উহানের মতো অবরুদ্ধ না করলে ‘সুপার স্প্রেডার’ হয়ে উঠতে পারে নারায়ণগঞ্জ

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ সারা বিশ্ব যেখানে একটা সংকটে নাস্তানাবুদ, সেখানে উহান একটা আশার নাম। চীনের হুবেই প্রদেশের উহানেই প্রথম শনাক্ত হয় নভেল করোনাভাইরাস। এই ভাইরাসে সংক্রমিত কোভিড-১৯ রোগের বিস্তার ঠেকাতে ১ কোটি ১০ লাখ লোকের শহরকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরুদ্ধ করেছিল চীন। পুরোপুরি বন্ধ ছিল যোগাযোগ ব্যবস্থা। বাইরে থেকে ঢুকতে পারলেও কেউ বের হতে পারেনি উহান থেকে। লোকজনকে ঘরবন্দী থাকতে হয়েছে দিনের পর দিন। শুধুমাত্র খাবার ও ওষুধ সংগ্রহের জন্য ঘর থেকে বের হওয়ার অনুমতি ছিল।

সারা বিশ্বকে চমকে দিয়ে চীন অসম্ভবকে সম্ভব করেছে ১১ সপ্তাহে। করোনাভাইরাস সংক্রমিত কোভিড-১৯ রোগকে প্রতিরোধ করতে পেরেছে তারা। জানুয়ারি থেকে গড়ে প্রতিদিন যেখানে অন্তত হাজারখানেক লোক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতেন, সেই সংখ্যা এখন শতকের ঘরে নেমে এসেছে। পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়াবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, ১২ এপ্রিল রোববার পর্যন্ত চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৮২ হাজার ৫২ জন। মারা গেছেন ৩ হাজার ৩৩৯ জন। আর সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৭৭ হাজার ৫৭৫ জন। সারা বিশ্ব যেখানে একটা সংকটে নাস্তানাবুদ, সেখানে উহান একটা আশার নাম। চীনের হুবেই প্রদেশের উহানেই প্রথম শনাক্ত হয় নভেল করোনাভাইরাস। এই ভাইরাসে সংক্রমিত কোভিড-১৯ রোগের বিস্তার ঠেকাতে ১ কোটি ১০ লাখ লোকের শহরকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরুদ্ধ করেছিল চীন। পুরোপুরি বন্ধ ছিল যোগাযোগ ব্যবস্থা। বাইরে থেকে ঢুকতে পারলেও কেউ বের হতে পারেনি উহান থেকে। লোকজনকে ঘরবন্দী থাকতে হয়েছে দিনের পর দিন। শুধুমাত্র খাবার ও ওষুধ সংগ্রহের জন্য ঘর থেকে বের হওয়ার অনুমতি ছিল।

সারা বিশ্বকে চমকে দিয়ে চীন অসম্ভবকে সম্ভব করেছে ১১ সপ্তাহে। করোনাভাইরাস সংক্রমিত কোভিড-১৯ রোগকে প্রতিরোধ করতে পেরেছে তারা। জানুয়ারি থেকে গড়ে প্রতিদিন যেখানে অন্তত হাজারখানেক লোক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতেন, সেই সংখ্যা এখন শতকের ঘরে নেমে এসেছে। পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়াবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, ১২ এপ্রিল রোববার পর্যন্ত চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৮২ হাজার ৫২ জন। মারা গেছেন ৩ হাজার ৩৩৯ জন। আর সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৭৭ হাজার ৫৭৫ জন।

উহানকে অবরুদ্ধ করার মধ্য দিয়ে চীন যে সবচেয়ে কঠিন পদক্ষেপটি নিয়েছিল সেটা স্বীকার করতেই হবে। তাদের এই পদক্ষেপগুলো লাখ লাখ মানুষকে একাকী মৃত্যু আর সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচিয়েছে।

ঠিক উহানের মতো বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ এখন করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়ানোর ‘এপিসেন্টার’ এ পরিণত হয়েছে। দেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনার সংক্রমণ শনাক্তের ঘোষণা দেয় সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। ওই দিন দুই বিদেশফেরতসহ যে তিনজন শনাক্তের কথা বলা হয়েছিল, তাদের দুজনই নারায়ণগঞ্জের। পরে জানা যায়, তাদের একজনের স্ত্রী আর দুই সন্তানও ইতালি ফেরত ওই ব্যক্তির মাধ্যমে সংক্রমিত। এরপর থেকেই সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে, যা এখনো অব্যাহত আছে।

