সুশান্তের শেষ ইনস্টাগ্রাম পোস্টেই ছিল অবসাদের সুর

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম:  সুশান্ত সিং রাজপুতের ইচ্ছা ছিল অস্ট্রোনট হওয়ার। কিন্তু সবই অধরা থেকে গিয়েছিল। ভাগ্যের খেলায় গ্ল্যামার দুনিয়ায় চলে এসেছিলেন। শুরু করেছিলেন অভিনয় জীবন। কিন্তু সাত বছরের অভিনয়জীবনের শীর্ষে পৌঁছানোর পর নিজেকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। সুশান্তের মৃত্যুর ঘটনাকে প্রাথমিক তদন্তে আত্মহত্যা বলেই মনে করছে পুলিশ। তবে অন্য সুর শোনা গেছে তাঁর মামা আরপি সিংয়ের গলায়। তাঁর অভিযোগ, এটা আত্মহত্যা নয়, এটা ঠান্ডা মাথায় করা খুন।
আমি চাই গোটা বিষয়ের পূর্ণ তদন্ত হোক। সুশান্ত আত্মহত্যা করতে পারে না’। পুলিশ অবশ্য সুশান্তের ফ্ল্রাট থেকে কোনও সুইসাইড নোট পায় নি। তবে পাওয়া গিয়েছে একটি প্রেসক্রিপশান ও কিছু ওষুধ। যার ভিত্তিতে পুলিশ জানিয়েছে, অবসাদে ভুগছিলেন সুশান্ত। সেই অবসাদের সুর শোনা গেছে সুশান্তর শেষ ইনস্টাগ্রাম পোস্টে। এক সপ্তাহ আগে মায়ের উদ্দেশে লেখা সেই পোস্টে সুশান্ত লিখেছিল, ‘আবছা অতীতের বাষ্প চোখের জলে ঝরে পড়েছে..অফুরন্ত স্বপ্ন একটা হাসি খুজেই চলেছে.. এবং জীবন দ্রুত পরিবর্তনশীল, দুইয়ের মাঝে আমি ঝুলে রয়েছি..মা’। স্বপ্ন আর বাস্তবের বেড়াজালে যে আটকে পড়েছিলেন তরুণ এই অভিনেতা সেটাই ধরা পড়েছে পোস্টের ছত্রে ছত্রে। অতীত পিছু ডাকছিল, কিন্তু সোনালি ভবিষ্যতের তাড়নাও তো কম ছিল না। খুব অল্প বয়সেই মাকে হারিয়েছিলেন সুশান্ত সিং রাজপুত। ২০০২ সালে মৃত্যু হয়েছিল সুশান্তের মায়ের। ছেলের আকাশছোঁয়া সাফল্যের ছিটে ফোঁটাও দেখে যেতে পারেননি সুশান্তের মা। শুধু তাই নয়, একটা আক্ষেপ আজীবন সুশান্তকে তাড়া করে বেড়িয়েছে। মায়ের শেষ আবদার রাখেননি তিনি,এমনকি মায়ের মৃত্যুতে এক ফোঁটা চোখের জল ফেলেননি সুশান্ত সিং রাজপুত। এক সাক্ষাৎকারে সুশান্ত জানিয়েছিলেন, মা একদিন রাত ১১.৩০ নাগাদ আমাকে ফোন করে অঝোরে কাঁদছিল। আমি প্রশ্ন করি কাঁদছ কেন? কী হয়েছে? মা জবাবে বলেছিল..তুই বাড়ি চলে যায় বাবা, আমি বলেছিলাম এখন যাওয়া সম্ভব নয়, মা চুপ করে গিয়েছিল। বলেছিল তুই নিজের খেয়াল রাখ, যতœ নে শরীরের। পরের দিন সকালে খবর পেলাম মায়ের মৃত্যুর। ব্রেন হামারেজে মা মারা যায়। বিশ্বাস করুন আমি এক ফোঁটা চোখের জল ফেলেনি। একটুকুও কাঁদতে পারিনি’। মায়ের মৃত্যু সুশান্তের জীবনে বিরাট শূন্যতা তৈরি করেছিল। সেই খালি জায়গাটা কোনওদিনই পূরণ হয়নি। কেরিয়ারের শুরুতে বিরাট সাফল্য এলেও শেষ কয়েক বছর তেমন সাফল্য আসেনি। ডিজিট্যাল প্ল্যাটফর্মে সুশান্ত-জ্যাকলিনের ’ড্রাইভ’ও ব্যর্থ হয়। মুক্তির অপেক্ষায় থাকা সুশান্তের ’দিল বেচারা’ও শুরু থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেছে। সব মিলিয়ে অবসাদ যে বেশ খানিকটা আঁকড়ে ধরেছিল সুশান্তকে তা স্পষ্ট হয়েছে সুশান্তের শেষ ইনস্টাগ্রাম পোস্টে।

1