তামিম-মাশরাফির প্রাণবন্ত আড্ডার অজানা গল্পগুলো

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ  লড়াই, ঘুরে দাঁড়ানো ও দেশের জার্সির জন্য নিবেদিত এক ‘নেতা’ মাশরাফি বিন মুর্তজা বাংলাদেশের এন্তার তরুণ ক্রিকেটারের প্রেরণা। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সেরা অধিনায়কের তকমাটা মাশরাফির নামের পাশেই। বাংলাদেশের প্রথম অধিনায়ক হিসেবে ৫০টি ওয়ানডে জয়ের কৃতিত্ব দেখিয়েছেন তিনি। গত মার্চে এক দুর্দান্ত অভিযাত্রার সমাপ্তি ঘটেছে অধিনায়ক মাশরাফির। মাশরাফির হাত থেকে হাত-বদল হয়ে ওয়ানডে ক্যাপ্টেনসি পেয়েছেন তামিম ইকবাল। ফেসবুক লাইভে সোমবার রাতে প্রায় এক ঘণ্টা প্রাণবন্ত আড্ডা দেন বাংলাদেশে সাবেক ও বতমান দুই ওয়ানডে অধিনায়ক। সেই আড্ডায় উঠে আসে মাঠের ভেতরে-বাইরের অনেক দিক।
অধিনায়ক মাশরাফির সেরা তিন জয়
২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের অধিনায়কত্ব পেয়েছিলেন মাশরাফি। কিন্তু হাঁটুর চোটের কারণে খুব বেশিদিন দায়িত্ব চালিয়ে যেতে পারেননি।
এরপর ২০১৪ সালের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের আগে নেতৃত্ব ফিরে পান ম্যাশ। শুরু হয় অধিনায়ক হিসেবে তার গৌরবময় পথচলার। ৮৭ ওয়ানডের পাশাপাশি ২৮ টি-টোয়েন্টিতে (জয় ১০টি) বাংলাদেশের নের্তৃত্ব দিয়েছেন মাশরাফির। অধিনায়ক মাশরাফির কাছে সেরা তিন জয়ের তালিকার তিনটিই ওয়ানডেতে। সেরা তিন জয় সম্পর্কে মাশরাফি বলেন, ‘ইংল্যান্ডের সঙ্গে বিশ্বকাপে যেটাই আমরা কোয়ার্টার ফাইনাল খেললাম (২০১৫ বিশ্বকাপ)। তারপর বলতে হয় চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে (২০১৭) সাকিব-রিয়াদের সেঞ্চুরিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটা অবিশ্বাস্য। ইংল্যান্ডের সঙ্গে ঘরের মাঠে (২০১৬ মিরপুরে) দ্বিতীয় ম্যাচটা, তাসকিন তিনটা উইকেট পেল।’
সাকিব-তামিমরা মাশরাফির কাছে ‘ভাইয়ের মতো’
বাংলাদেশ ক্রিকেটের পঞ্চপান্ডব বলা হয় মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিক ও মাহমুদুল্লাহকে। খুব কাছ থেকে মাশরাফি দেখেছেন সাকিব-তামিমদের বিশ^সেরা হয়ে ওঠা। ভালো কিংবা খারাপ সময়ে আগলে রেখেছেন তাদের। দলের সব ক্রিকেটারদেরই আগলে রাখতেন সদ্য সাবেক অধিনায়ক। দীর্ঘদিন এক সঙ্গে খেলায় সাকিব-তামিম-মুশফিক-মাহমুুদুল্লাহদের সঙ্গে মাশরাফির সম্পর্কটাও হয়েছে গভীর। তিনি বলেন, ‘তোরা যারা আছিস, আমার ভাইয়ের মতো। তুই, সাকিব, রিয়াদ, মুশফিক…এখন যারা আসছে, তারাও। সবসময় চাই, তোরা ভালো করবি বাংলাদেশের জন্য। আমি সত্যি বলতে, সবসময় গর্ব করব যে তোদের সঙ্গে খেলেছি। তুই সবচেয়ে বেশি রান করেছিস বাংলাদেশের হয়ে সব ফরম্যাটে। সাকিব বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার তো বটেই, ইম্প্যাক্ট ক্রিকেটারও। আজ বেন স্টোকসের কথা বলা হয়, সাকিবও কিন্তু ওই জায়গায়। মুশফিককে দেখেছি, ২২-২৩ গড় ছিল। গত তিন-চার বছরে সে ওটাকে ৩৬-৩৭ গড়ে নিয়ে গেছে। অবিশ্বাস্য! রিয়াদ তো ভিভিএস লক্ষনের মতো। সবসময় হয়তো রান করবে না, কিন্তু দলের যখন প্রয়োজন, তখন সবসময়ই দাঁড়িয়ে যায়।’
মাশরাফির ‘স্পেশাল পাওয়ার’ চাই তামিমের
‘আমি সবসময়ই বিশ্বাস করি মাশরাফি ভাই, আপনার সঙ্গে স্পেশাল কোনো পাওয়ার, জ্বিন-টিন কিছু একটা আছে। আমি আপনার মত অধিনায়ক হতে পারব হয়তো, কিন্তু আপনার জ্বিনটাকে কোত্থেকে আনব? অনেক সময়ই এমন হয়েছে, বলেছি যে মিরাজকে বোলিং দিয়েন না। আপনি এনেছেন, দেখি দ্বিতীয় বলে উইকেট পেয়ে গেছে। রিয়াদ ভাইয়ের (মাহমুুুদুল্লাহ) ক্ষেত্রে অনেকবার হয়েছে, আনার পরই উইকেট পেয়েছে। স্পেশাল পাওয়ার ছাড়া তো হয় না!’
মাশরাফি অবশ্য ক্রিকেটীয় উত্তরেই বুঝিয়ে দিয়েছেন, এই জ্বিনকে চাইলেই পাওয়া সম্ভব। ‘স্পেশাল পাওয়ার আমি তোকে বললাম….তুই অধিনায়ক থাকলে হয়তো তখন অফ স্পিনার বোলিং দিতি না, তাই তো? এটাই তোর স্পেশালিটি। আমার মন বলেছে, তাই অফ স্পিনার দিয়েছি, এটাই আমার স্পেশালিটি। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। আমি নিশ্চিত যে তুই তোর স্পেশালিটি নিয়েই সফল হবি।’
তামিমের নেতৃত্বে সফলতা পাবে বাংলাদেশ
‘তামিম, তোর মধ্যে অনেক সম্ভাবনা আছে। নেতৃত্বের সব গুণাবলি আছে তোর মধ্যে। দেখবি, অধিনায়ক হিসেবে তুই ভালো করবি। তোর হাতে ভালো অস্ত্র (ক্রিকেটার) আছে। আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখ দেখবি তোর অধিনায়কত্বে দল অনেক সফলতা অর্জন করবে। তুই কিন্তু আগে অধিনায়কত্ব নিতে চাইতি না। যেহেতু বিসিবিকে তোকে দায়িত্ব দিয়েছে, তুইও গ্রহণ করেছিস। সামনে ভালো কিছুই অপেক্ষা করছে। মনোবল হারাবি না। তুই যেভাবে মনে করবি দল সফল হবে সেভাবেই সিদ্ধান্ত নিবি। সাকিব, মুশফিক, রিয়াদ ওরা আছে। ওদের কাছ থেকে পরামর্শ নিবি। দেখবি সবকিছু সহজ হয়ে যাবে। তোর জন্য শুভকামনা’।

1