শিল্পকারখানা বেশি থাকায় বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ এসে নারায়ণগঞ্জে থাকছেন। ২২ লাখ মানুষের আবাস এই নারায়ণগঞ্জে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ৮৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন বলে আইইডিসিআরের ব্রিফিংয়ে জানানো হয়। এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৯ জন।

চিন্তার আরেকটি বিষয় হলো কঠিন এই পরিস্থিতিতে এই জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যারা পরিচালনা করছেন তাদেরই বেশ কয়েকজন কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তারা করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আক্রান্ত হন। নারায়ণগঞ্জে আক্রান্তের এই সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। গত কয়েক দিনে বেশ কয়েকটি জেলায় সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন, যারা সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ থেকে গিয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ থেকে সংক্রমণ ছড়ানো ঠেকাতে গত বুধবার পুরো জেলা লকডাউন করা হয়। কিন্তু লকডাউন উপেক্ষা করে এখনো শত শত মানুষ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। সংবাদমাধ্যমগুলোতে চোখ রাখলে দেখা যায় কী পরিমাণ লোকজন সড়ক ও নদীপথে পালিয়ে অন্য জেলায় গিয়ে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে-

নারায়ণগঞ্জ থেকে বাড়ি ফিরে মৃত্যুর কোলে অনেকেই (দৈনিক আমাদের সময়, ১১ এপ্রিল ২০২০)

নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরে আসা আরও ১ যুবক করোনায় আক্রান্ত (যুগান্তর, ১১ এপ্রিল ২০২০)

নীলফামারীতে নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা একজন আক্রান্ত (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর, ১১ এপ্রিল ২০২০)

নারায়ণগঞ্জ থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে যাওয়া তিনজন করোনায় আক্রান্ত (জাগো নিউজ, ১১ এপ্রিল ২০২০)

সিরাজগঞ্জে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ থেকে ফেরা ৯৬ জন কোয়ারেন্টিনে (বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর, ১১ এপ্রিল ২০২০)

নারায়ণগঞ্জ থেকে ফেনীতে ফিরে মৃত্যু, বাড়ি লকডাউন (প্রথম আলো, ১০ এপ্রিল ২০২০)

লকডাউন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ থেকে আসছে মানুষ, ঝুঁকিতে ঠাকুরগাঁও (বাংলা ট্রিবিউন, ১০ এপ্রিল ২০২০)

নারায়ণগঞ্জ থেকে পালিয়ে আসা লোকজন ঝুঁকি বাড়াচ্ছে শ্রীপুরের (কালের কণ্ঠ, ৯ এপ্রিল ২০২০)

পালিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে বরগুনা এসে আটক ১০৯ জন  (মানবজমিন, ৯ এপ্রিল ২০২০)

নারায়ণগঞ্জ থেকে যাত্রীবোঝাই বাস ঠাকুরগাঁওয়ে, আতঙ্কে এলাকাবাসী (ইউএনবি, ৯ এপ্রিল ২০২০)

করোনার উপসর্গ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসা গৃহবধূর মৃত্যু (ইত্তেফাক, ৯ এপ্রিল ২০২০)

নারায়ণগঞ্জ থেকে নৌপথে দলে দলে মানুষ ফিরছেন পটুয়াখালীতে (বার্তা২৪, ৯ এপ্রিল ২০২০)

এই লকডাউনের মধ্যেও নারায়ণগঞ্জ থেকে লোকজন দেশের বিভিন্ন জায়গায় এভাবে ছড়িয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি নারায়ণগঞ্জ জেলা থেকে বেশ কিছু লোক অন্যান্য জেলায় চলে গিয়েছে এবং সেখানে আক্রান্ত করেছে। এই বিষয়টি উদ্বেগজনক। এই বিষয়টিকে আমাদেরকে আরও কঠিনভাবে দেখতে হবে এবং এটা বন্ধ করতে হবে।’

তাই এখনি নারায়ণগঞ্জকে উহানের মতো পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে দিতে না পারলে এই জেলাটি হয়তো ‘টাইম বোমা’ কিংবা ‘সুপার স্প্রেডারে’ পরিণত হবে। কারণ একমাত্র নারায়ণগঞ্জ ক্লাস্টারেই কম সময়ের ব্যবধানে সংক্রমণের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। আরও হয়তো অনেক সংক্রমিত আছেন যারা পরীক্ষার আওতায়ই আসেননি এখনো। আবার এমন অনেক মানুষ থাকতে পারেন যিনি সংক্রমিত হয়েছেন কিন্তু কোনো উপসর্গ না থাকায় অন্যদের সঙ্গে মিশে করোনাভাইরাস ছড়াচ্ছেন।

1