রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইন সংশোধনের উদ্যোগ উদ্দেশ্যমূলকও সংবিধান পরিপন্থী

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম:  নির্বাচন কমিশন কর্তৃক করোনা মহামারীজনীত দুর্যোগের অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যে ‘রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধন আইন’ সংশোধনের তৎপরতাকে ‘দায়িত্বহীন, অবিবেচনাপ্রসূত ও বিশেষ উদ্দেশ্যমূলক’ হিসাবে আখ্যায়িত করে অনতিবিলম্বে এই তৎপরতা স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেছেন, মহামারী দুর্যোগে রাজনৈতিক দলসমূহের স্বাভাবিক রাজনৈতিক-সাংগঠনিক কার্যক্রম যখন প্রায় বন্ধ ও সংকুচিত তখন গণপ্রতিনিধিত্ব আইন-আরপিও’র বিধিবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নির্বাচন কমিশনের নেতিবাচক ও প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকাকে আরো প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের মধ্যে গুরুতর আপত্তি উঠেছে, বিক্ষুব্ধ করেছে।

তিনি ক্ষোভের সাথে উল্লেখ করেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের নৈতিক জোর ও গ্রহণযোগ্য না থাকায় রাজনৈতিক দলের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখার বিধান থেকে তারা এখন সরে আসতে চাইছে। তিনি বলেন, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলসমূহের ব্যর্থতার কারণে এই বিধান থেকে সরে আসা যাবে না। বরং রাজনৈতিক দলসমূহের মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্যের অন্তর্ভূক্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে ৫ থেকে ১০ বছরের নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে। তিনি নির্বাচন কমিশনের সংশোধন প্রস্তাবকে অগণতান্ত্রিক, স্বেচ্ছাচারী ও সংবিধানের মৌল গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

আজ ৫জুলাই রবিবার সকালে সেগুনবাগিচায় সংহতি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাইফুল হক এসব কথা বরেন। এসময় সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, আকবর খান, আবু হাসান টিপু, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাশিদা বেগম, মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক, ঢাকা মহানগর নেতা জোনায়েদ হোসেন প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশন প্রস্তাবিত ‘রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধন আইন ২০২০’ সম্পর্কে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ৭ দফা মতামত ও প্রস্তাবনা উত্থাপন করা হয়েছে:

 করোনা মহামারীর এক ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যে দেশে রাজনৈতিক দলসমূহের স্বাভাবিক রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক তৎপরতা যখন প্রায় বন্ধ ও সংকুচিত তখন গণপ্রতিনিধিত্ব আইন (আরপিও) সংশোধনের মত এত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের উদ্যোগ চরম দায়িত্বহীনতা ও অবিবেচনাপ্রসূত। কারণ এসব বিষয়ে মতামত গঠনের জন্য যে ধরনের স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ প্রয়োজন তা এখন অনুপস্থিত।
জাতীয় জীবনে একটি অস্বাভাবিক দুর্যোগের মধ্যে যেরকম দ্রুততার সাথে এই আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তা নির্বাচন কমিশনের সদিচ্ছাকে গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সরকার ও সরকারি দলকে আরো খুশী রাখতে ও বাড়তি রাজনৈতিক সুবিধা দিতে আইন সংশোধনের এত তড়িঘড়ি আইন সংশোধনের উদ্যোগ কিনা রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের মধ্যে এই উদ্বেগ-উৎকন্ঠাও তৈরী হয়েছে।

এটা সত্য যে ২০২০ এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটিসহ সকল স্তরের কমিটিতে ন্যূনতম ৩৩ শতাংশ নারী সদস্যদের অন্তর্ভূক্ত করার যে বিধান ছিল কোন রাজনৈতিক দলই তা কার্যকরি করতে পারেনি। এটা একটা বড় ব্যর্থতা সন্দেহ নেই। নির্বাচন কমিশনের নৈতিক জোর না থাকায় তারাও রাজনৈতিক দলসমূহকে এটা বাস্তবায়নে বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করতে পারেনি। ব্যর্থতার কারণে নির্বাচন কমিশন এখন এই বাধ্যবাধকতা থেকে সরে আসতে চাইছে। এটা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের প্রস্তাব হচ্ছে নারীদের ৩৩% নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় কমিটির জর্ন্য ৫ (পাঁচ) বছর আর নি¤œস্তরের কমিটির জন্য ১০ (দশ) বছর সময়সীমা বেঁধে দিয়ে এ সংক্রান্ত বিধান সংশোধন করা প্রয়োজন।

 নির্বাচন কমিশনের নতুন প্রস্তাবনায় সবকিছুতে বাংলা শব্দের প্রবর্তন করতে যেয়ে এমন সব শব্দের প্রস্তাব করা হয়েছে যা গ্রহণযোগ্য নয়, অনেক শব্দ সহজে উচ্চারণও করা যাবে না।

রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধন আইন, ২০২০ সংক্রান্ত অনেক প্রস্তাবনা পুরোপুরি অগণতান্ত্রিক, স্বেচ্ছাচারী ও সংবিধান স্বীকৃত নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইন বাতিল ও নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধিত হবার প্রক্রিয়াও অগণতান্ত্রিক, বৈষম্যমূলক ও সংবিধানের মৌল গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।

সমগ্র নির্বাচনী প্রক্রিয়া আজ যেখানে কালো টাকা, পেশীশক্তি, সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা ও প্রশাসনিক ‘ম্যানিপুলেশনে পর্যবসিত হয়েছে এ থেকে বেরিয়ে এসে একটি সত্যিকার গণতান্ত্রিক নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাবনায় কার্যকরি কিছু নেই। সাপ না মেরে নির্বাচন কমিশন দড়ি ধরে টানাটানি করছেন।

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব হচ্ছে করোনা মহামারীজনীত দুর্যোগের কারণে অনতিবিলম্বে (আরপিও) আইন সংশোধনের বিদ্যমান তৎপরতা বন্ধ রাখা প্রয়োজন। রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সরাসরি ও খোলামেলা আলোচনা না করে আইন সংশোধনের কোন সুযোগ নেই। জরুরী মনে করলে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে বা অনলাইনে রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে পর্যায়ক্রমে নির্বাচন কমিশন সংলাপ বা পরামর্শ সভার আয়োজন করতে পারে।

1