কোভিড ১৯ এ ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে সিটি কর্পোরেশন এর আর্থিক সহায়তা প্রদান

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম:  অদ্য বেলা ১২:০০ ঘটিকায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে ইউরোপিয়ান সিভিল প্রটেকশন এন্ড হিউম্যানিটারিয়ান এইড অপারেশনস এর আর্থিক সহায়তায় সেভ দ্য চিলড্রেন ও সিপিডি’র নগর দুর্যোগ সহনশীলতা বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিক পর্যায়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এর আয়োজনে ১৫ ও ১৬ নং ওয়ার্ডের করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্থ ১১৪ টি পরিবারকে মোবাইল একাউন্টের মাধ্যমে প্রত্যেক পরিবারের জন্য নির্ধারিত ৪৫০০/= টাকা এককালীন স্থানান্তর কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবুল আমিন, তিনি বলেন কোভিড-১৯ এ ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার সমুহ প্রাপ্ত টাকায় চিকিৎসা, ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা, নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য সহ পরিবারের চাহিদা মোতাবেক যে কোন কাজে ব্যয় করতে পারবে, যার ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবারগুলোর দুর্ভোগ ও হতাশা অনেকাংশে হ্রাস পাবে। তিনি উক্ত প্রকল্পের চলমান কার্যক্রমের সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং র্পযায়ক্রমে সিটি কর্পোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কাঠামো গঠনে ও শক্তিশালীকরনে সহায়তার আহ্বান জানান। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনকে কোভিড ১৯ পরিস্থিতি মোকাবেলায় র্আথিক সহায়তা প্রদানে সিপিডি, সেভ দ্য চিলড্রেন বিশেষ করে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকে ধন্যবাদ জানান।

১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস বলেন, প্রাথমিক ভাবে ১৫ নং ওয়ার্ডে করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ ৬৪ টি পরিবারকে মোবাইলের মাধ্যমে র্আর্থিক সহায়তা প্রদানে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো অনেক উপকৃত হয়েছে। প্রাপ্ত টাকায় কেউ ক্ষুদ্র ব্যবসা চালু, কেউ বাচ্চার দুধ, খাতাকলম, ঔষধসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয়, দোকানের বাকি পরিশোধ এবং পরিবারের অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে ব্যয় করতে পারবে। এ ধরণের সহায়তার সুযোগ সৃষ্টির জন্য সিপিডি’র নগর দুর্যোগ সহনশীলতা বৃদ্ধি প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ঠ সকলকে ধন্যবাদ জানাই।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এর নগর পরিকল্পনাবিদ মোঃ মঈনুল ইসলাম এর সঞ্চালনায় এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস, ১৫ নং ওয়ার্ডের সচিব আবুল কালাম সহ উ্পকারভোগীবৃন্দ এবং নগর দুর্যোগ সহনশীলতা বৃদ্ধি প্রকল্পের নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি কাজী এনামুল কবির প্রমূখ।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এর নগর পরিকল্পনাবিদ মোঃ মঈনুল ইসলাম বলেন, উক্ত প্রকল্পের আওতায় নারায়ণগঞ্জে ২৯৭ জন আরবান কমিউনিটি ভলান্টিয়ার আছে যারা করোনাকালীন সময় ওয়ার্ড দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে উপকারভোগীর তালিকা, ত্রাণ বিতরণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সামাজিক র্কাযক্রমে সরাসরি সংযুক্ত ও সহায়তা করছে।

্উপকারভোগী আলাউদ্দিন মিয়া বলেন আমি, ওর্য়াড দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা কমিটির প্রতিবন্ধী প্রতিনিধি। আমার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৪ জন। আমি ২ নং রেল গেটে পান সিগারেট বিক্রয় করি। করোনা আসার পর সরকারি র্নিদেশনা আনুযায়ী লকডাউনে ২ নং রেল গেটে পান সিগারেট বিক্রয়ের জন্য বসতে পারিনি, যার ফলে ৩ মাস যাবৎ আমি র্কমহীন হয়ে আছি। ফলে যতটুকু ব্যবসার টাকা ছিল সেটাও শেষ হয়ে গেছে। আমি মোবাইলের মাধ্যমে প্রাপ্ত টাকা দিয়ে আবার ব্যবসা চালুর মাধ্যমে পরিবারের যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের স্বপ্ন দেখছি।

নগর দুর্যোগ সহনশীলতা বৃদ্ধি প্রকল্পের নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি কাজী এনামুল কবির জানান, দ্বিতীয় পর্যায়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এর ১০, ১৪, ১৫ ও ১৬ নং ওয়ার্ডে আরও প্রায় ৬০০ টি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে অনুরূপ সহায়তার পরিকল্পনা আছে। এছাড়া করোনাভাইরাস প্রতিরোধ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং রেডিও, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার, করোনা রোগীর স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী কর্মীকে পিপিই প্রদান এবং বিদ্যালয়,স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ও কমিউনিটিতে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জনসমাগম স্থলে হাত ধোয়ার জন্য বেসিন স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

1