নারায়ণগঞ্জে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের মানববন্ধন

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম:  রাষ্ট্রীয় পাটকলসমূহ বন্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিল করে পাটকলসমুহের আধুনিকায়নে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ-স্কপ এর প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন, করোনার কারণে দেশের এবং বিদেশ প্রত্যাগত কর্মহীনদের জন্য কর্মসংস্থান, শ্রমিকদের রেশন, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত ও করোনাকালে শ্রমজীবী পরিবার প্রতি মাসিক ৮০০০ টাকা হারে নগদ সহায়তা করতে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ, করোনাকালে শ্রমিক ছাঁটাই-নির্যাতন-মিথ্যা মামলা-লে অফ বন্ধের দাবিতে আজ সকাল ১১ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতীকী মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়। সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব এর সভাপতিত্বে মানববন্ধন কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সহ-সভাপতি এম এ মিল্টন, রি-রোলিং স্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক এস এম কাদির, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ, সহ-সাধারণ সম্পাদক হাসনাত কবীর।
মানববন্ধনে নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ২৫টি পাটকল বন্ধের সরকারী সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে বলেন, করোনা দুর্যোগে সারাদেশে শ্রমজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে অর্ধাহার-অনাহারে, বিনা চিকিৎসায় চরম অসহায়ত্বের মধ্যে দিনযাপন করছে, চরম অনিশ্চয়তায় পরে শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যাচ্ছে, প্রবাসী শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে অসহায় অবস্থায় দেশে ফিরে আসছে, কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে। এই কর্মহীনদের পুনর্বাসনের জন্য নতুন কর্মসংস্থান করা যখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব সেই সময় সরকার বরং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ২৫ টি পাটকল বন্ধ করে স্থায়ী, অস্থায়ী, বদলীসহ প্রায় ৭০ হাজার শ্রমিক এবং তাদের উপর নির্ভরশীল লক্ষ লক্ষ শ্রমজীবী মানুষকে বেকারত্ব আর অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেওয়ার অমানবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাটকলগুলির লোকসানের সঠিক কারণ অনুসন্ধানে নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করে দায়ীদের শাস্তি দিতে হবে। সংস্কারবিহীন পুরাতন যন্ত্রপাতি, মাথাভারী প্রশাসন, পাট ক্রয়ে এবং ব্যবস্থাপনায় দূর্নীতি, বি.জে.এম.সি‘র সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসুত্রিতা-অদক্ষতাই রাষ্ট্রীয় পাটকলগুলির লোকসানের কারণ। এরজন্য শ্রমিকরা কোন ভাবেই দায়ী নয়। পাট মন্ত্রণালয়ের আমলা আর বি.জে.এম.সি‘র কর্মকর্তাদের দুর্নীতির দায়ে শ্রমিকরা কেন বলী হবে?
নেতৃবৃন্দ বলেন, মজুতদার ব্যবসায়ীদের স্বার্থে সিজনে পাট না কিনে অফ সিজনে প্রতি মণ পাট ৮০০ থেকে ১১০০ টাকা বেশি দামে কেনা হয়। ভেজা পাট ক্রয়সহ অন্যান্য দুর্নীতি সত্ত্বেও শুধুমাত্র সিজনে সারাবছরের উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় পাট একবারে ক্রয় করায় ২০১০-১১ অর্থ বছরে এই পাটকলগুলি ব্রেক ইভেন পয়েন্টে ছিল। তাছাড়া আধুনিকায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় পাটকলগুলির উৎপাদন ও প্রতিযোগিতা ক্ষমতা বৃদ্ধি করে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ – স্কপ এর পক্ষ থেকে গতবছর ডিসেম্বর মাসে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দাখিল করা হয়। স্কপ দাখিলকৃত পাটশিল্প আধুনিকায়নের প্রস্তাব বাস্তবায়নে প্রয়োজন ১০০০ থেকে ১১০০ কোটি টাকা। পাট মন্ত্রণালয় তথা সরকার ১০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিকায়নের পরিবর্তে ২৫টি কারখানা বন্ধ করতে ৬০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে। করোনা পরবর্তীতে পরিবেশগত কারণেই বিশ্ব বাজারে পাট পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির সম্ভবনা রয়েছে। সেই সময় রাষ্ট্রীয় পাটকল সমূহ বন্ধ করে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপে পরিচালনার পরিকল্পনা মূলত রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি লুট করে বেসরকারী পাটকল মালিকদের লাভবান করতে সুবিধাভোগী আমলাদের কৌশল। রাষ্ট্রীয় পাটশিল্প বাংলাদেশের ঐতিহ্যের অংশ। রাষ্ট্রীয় খাত ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র নির্বিঘেœ বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না।
নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্রীয় শিল্প বন্ধের গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করে পাটকল আধুনিকায়নের জন্য বরাদ্দ, করোনা দুর্যোগে শ্রমজীবীদের জন্য বিশেষত মোট শ্রম শক্তির ৮৫ শতাংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক ও বিদেশ প্রত্যাগত শ্রমিকদের জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে কর্মসংস্থান, কর্মহীন শ্রমজীবী পরিবার প্রতি মাসিক ৮০০০ টাকা নগদ সহায়তা এবং সকল শ্রমজীবীদের জন্য রেশন, আবাসন, চিকিৎসা, স্বাস্থ্য বীমার জন্য বাজেটে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ করার দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ করোনাকালে শোভন গ্রুপসহ সকল কারখানার ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের চাকরিতে পুনর্বহাল, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, ফকির, অন্তিম গার্মেন্টসের শ্রমিকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি করেন।

1