জাহানারা ইমামরে ২৬ তম মৃত্যু দবিস উপলক্ষে বাসদরে আলোচনা সভা

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম:  শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ২৬ তম মৃত্যু দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে আলোচনা সভা আজ বিকাল ৪টায় ২নং রেলগেট¯হ বাসদ জেলা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বাসদের জেলা সমন্বয়ক নিখিল দাসের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা ফোরামের সদস্য আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, বাসদ ফতুল্লা থানার সমন্বয়ক এম এ মিল্টন , সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সুলতানা আক্তার, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সংগঠক প্রদীপ সরকার। আলোচনার পূর্বে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্পন করেন বাসদ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ও চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নেতৃবৃন্দ।
নিখিল দাস বলেন, শহীদ জননী জাহানারা ইমাম ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন দূরারোগ্য ক্যান্সারে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর সন্তান রুমি মুক্তিযুদ্ধের গেরিলা কমান্ডার ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন। একাত্তরের দিনগুলি’র লেখক জাহানারা ইমাম লেখক হিসেবে সুখ্যাতি থাকলেও সবকিছু ছাপিয়ে ৭১ এর ঘাতক বিরোধী আন্দোলনে নেতা হিসেবে জনগণের সামনে উপস্থাপিত হন। ১৯৯১ সালের ২৯ ডিসেম্বর গোলাম আযমকে জামায়াতে ইসলামের আমীর ঘোষণা করলে তিনি ব্যাথিত ও ক্ষুব্ধ হন। একাত্তরের যুদ্ধপরাধীদের বিচারের দাবিতে তিনি ১৯৯২ সালের ১৯ জানুয়ারিতে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠন করেন ও তিনি আহবায়ক নির্বাচিত হন। ১৯৯২ সালের ২৬ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে তাঁর নেতৃত্বে গণআদালতে যুদ্ধপরাধী গোলাম আযমের ফাঁসির রায় ঘোষিত হয়। এই লড়াই করতে গিয়ে পুলিশের আক্রমনে আহত হতে হয়েছে। শুধু তাই নয় রাষ্ট্রদ্রোহীর মামলা নিয়ে তাঁকে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে। তাঁর সেই দিনের লড়াই বৃথা যায়নি। ২০১২ সালে শাহবাগ গড়ে উঠা তরুণ প্রজন্মের গনজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনে সরকার যুদ্ধপরাধীদের বিচার করে ফাঁসি কার্যকর করতে বাধ্য হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, জাহানারা ইমাম যে অসাম্প্রদায়িক শোষণমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল তা আজও গড়ে উঠেনি। মুক্তিযুদ্ধের চার মূলনীতি- সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরেপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদÑ আজ ভুলুণ্ঠিত। সংবিধানে বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম রেখে সাম্প্রদায়িক করা হয়েছে। হেফাজতের পরামর্শে বর্তমান সরকার সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যে পাঠ্যপুস্তকে বিভিন্ন দেশ বরেণ্য মনীষীর লেখা বাদ দিয়েছে। সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, মুক্তমনা ব্যক্তিদের উপর হত্যার ঘটনা ঘটেছে এই বাংলায়। মৌলবাদীদের পৃষ্ঠপোষকতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে কওমী জননী উপাধী পেয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীতে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন দিয়ে এই করোনাকালেও ভিন্ন মত দমন করা হচ্ছে। যুদ্ধপরাধীদের বিচার হলেও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি এখনো বন্ধ হয়নি। এই করোনাকালে আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দৈন্যদশা ফুটে উঠেছে। সরকারের লোকজন যেমনি ত্রাণের ক্ষেত্রে তেমনি চিকিৎসা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে লুটপাট করেছে। বর্তমান সরকার মুক্তিযুেদ্ধর চেতনার বিপরীতে দেশ পরিচালনা করেছে। যা শহীদ জননী জাহানারা ইমাম কখনো ভাবতে পারেনি।
নেতৃবৃন্দ শহীদ জননী জাহানারা ইমামের স্বপ্নকে বুকে ধারণ করে একটি অসাম্প্রদায়িক, শোষণমুক্ত সমাজ রাষ্ট্র নির্মাণের জন্য রাজপথে লড়াই শুরু করার জন্য জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

1