নারায়ণগঞ্জে বাসদের সমাবেশ ও মিছিল

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম:  রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা, ভুলনীতি-দুর্নীতি-লুটপাট বন্ধ করে পাটকল আধুনিকায়ন করা এবং করোনা পরীক্ষায় আরোপিত ফি প্রত্যাহার, বিনামূল্যে করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিতের দাবিতে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে আজ বিকাল ৫ টায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সমাবেশ ও শহরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বাসদ সমন্বক নিখিল দাসের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবু ন্ঈাম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, বাসদ ফতুল্লা থানার সমন্বয়ক এম এ মিল্টন, বাসদ কুতুবপুর ইউনিয়নের সমন্বয়ক এস এম কাদির, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সুলতানা আক্তার।
বাসদ সমন্বয়ক নিখিল দাস বলেন, লোকসানের দোহাই দিয়ে সরকার ২৫ টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ ঘোষণা করেছে। এতে পাট শ্রমিক তাদের পরিবার পরিজন ও পাট চাষীসহ সংশ্লিষ্ট প্রায় ৩ কোটি মানুষের জীবনের দুর্দশা নেমে এসেছে। পাট শিল্পে গত ৪৪ বছরে ১০ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা লোকসানের কথা বলা হয়। অথচ গত ১০ বছরে উৎপাদন না করেও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালিকদের ৬২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি হিসেবে দেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয় গত ৪৮ বছরে ঋণ খেলাপি ব্যাংক ডাকাতদের ৪৫ হাজার কোটি টাকা মওকুফ করে দেওয়্া হয়। লোকসানের দায় শ্রমিকদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হলো অথচ তাদের ভুলনীতি দূর্নীতির কারণে লোকসান হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মাত্র ১২০০ কোটি টাকা ব্যয় করে আধুনিক করা হলে শ্রমিক ছাঁটাই করতে যেমন হতো না, আবার উৎপাদন ৩ গুন বাড়ানো যেত। তা না করে সরকার বন্ধ করার জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এটি একটি আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত। বাস্তবে ২৫ টি কারখানার ২৬০০ একর জায়গা যার বাজার মূল্য ১৩ হাজার কোটি টাকা এবং যন্ত্রপাতি, গোডাউনসহ অন্যান্য স্থাপনার ১০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের জন্য এ আয়োজন। যেখানে দেশে ও বিদেশে পাটের চাহিদা বাড়ছে সেখানে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ করা একটি অশনি সংকেত। ২০০২ সালে ‘অজগর’ আখ্যা দিয়ে তৎকালীন রাজাকার মন্ত্রী নিজামী বন্ধ করেছে আদমজী জুট মিল আজ মুক্তিযুেদ্ধর নেতৃত্বদানকারী দল ও তার মুক্তিযোদ্ধা পাটমন্ত্রী ২৫ টি পাটকল বন্ধ করেছে। মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকার একই চেতনায় একাকার হয়ে গিয়েছে। শ্রমিকরা যখন সরকারের এই গণবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। তখনই খুলনার পাটশ্রমিক নেতা নুরুল ইসলাম ও ওলিয়ার রহমানকে গ্রেফতার করা হয়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনায় সাধারণ মানুষ যখন কাজ হারিয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক দুরাবস্থায় পতিত, ঠিক সেই সময় সরকার করোনা টেস্টে ফি নির্ধারণ করেছে, যেটি একটি অগণতান্ত্রিক অন্যায় সিদ্ধান্ত। এমনিতে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে, কোথাও কোন চিকিৎসা নেই। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে করোনা টেস্টে ফি বাতিল ও পাটকল শ্রমিক নেতাদের দ্রুত মুক্তি দাবি করেন। পাটকল ও পাটচাষীদেও বাঁচাতে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

1