স্বামী-শাশুরীর অমানবিক নির্যাতনে প্রতিবন্ধী গৃহবধু মৃত্যুর পথযাত্রী!

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম:  বন্দরে প্রতিবন্ধী গৃহ বধূর উপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে । কয়েক বছর আগে ফরাজীকান্দা পূর্ব পাড়া মাদরাসা রোড নিবাসী মৃত এমারত হোসেন এবং হামিদা আক্তারের মেয়ে শাহনাজ আক্তার (২৮)’র সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ শহিদ নগর এলাকার শাহ জামাল(৩৫) এর সাথে বিবাহ হয়। তাদের সাড়ে তিন বছরের একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান আছে নাম সুরাইয়া আক্তার।

প্রতিবন্ধী হবার কারনেই কাল হয়ে দাড়ায় শাহনাজ আক্তার। স্বামী- শ্বাশুরী কর্তৃক অমানবিক নিযার্তন সহ্য করতে হয় দিনের পর দিন। কিন্তু একমাত্র কন্যা সন্তানের কথা চিন্তা করে তাদের সব অমানবিক নির্যাতন মুখ বুজে সহ্য করে আসছেন তিনি । গত দুমাস আগে খুন্তি ছ্যাকা দিয়ে মেয়ে রেখে বাপের বাড়ী তাড়িয়ে দেয় স্বামী শাহ জামাল। মৃত পিতার বাড়ী বন্দরে এসে কয়েকদিন থাকাকালিন সময়ে কলাগাছিয়া ইউনিয়ন ১নং ওয়ার্ড মেম্বার মো: কচি তাকে প্রতিবন্ধীর আর্থিক সহায়তা পাবার জন্য উপজেলা পরিষদে নিয়ে গেলে বন্দর উপজেলা নিবার্হী অফিসার শুক্লা সরকার তাকে বাচ্চাসহ একটি ছাগল উপহার দেয়।

খবর পেয়ে লোভী স্বামী-শাশুরী তাকে নিতে আসলে প্রতিবন্ধী শাহনাজ তার একমাত্র সন্তানের মায়া ছারতে না পেরে আবারও তাদের সাথে তার শ্বশুরবাড়ী শহিদ নগর চলে যায়। তার স্বামী তাকে না জানিয়ে সে ছাগল দু’দিনের মধ্যেই বিক্রি করে দেয়। পরে জানতে পারলে শাহনাজ আক্তার প্রতিবাদ করলে তার স্বামী তাকে অকথ্য ভাষায় গালামন্দসহ প্রচন্ড মারধর করে। তাকে বিভিন্ন যায়গায় ভিক্ষা করতে বলে। একমাত্র মেয়েকে দেখাশোনা করার জন্য বাসায় থাকতে চাইলে জোর পূর্বক তাকে হুইল চেয়ারে বসিয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন অলি গলিতে ছেড়ে আসতো পাষন্ড স্বামী । প্রতিবন্ধী স্ত্রীর ভিক্ষার টাকাই একমাত্র সম্বল ছিল লম্পট পাষন্ড স্বামী শাহ জামালের। এদিকে প্রতিবন্ধী স্ত্রী সারাদিন হুইল চেয়ারে বসে ভিক্ষা করত অথচ লম্পট স্বামী ভিক্ষার টাকা নিয়ে বাসায় বিভিন্ন মেয়ে নিয়ে অবাধে মেলামেশা ও তাদের নিয়ে নেশায় মত্ত থাকতো।

যখন শাহনাজ ভিক্ষা করে বাসায় ফিরত তখন দেখতো তার ৩ বছরের একমাত্র মেয়ে সুরাইয়া অবহেলায় না খেয়ে পড়ে আছে খাটের এক কোনায়। মাতাল লম্পট শাহ জামাল তার চোখের সামনে মেয়ে নিয়ে মেলামেশা এবং রাত কাটাচ্ছে ।

অসহায় প্রতিবন্ধী শাহনাজ আক্তার প্রতিবাদ করলে তাকে স্বামী,শ্বাশুরী মিলে গরম খুন্তির ছ্যাকা পিঠের নিজ থেকে পায়ের উপর দিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালায়। চুল কেটে তার মেয়ে রেখে আধমরা অবস্থায় তার মায়ের বাড়ীতে পাঠায়।

শাহনাজের ভাই তার একমাত্র বোনের এ রকম নির্যাতনের ঝাপ দেখে বন্দর থানায় সাধারন জিডি করতে গেলে এক পুলিশ কর্মর্কর্তা বলেন‘‘ জিডি এখানে করা যাবে না, যেখানে নির্যাতিত হয়েছে সেই শহিদ নগর এলাকার থানায় জিডি করতে হবে । শারিরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে নারায়ণগঞ্জ পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গেলে চিকিৎসক বলেন যে তার পিঠের মাংস পচে ক্যান্সার হয়েছে। বর্তমানে তার অবস্থা খুবই আশংকাজনক। যে কোন সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে পারে সে । এ রকম অমানবিক নির্যাতনের জন্য মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সঠিক বিচার চেয়েছেন নির্যাতিত অসহায় প্রতিবন্ধী মৃত্যু শয্যাশায়ী শাহানাজ আক্তার ও তার পরিবার।

1