স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য, জোরপূর্বক ড্রেন নির্মাণ,কেডার বাহিনী লালন

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম:   সোনারগাঁয়ের স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে জোরপূর্বক ড্রেন নির্মাণের কাজ করে পরিবেশ দুষন অব্যাহত রেখেছে চৈতি কম্পোজিট লিমিটেডের মালিক পক্ষ। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার টিপরদীতে অন্যের জমিতে জোরপূর্বক ড্রেন নির্মাণের কাজ করছে বলে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে চৈতি কম্পোজিটের ড্রেন নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম। কিন্তু চৈতি কম্পোজিট অদৃশ্য শক্তি ও স্থানীয় কেডার বাহিনীর ক্ষমতা বলে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ময়লা ও বর্জ্য মিশ্রিত পানি নিস্কাশনের ড্রেনের কাজ করে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে জাতীয় ভেজাল প্রতিরোধে ফাউন্ডেশন নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি সাংবাদিক সুলতান মাহমুদ ও সোনারগাঁ উপজেলা সভাপতি এডভোকেট সফর উদ্দিন সবুর এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক মোক্তার হোসেন গত শনিবার তথ্য সংগ্রহে চৈতি কম্পোজিট লিমিটেডে যান। কথোপকথন হয় ডিজিএম বদরুল ও মিজানুর রহমানের সাথে কিন্তু চৈতি কম্পোজিট কর্তৃপক্ষ উপস্থিত রাখে স্থানীয় কেডার পৌরসভার ছাত্রলীগ নেতা শারিয়ার হোসেন সাজুকে। উভয়পক্ষের আলোচনার মধ্যে ছাত্রলীগ নেতা সাজু ইন্টারফেয়ার করলে ও অশুভ আচরন করলে জেলা সভাপতি সাংবাদিক সুলতান মাহমুদ তাকে চুপ থাকতে বলেন এবং তাকে রোম থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।

প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করার ব্যপারে ডিজিএম বদরুল ও মিজান বলে, “আমরা কোন নির্দেশ পাই নাই, আমরা ইউএনও সাহেবের অফিসেও গিয়েছি তিনি আমাদের কোন নির্দেশ দেননি। আমরা পরিবেশ দুষন করছিনা, আমরা ২৪ ঘন্টা ইটিভি প্লান চালু রেখে পানির ময়লা ও বর্জ্য পরিস্কার করে ড্রেনে ছাড়া হয়। তবে পানির রঙটা পরিস্কার হয়না।” ড্রেনের ব্যপারে তারা বলে, “কোম্পানি ততকালীন ইউএনও থেকে অনুমোদন নিয়েই কাজ করছে, আমাদের কাছে ডকুমেন্টস আছে, আমরা ড্রেনের কাজ শেষ হলে তার উপর মাটি ফেলে রাস্তা করে, তার উপর গাছপালা লাগিয়ে সুন্দর পরিবেশ করে দিব যাতে এলাকার লোকজন ভাল পরিবেশে চলাফেরা করতে পারে।” ইটিভি প্লান থাকলে আপনারা পানি বাহিরে ফেলেন কেন? তার জবাবে ডিজিএম মিজান বলে, “আমরা এখনো ৩ আর প্লান শেষ করতে পারি নাই। তাই ইটিভির পরিশোধিত পানি রিইউজ করতে পারছিনা। আমরা ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ইটিভি প্লান করেছি, ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩ আর প্লান করার কাজ হাতে নিয়েছি, সরকার থেকে আমরা সময় নিয়েছি।” হাজার হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট করতে পারেন আর ৫ কোটি টাকার ৩ আর প্লান শেষ করতে পারেন না এটা কেমন কথা। তার কোন জবাব ডিজিএম মিজান ও বদরুল দিতে পারে নাই।

এব্যাপারে জাতীয় ভেজাল প্রতিরোধ ফাউন্ডেশন সোনারগাঁ উপজেলা সভাপতি সফর উদ্দিন সবুর ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক মোক্তার হোসেন গতকাল ২৮ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুল ইসলামের সাথে দেখা করে চৈতীর পরিবেশ দুষনের ব্যাপারে আলচনা করেন। ইউএনও বলেন,“আমি তাদের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি। নির্দেশ না মানলে তাদের বিরোদ্ধে আইনত কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

