সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম:  শ্রমজীবী মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য ন্যায্য মুল্যের খাদ্য কার্ড এবং রেশন ব্যবস্থা চালু, করোনা সংক্রমণের প্রেক্ষিতে কর্মহীন হয়ে বিপর্যস্থ শ্রমিক পরিবার প্রতি মাসে কমপক্ষে ৮ হাজার টাকা হারে নগদ সহায়তা প্রদান, হেলথ কার্ড ও বীমা চালু করে শ্রমজীবীদের বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, শ্রমিকের সন্তানদের করোনাকালের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেতন-ফি মওকুফ, করোনা প্রেক্ষিতে শ্রমিকদের বাসা ভাড়া ও গণপরিবহন ভাড়া সহায়তা স্কিম চালু, শ্রমঘন এলাকায় হাসপাতাল ও করোনা টেস্ট এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারিনটিনের ব্যবস্থা, করোনা সংক্রমিত হয়ে কর্মরত অবস্থায় শ্রমিকের মৃত্যুতে সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা, প্রবাস ফেরত শ্রমিকদের কর্মসংস্থান করতে কর্মসৃজন কর্মসূচী গ্রহণ এবং পাট শিল্পের আধুনিকায়নে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ-স্কপ এর প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের জন্য ২০২০-২১ অর্থ বছরের বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার দাবিতে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের উদ্যোগে আজ সকাল ১১ টায় অর্থমন্ত্রী বরাবর জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এর পূর্বে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতীকী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব এর সভাপতিত্বে কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সহ-সভাপতি এম এ মিল্টন, রি-রোলিং স্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্টের জেলার সাধারণ সম্পাদক এস এম কাদিও, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বাজেটে বরাবরই শ্রমজীবী মানুষের অধিকার উপেক্ষিত হয়েছে। ৬ কোটি ৩৫ লক্ষ শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থান ও শ্রম অধিকার দেখ-ভাল করার দায়িত্ব প্রাপ্ত দুটি মন্ত্রণালয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জন্য ২০১৯-২০অর্থ বছরে বরাদ্দ ছিল মাত্র ৯০৮ কোটি টাকা যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মোট বরাদ্দের মাত্র ২ শতাংশ। করোনা দুর্যোগ দেখিয়ে দিয়েছে, একদিকে শ্রমজীবী মানুষ কত অসহায়! কত নিরাপত্তাহীন! অন্যদিকে দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরানোর জন্য তাদের অবদান কত গুরুত্বপূর্ণ! প্রবাসী শ্রমিক আর গার্মেন্টস শ্রমিকরা তাদের রক্ত-ঘামের বিনিময়ে যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে সেটাই ছিল দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি। অথচ সেই শ্রমজীবী মানুষকে করোনা দুর্যোগ থেকে রক্ষা করতে রাষ্ট্র পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে পারেনি। রাষ্ট্র এখনও অসুস্থ শ্রমিকের সম্পুর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শ্রমিকদের করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যে কারখানায় ডেকে এনে তারপর তাদের দায়িত্ব নিচ্ছে না। সরকার-মালিক-শ্রমিক ত্রিপক্ষীয় সভার সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে করোনাকালে গার্মেন্টসগুলোতে ব্যাপক ছাঁটাই চলছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে শ্রমিকদের প্রাপ্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করে কারখানা থেকে বের করে দিচ্ছে। আমরা প্রত্যাশা করি, শ্রমজীবী মানুষই যে অর্থনীতির চালক, এই সত্যটি রাষ্ট্র উপলব্ধি করবে এবং আগামী বাজেটে ব্যক্তি পর্যায়ে প্রত্যক্ষ করের হার বৃদ্ধি করে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য কমানো এবং উপরোক্ত ৯ দফা বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ প্রদানের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
মানববন্ধন শেষে নেতৃবৃন্দের একটি প্রতিনিধিদল জেলা প্রশাসকের হাতে অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি তুলে দেন।

1