৩০০ শয্যায় হাসপাতালে দ্রুত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রেরণের আশ্বাস স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ  নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও সাভার রেড জোনের আওতাভুক্ত অঞ্চলের গার্মেন্টস গুলো পরিচালনার ক্ষেত্রে অবশ্যই স্বাস্থ্য সুরক্ষা সুনিশ্চিত করার ব্যাপারে জোর দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়। আর স্বাস্থ্য সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় থেকে সার্বিক সহযোগীতা প্রদানের আশ্বাস প্রদান করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা(করোনা) হাসপাতালে দ্রুততম সময়ে দক্ষ টেকনেশিয়ান প্রেরণ সহ করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবা আরো গতিশীল করার ব্যাপারে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন তিনি।

রোববার ৩ মে দুপুর ২টায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দেশে বিদ্যমান করোনা পরিস্তিতির প্রেক্ষাপটে পোশাক শিল্প স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালু রাখার প্রক্রিয়া এবং বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় মন্ত্রী এমন আশ্বাস প্রদান করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এর সভাপতিত্বে সভায় বিকেএমইএ’র প্রতিনিধিত্ব করেন বিকেএমইএ সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-০৫ আসনের সংসদ সদস্য এ.কে.এম সেলিম ওসমান।

উক্ত সভায় তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রী দৃষ্টি আকর্ষন করে নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালের করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদানে চিকিৎসকে প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ রাখেন। পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

এদিকে, সভায় করোনা সংকট বাংলাদেশে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভাবে কীভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে সেটি নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে সাধারণ ছুটির কারণে গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রভাব এবং জীবন ও জীবিকায় স্থবিরতা এনেছে বলে উল্লেখ করা হয়। এই প্রেক্ষাপটে গত ২৬এপ্রিল থেকে সীমিত আকারে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে গার্মেন্টস কারখানা চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু সামগ্রিক সমন্বয়ের অভাবে কোথাও কোথাও এতে কিছুটা সমস্যা তৈরি হচ্ছে বিধায় সামনের দিনগুলোতে গার্মেন্টস কারখানায় সুরক্ষা বিধি মেনে কারখানা পরিচালনার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ^াস প্রদান করেন।

বিশেষ করে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও সাভার রেড জোনের আওতাভুক্ত হওয়ায় এসব অঞ্চলের কারখানাগুলো পরিচালনার ক্ষেত্রে অবশ্যই স্বাস্থ্য সুরক্ষা সুনিশ্চিত করার ব্যাপারে জোর দেয়া হয়। কোনো অবস্থাতেই স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা ব্যতীত কারখানা পরিচালনা করা যাবে না। তাছাড়া কোনো কারখানায় কোনো করোনা রোগী পাওয়া গেলে, স্বাভাবিক নিয়মেই সেই কারখানা আংশিক বা পুরোপুরি লক-ডাউন হয়ে যাবে। তাই, স্বাস্থ্য সুরক্ষার পুরো বিষয়টি কঠোর মনিটরিং-এর মাধ্যমে নিশ্চিত করে কারখানা পরিচালনার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করে এমপি সেলিম ওসমান বলেন, ডাক্তার নার্স ও বাদ্রার্স যাদের কোন থাকার জায়গা ছিল না। বর্তমানে আমার তত্ত্ববধানে নারায়ণগঞ্জ বার একাডেমী স্কুল এবং নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে এদেরকে থাকা এবং খাওয়ার সুব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ীদেরকে সংঙ্গে সঠিক দিক নির্দেশনা পেলে আমরা তাদের জন্য আরো সুব্যবস্থা করবো। নারায়ণগঞ্জের আরএমজি সেক্টরের শ্রমিকদের জন্য সেখানে ৩০০ শয্যার মধ্যে ১০০টি শয্যা গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ থাকে। যার ফলে গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা আরো বেশি সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিবে বলে আমি বিশ্বাস করি। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে কৃতজ্ঞতার সাথে ধন্যবাদ জানাচ্ছি উনি খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালকে দ্রুত করোনা হাসপাতালে রূপান্তরিত করেছেন। এছাড়াও স্বাস্থ্যমন্ত্রী সহ মন্ত্রনালয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি বেনজীর আহম্মেদ সহ সকল পুলিশ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি উনারা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে করোন ভাইরাস মোকাবেলায় প্রয়োজনী সকল কর্মকান্ড পরিচালনা করে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য যে, নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটিকে ইতোমধ্যে করোনা চিকিৎসার হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। করোনা সংক্রান্ত পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় টেস্টিং কীটস্ ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি ইতোমধ্যেই উক্ত হাসপাতালে পৌঁছেছে। শুধুমাত্র সঠিক টেকনিশিয়ান-এর অভাবের কারণে সেটির করোনা সংক্রান্ত কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু করা যাচ্ছে না। সভায় বিকেএমইএ সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি এ.কে.এম সেলিম ওসমান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালটিতে প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি দ্রুত প্রেরণের দাবি জানান। এর প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য মন্ত্রী সত্ত্বর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ^াস দেন। এটি বাস্তবায়িত হলে নারায়ণগঞ্জের মানুষদের উক্ত ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে করোনা সংক্রান্ত টেস্ট ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে আর কোনো বিপত্তি থাকবে না।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব আসাদুল ইসলাম, বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক, বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন, পুলিশের আইজিপি বেনজীর আহমেদ, বিপিএম (বার), শিল্প পুলিশের মহাপরিচালক আব্দুস্ সালাম, পিপিএম, বাংলাদেশ মেডিক্যাল এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বিকেএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি (অর্থ) মোঃ মোর্শেদ সারওয়ার সোহেল প্রমুখ।

1