আজ ২৯ জুন সোমবার ইউএনও সাইদুল ইসলামকে কল করলে তিনি বলেন,“আমি তাদের কল করে আবারো কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি। আমি আমার সাধ্যমত চেষ্টা করছি পরিবেশ দুষনরোধে। আমাদের চোখের আড়ালে বা রাতের আঁধারে তারা কাজ করে যাচ্ছে। তাদের পিছনে অদৃশ্য শক্তি আছে বলে আমার ধারনা। তাদের সাথে বড় বড় টিভি মিডিয়া আছে, তাদের দিয়ে আমাদের বিরোদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যায়।তবুও আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাব” ততকালীন ইউএনও থেকে অনুমোদন নিয়ে তিনি বলেন,“ এমন একটা কাগজ মাকে দেখিয়েছে, তবে তার কোন আইনত মুল্য নাই।

এব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলার পরিবেশ ডিডি সাঈদ আনোয়ারকে কল করলে তিনি বলেন,“ আপনি এ ব্যাপারে ইন্সপেক্টর মইনুল সাহেবের সাথে কথা বলেন। মইনুল সাহেব এ বিষয়টি দেখাশুনা করছে।”

এব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলার পরিবেশ ইন্সপেক্টর মইনুলকে কল করলে তিনি বলেন,“ করোনার মধ্যে আমরা বাহিরে খুবকম অভিযান চালাচ্ছি, আর চৈতীর ইটিভি প্লান আছে কিন্তু পানির কালার ঠিক মত পরিস্কার হয়না, আমরা তাদেরকে ইটিভির প্যারা মিটার ঠিক না থাকায় কয়েকবারে ৫০/৬০ লাখ টাকা জরিমানা করেছি। আপনার কাজ থেকে যখন জানলাম তাই আবার অভিযান পরিচালনা করব। আউটডোর থেকে পানি এনে পরীক্ষা করব। প্রয়োজনে আপনারা অভিযোগ করলে অভিযানে আপনারাও সাথে যেতে পারবেন। তবে বাস্তবতা হল, তারা দিনে কাজ বন্ধ রাখে কিন্তু রাতের আঁধারে কাজ করে ফেলে।”

এ ব্যপারে এমপি লিয়াকত হোসেন খোকাওকে কল করলে তিনি কল রিসিভ করেন নি। তাকে ক্ষুদে বার্তা পাঠালে তার কোন জবাব পাওয়া যায়নি এবং সংবাদ প্রকাশ করার আগ পর্যন্ত কল বেক করেননি।

এ ব্যপারে উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন বলেন,“ আমি বিষয়টি শুনেছি, তবে ফ্যাক্টরি বন্ধ করলে হাজার হাজার স্থানীয় শ্রমিক না খেয়ে মরবে।” আপনি ফ্যাক্টরি বন্ধ করবেন কেন ? তার জবাবে তিনি বলেন,“তবে পরিবেশ নষ্ট যাতে না হয় সে ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের একটি ইটিভি আছে, মাঝ মাঝে তারা এটা বন্ধ রাখে বলেই দুষিত পানি দিয়ে পরিবেশ নষ্ট হয়। আমি বিষয়টা দেখব।”

এ ব্যাপারে চৈতি কম্পোজিট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালামকে কল করে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য,সোনারগাঁয়ের চৈতি কম্পোজিট লিমিটেডের বিষাক্ত বর্জ্য ও দুষিত পানি দিয়ে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ ও স্বাস্থ্য ঝুকিতে এলাকার মানূষ। তার প্রতিবাদে মানব বন্ধন করেছে স্থানীয় এলাকা বাসী।

২২ জুন সোমবার চৈতি কম্পোজিট লিমিটেডের সামনে এই মানব বন্ধন করা হয়। মানুষে জমি জবর দখল করে প্রকাশ্যেই অবৈধভাবে পানির লাইন করার জন্য মোটা পাইপ বসানো হচ্ছে। সাদিয়া নাসরিন বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় ও পরে ইউএনও অফিসে অভিযোগ করে।যার অনুলিপি অনেক জায়গায় দেয়া হয়েছে কিন্তু কোন প্রতিকার না পেয়ে মানব বন্ধন করে এলাকাবাসী।

এর আগের ঘটনাও সোনারগাঁবাসীসহ দেশবাসী জানে। এম পি লিয়াকত হোসেন খোকাও এসে দেখেছেন গভীর সুরঙ্গ দিয়ে বিষাক্ত বর্জ্য ও দুষিত পানি খালে ফেলেছে চৈতী কম্পোজিট। আমরা স্বচ্ছ বিচার চাই। স্বাস্থ্য বান্ধব পরিবেশ চাই, অত্যাচার থেকে মুক্তি চাই।

1