিক (৪৫)।

নিহত ইমন খানের ছোট ভাই আব্দুল্লাহ জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী। তারা স্বপরিবার ফতুল্লার পাগলা মুসলিমপাড়া বসবাস করে। তার বড় ভাই ইমন কাতারে ছিলো। বিয়ে করার উদ্দেশে গত এক মাসে ছুটিতে দেশে আসে। ইমনকে ধুমধাম করে বিয়ে দেয়ার পরিকল্পনায় আয়োজন শুরু করে। আর সিলেটের সুনামগঞ্জের কনে পছন্দ হলে শুক্রবার কনেকে আংটি পড়ানোর অনুষ্ঠানে দুরের পথ হওয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে একটি ভাড়া করা গাড়িতে নাইম খানসহ ১৩ জন সুনামগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়। কিন্তু কনের বাড়ি যাওয়ার আগে গাছের সাথে ধাক্বা খেয়ে নাইম, তার বাবা, ছোট ভাই সহ ৯ জন মারা যায় এমন সংবাদ পাই। ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পর শুক্রবার ভোরে আমাদের বাড়ির লোকজন লাশ আনতে সুনামগঞ্জে রওনা হয়। আর শুক্রবার দুপুরে আরেকজনের মৃত্যুর সংবাদ পাই। একটি সড়ক দূর্ঘনায় ইমন ভাইয়ের বিয়ের উৎসবের পরিবর্তে বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে আসে। আল্লাহর কাছে কি অপরাধ করলাম আমাদের পরিবারকে দুই টুকরো করে দিয়ে গেলো।

শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. এরশাদুল হক ভূঁইয়া জানান, নিহতদের পরিবারের সদস্যরা মোবাইল ফোনে পুলিশকে জানিয়েছেন ইমনের বিয়ে ঠিক করা হয়েছিল। হবু কনেকে আংটি পরাতে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে যাচ্ছিলেন তারা। আর সড়ক দূর্ঘনায় নিহতদের লাশগুলো উদ্ধার করে শেরপুর হাইওয়ে থানায় রাখা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে নিহতদের স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

1