করোনা প্রতিরোধে রাষ্ট্রকেই দায়িত্ব নিতে হবে—- সিপিবি

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম:  বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কমিটির উদ্যোগে ২৭ জুন ২০২০ইং রোজ শনিবার বিকাল ৪টায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার কদমতলী পুলে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কমিটির নেতা গুলজার হোসেন। বক্তব্য রাখেন, সিপিবি নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য বিমল কান্তি দাস, জেলা কমিটির সদস্য দুলাল সাহা, দিলীপ দাস, ইকবাল হোসেন, এম এ শাহীন, রনজিত কুমার দাস ও শ্রমিক নেতা আব্দুস ছালাম প্রমুখ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ডিএনডি বাঁধের প্রায় সর্বত্রই পানিতে ডুবে আছে। কোথাও কোথাও ঘর বাড়ী এমনকি রান্না ঘরে হাটু পানি। রাস্তাঘাটও পানিতে ডুবে আছে। কারখানার মেশিনপত্র পানির নিচে। বেশ কয়েক বছর যাবৎ সিপিবি, বাসদ, বামজোটসহ বিভিন্ন সংগঠন ডিএনডি জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের জন্য আন্দোলন করে আসছে। ইতিপূর্বে পদযাত্রা, সভা সমাবেশ ও ডিসি অফিস ঘেরাও কর্মসূচী পালিত হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল সেনাবাহিনীর উদ্যোগে জলাবদ্ধতা নিরসনের কার্যক্রম চলছে, কয়েক মাসের মধ্যেই সংকট সমাধান হয়ে যাবে। লক্ষ্য করলাম তিন বছর অতিবাহিত হতে চলল কিন্তু জলাবদ্ধতা আগের মতই আছে। এই জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার শতভাগ ব্যর্থ হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বিশ্ববাসী আজ করোনা মহামারীর সময় পার করছে। এদিকে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা একেবারেই ভেঙ্গে পড়েছে। করোনারোগীদের ক্ষেত্রে কোন চিকিৎসাতো নেই এমনকি অন্যান্য সাধারন রোগীরাও কোন ধরনের চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরে এম্বুলেন্সের মধ্যেই রোগীর মৃত্যু হচ্ছে। এ পরিস্থিতিরি মধ্যেও শ্রমিক ছাঁটাই হচ্ছে। হামলা মামলা হয়রানী চলছে। প্রায় ৪ কোটি মানুষ বিভিন্ন কারনে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। বামজোটের পক্ষ থেকে কর্মহীন মানুষদের খাদ্য সহায়তার দাবি জানিয়েছিলাম। সরকার কোন ব্যবস্থা করেনি। রাষ্ট্রীয়ভাবে চিকিৎসা ব্যবস্থা সচল করারও উল্লেখযোগ্য কোন উদ্যোগ দেখছি না। কীট থাকে না। জেলায় জেলায় ল্যাব নেই। হাসপাতালে আইসিউ বেড নেই। কোভিড-১৯ এর নমুনা পরীক্ষার জন্য হাজার হাজার মানুষ লাইন ধরে দাড়িয়ে থাকে, রিপোর্ট আসার আগেই রোগী মৃত্যুবরণ করে। ধনীক শ্রেনীর লোকেরা তাদের জন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেন মজুদ করে অথচ হাসপাতালে অক্সিজেন এর সরবরাহ নেই। ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হয়। পর্যাপ্ত সময় হাতে পাওয়ার পরও সরকার করোনা মোকাবেলায় কোন বাস্তব পদক্ষেপ নেয় নাই। এখন পর্যন্ত করোনা মোকাবেলার চাইতে বিভিন্ন মন্ত্রী এমপি ও দলীয় নেতা কমীরা লুটপাটে ব্যস্ত রয়েছে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মানুষ বাঁচানোর কোন উদ্যোগই আমরা দেখছি না।

নেতৃবৃন্দ করোনা মোকাবেলায় ১১ দফা দাবি জানিয়ে বলেন, বিষেষজ্ঞ পরামর্শ অনুসারে আপদকালীন জরুরী ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। সবার জন্য স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতি উপজেলায় করোনা নমুন সংগ্রহ কেন্দ্র, প্রতি জেলায় পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। সব হাসপাতালে হাই-ফ্লো অক্সিজেন ব্যবস্থাসহ অক্সিজেনের পর্যাপ্ত উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। শারীরিক দুরত্ব নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। আয়বিহীন ২ কোটি পরিবারকে করোনা বিপর্যয়কালীন সময় বিনামূল্যে খাদ্য-অর্থ সরবরাহ এবং স্থায়ীভাবে রেশনিং ব্যবস্থা করতে হবে। দুর্নীতি, লুটপাট, দলবাজি বন্ধ করতে হবে। ক্ষেতমজুর-দিনমজুরদের জীবন জীবিকা নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিক কর্মচারী ছাঁটাই বন্ধ করতে হবে। কালো টাকা ও অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে। স্বাস্থ্য-শিক্ষা-কৃষি-শিল্প-কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দিয়ে ৯৯% মানুষের স্বার্থে নতুন বাজেট প্রনয়ন করতে হবে।

1