বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু বন্ধ ও সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দাবিতে বিক্ষোভ

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম:  বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু বন্ধ, সবার জন্য স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা, বাজেটের ২০ ভাগ স্বাস্থ্যখাতে এবং ২৫ ভাগ শিক্ষাখাতে বরাদ্দের দাবিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে আজ সকাল ১১ টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতীকী মানববন্ধন অনুুষ্ঠিত হয়। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সুলতানা আক্তারের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক নিখিল দাস, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সহ-সভাপতি জেসমিন আক্তার, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শিমুল, অর্থ সম্পাদক মুন্নি সরদার, নারায়ণগঞ্জ কলেজের আহ্বায়ক রায়হান শরিফ, ফতুল্লা থানার সংগঠক ফয়সাল আহম্মেদ রাতুল।
মানববন্ধনে সুলতানা আক্তার বলেন,করোনা সংক্রমনের চরম সংকটে বাংলাদেশ। আতংক যেন শ^াসরোধ করে রেখেছে গোটা বাংলাদেশের। আরেকদিকে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সাধারণ মানুষেন জীবনয়াত্রা ব্যাহত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সরকার গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০-২১ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেছে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় একটি ভিন্নমাত্রার বাজেট ঘোষণা হবে এটা দেশবাসী প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু সবাইকে হতাশ করে অর্থমন্ত্রী একটি গতানুগতিক লোক দেখানো বাজেট পেশ করেছেন। করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের চিকিৎসার দৈন্য দশা প্রকাশ্যে বেরিয়ে এসেছে। কোভিড মোকাবেলা তথা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নতির জন্য বড় ধরণের বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু স্বাস্থ্য খাতে বাজেটের মাত্র ৫.১৪ শতাংশ বরাদ্দ হয়েছে, যা টাকার অংকে কিছুটা বাড়লেও সময়ের প্রয়োজনে হতাশাজনক। এই খাতে জিডিপির ১ শতাংশেরও কম বরাদ্দ করা হয়েছে। সামরিক খাতসহ অনুৎপাদনশীল খাতগুলোতে যেভাবে বরাদ্দ হয়েছে সেক্ষেত্রে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, সামাজিক সুরক্ষা খাতে প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল বরাদ্দ হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রমে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। কখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু হবে সেটা অনিশ্চিত। ফলে করোনা পরবর্তীতে শিক্ষা কার্যক্রমকে গতিশীল করা এবং করোনার মতো দুর্যোগ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে শিক্ষাব্যবস্থার ছাত্রদের ১ বছরে বেতন ফি মওকুফ করা আজ সময়ের দাবি। যদি সেটা না হয় তাহলে শিক্ষাব্যবস্থার সর্বব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে ইউনেস্কোর সুপারিশ অনুযায়ী জাতীয় বাজেটের কমপক্ষে ২৫ ভাগ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ খুবই প্রয়োজন। কিন্তু আমরা প্রস্তাবিত বাজেটে দেখলাম ১৫.১০ শতাংশ শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ হয়েছে। যেখানে গণবিরোধী রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের খরচ অর্ন্তভুক্ত। করোনা মহামারিতে যখন দুনিয়ার দেশে দেশে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের বাজেট হচ্ছে তখন আমাদের সরকার জনগণের সংকটমোচনের পথ পরিহার করে উচ্চাভিলাসী অবাস্তবায়নযোগ্য কাল্পনিক বাজেট উপস্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।
নেতৃবৃন্দ প্রস্তাবিত ২০২০-২১ বাজেট সংশোধন করে শিক্ষা খাতে বাজেটের ২৫ ভাগ এবং স্বাস্থ্যখাতে ২০ ভাগ ও গবেষণা খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং ছাত্রদের এই বছরের বেতন-ফি মওকুফ করার জোর দাবি জানান।

1