নারায়ণগঞ্জে রাতের আধারে ঘরে ঘরে খাদ্য পৌছে দিচ্ছেন শাহ ফয়েজ

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ  সারাবিশ্বে মহামারি আকার ধারন করা মরনঘাতি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারাদেশে একটানা লকডাউনের কারণে ঘরবন্দী থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে মানুষ।
বিশ্বজোড়া করোনার তাণ্ডব। দেশে দেশে মৃত্যুর মিছিল। মানুষের অসহায়ত্ব। আতঙ্ক। ভয়। কারওই যেন কিছু করার নেই। প্রেম ভালোবাসা ছিটকে পড়েছে বহু দূরে। মানবিকতা হারিয়ে গেছে সমাজ থেকে। এমনই এক সময় আশার আলো দেখায় কিছু মানুষ। তাদের দেখে মনে হয় এ এক অন্য বাংলাদেশ। মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এসব মানুষ। করোনা ভয় দূরে ঠেলে তারা এগিয়ে এসেছেন মানবিক হয়ে। মানবতার বার্তা নিয়ে হাজির হচ্ছেন মানুষের সামনে। করোনা মহামারীর মধ্যে নিজের জীবনের ঝুঁকি জেনেও কাজ করছেন অন্যের কল্যানে।

এমনই একজন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ১৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা জেলা যুবলীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক শাহ ফয়েজউল্লাহ ফয়েজ। দেশে করোনা শনাক্তের পর থেকেই গোপনে নিজ এলাকার মানবসেবায় নিয়োজিত রয়েছেন তিনি।

কার্যত লকডাউনের মধ্যেই রাতের আধারে গোপানে নিজ এলাকা ১৩নং ওয়ার্ডের অসহায় মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে পৌছে দিচ্ছেন খাদ্য সামগ্রী। একেবারেই নিজস্ব অর্থায়নে অনেকটা গোপনে গরীব ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। করোনার এই ভয়াল পরিস্থিতিতে রাতের আধারে হরদম ছুটছেন তিনি। খোঁজ রাখছেন এলাকায় কষ্টে থাকা মানুষের হাড়ির খবর। যার উনুনে জ্বলছে না আগুন, যার ঘরে নাই দু’মুটো চাল-ডাল, দাঁড়াচ্ছেন তাদের পাশে। বাড়িয়ে দিচ্ছেন সহায়তার হাত।

এ বিষয়ে কথা হলে শাহ ফয়েজ জানান, মানবসেবা করে প্রচার করতে চাই না। আমাদের ধর্মে তো আছে গোপনে দান করার। তাই গরীব ও অসহায়দের নিরবেই দান করছি। একটানা লকডাউনের কারণে শুধু দিনমজুর বা হতো দরিদ্ররাই নন, মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোও খাদ্য সংকটে ভুগছে। তারা না পারছেন কাউকে বলতে, না পারছেন চাইতে। দেশের চলমান এই সংকট নিরসনে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহন করলেও সবকিছু সরকারের একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। সমাজের মানুষ হিসেবে আপনারও কিছু দ্বায়বদ্ধতা আছে, ধর্মীয়ভাবেও দ্বায়বদ্ধতা আছে। সেই দায়বদ্ধাতা থেকেই সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি নিজ এলাকার মানুষের পাশে দাড়াতে।

তিনি আরো বলেন, সংকটে পতিত এসব মানুষের সাহায্য করে আপনি তাদের সাহায্য করছেন না, বরং নিজেকেই সাহায্য করছেন। কারণ, এ সব মানুষ যখন আপনার উপহার পেয়ে তৃপ্তির হাসি হাসবেন আর মন থেকে খুশি হবেন, তখন সেটাই হবে আপনার জন্য বড় দোয়া। বড় পাওয়া। তাই শুধু পাশে থেকে এলাকার মানুষের মুখে কিছুটা হাসি ফোটানো আর আল্লাহকে খুশি করার প্রয়াস মাত্র আমার এই কর্মসূচী।

জানা গেছে, করোনাভাইরাসের প্রথম থেকেই সাধারন জনগনকে সচেতন করার লক্ষ্যে প্রায় ১০ হাজার হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ১০ হাজার মাস্ক, ৫০০ কেজি ব্লিচিং পাউডার মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌছে দিয়েছেন শাহ ফয়েজ। পরবর্তীতে লকডাউনে গৃহবন্দী নাসিক ১৩ নং ওয়ার্ডের ৪ হাজার অসহায় মানুষের জন্য খাদ্য উপহার সামগ্রী বিতরণ করার উদ্যোগ নেন তিনি। ইতিমধ্যেই প্রায় ২৫ শ পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌছে দিতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। বাকি খাদ্য সামগ্রীগুলোও খুব দ্রুত বিতরণ করা হবে বলে জানান তিনি।

1