ছুটির প্রথম দিনে নারায়ণগঞ্জ শহর জনমানব শুন্য

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম:

ছুটির প্রথম দিন নারায়ণগঞ্জ শহরের সড়কগুলো একেবারেই ফাঁকা ছিল। মানুষজনও ছিলনা বললেই চলে। ব্যস্ত শহরে যেখানে হাজারো লোকের চলাচল থাকতো, সেখানে একেবারে জনমানবশুন্য সড়কে পরিণত হয়। গণপরিবহন চলাচলও বন্ধ ছিল। তবে ফাঁকা সড়কের ফাঁকে ফাঁকে বেশ কয়েকটি অটোরিকশা চলাচল করেছে, চলেছে (সংখ্যায় কম হলেও) রিক্সা, মিশুক। মানুষজনও একেবারে না পারতে বের হয়েছেন রাস্তায়। শহরের ফুটপাত প্রায় সারাদিনই ছিল ফাঁকা।

বন্ধ ছিল লঞ্চ, ট্রেন, বাস চলাচল। চাষাঢ়া, ২নং রেলগেট, টার্মিনাল ঘাট, খানপুর এলাকায় রিক্সা চালকদের বসে অলস সময় পার করতে দেখা গেছে। শহরের সবকটি মার্কেটই ছিল একেবারে বন্ধ।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন আগের দুদিনের মতোই শহরের বিভিন্ন সড়কে জাবানুনাশক স্প্রে ছিটিয়েছে। এদিন দেড় লাখ লিটার পানি স্প্রে করা হয়েছে। অবশ্য জীবানুনাশক ছিটানোর কাজে যোগ দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও মোকাবেলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১, ৭, ৮, ৯, ১২, ১৩, ১৮ ও ১৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলররা বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছে। এছাড়া বিভিন্ন ওয়ার্ডেও কিছু সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবী নানা করোনা মোকাবিলায় নানা কার্যক্রম চালিয়েছেন।

চানমারির দুটো বস্তিতে সাংসদ শামীম ওসমানের স্ত্রী সালমা ওসমান লিপির পক্ষে দুঃস্থ মানুষদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

বিকেলে নগরবাসীকে সচেতন করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে শহরের বিভিন্ন সড়কে প্রচারণা চালানো হয়। এসময় মাইকিং করে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে না বের হবার অনুরোধ জানানো হয়। অকারণে ঘর থেকে বের হওয়ার কারণে বেশ কয়েকজনকে বকাঝকা ও কয়েকজনকে কান বসিয়ে উঠবস করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক অবস্থায় দেখা গেছে র‌্যাব-১১’র সদস্যদের।

বিকেলে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. সিরাজ- উদ-দৌল্লা জানান, নারায়ণগঞ্জে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছে ৩১০ জন। এরমধ্যে বৃহস্পতিবার যোগ হয়েছে ৪৯ জন। কোয়ারান্টাইন থেকে এ পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছে ৭৭ জন। তারমধ্যে ছাড়া পেয়েছে ১৪ জন।

তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জে এপর্যন্ত তিন জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়। তাদের মধ্যে দুই জন আরোগ্য লাভ করেছে।

তিনি জানান, ১ মার্চ থেকে বিদেশ থেকে ৫ হাজার ৯৬৮ এসেছে। তাদের মধ্যে মাত্র ২৮০ জনের ঠিকানা চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে করোনাভাইরাসের সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র আছে ছয়টি। কোভিড-১৯ চিকিৎসায় বেড ৩০ টি। চিকিৎসকের সংখ্যা ৯০ জন। নার্স রয়েছে ১৭৩ জন। এছাড়া ৭২ টি বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র ১০০ চিকিৎসক রয়েছে।

1