সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট পরিচালিত আলোচনাসভা ও পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠিত

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম:  সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলা শাখার উদ্যোগে করোনায় থামবে না পড়া স্লোগানে করোনা দুর্যোগেও পড়াশুনা অব্যাহত রাখতে স্বেচ্ছাশ্রমে বিনাবেতনের স্কুল অদম্য পাঠশালার র্কাযক্রম চালিয়ে যাচ্ছে । গত ২১/০৭/২০২০ তারিখ বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল আবু তাহের (বীর উত্তম) এর ৪৪ তম ফাঁসি দিবস উপলক্ষে আজ ২৭/০৭/২০২০ আমাদের অদম্য পাঠশালার উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল তাহের স্মরণে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় আলোচনা সভা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে খাতা ও কলম বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সুলতানা আক্তার, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বন্দর উপজেলার আহ্বায়ক মুন্নি সরদার, সদস্য সচিব রাকিবুল হাসান রবিন, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম পাঠাগারের আহ্বায়ক ফাতেমা আক্তার মুক্তাসহ অদম্য পাঠশালার শিক্ষকবৃন্দ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, কর্নেল তাহের ছিলেন দেশ প্রেমের জ¦লন্ত প্রতীক। তিনি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১১ নং সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে এসে তিনি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ১৯৭১ সালের ১৪ নভেম্বর ঐতিহাসিক কামালপুরের যুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়ার সময় পাক সেনাদের গোলায় মারাত্মকভাবে আহত হয় এবং তাঁর বাম পা কেটে ফেলতে হয়। তিনি সেনাবাহিনীর আমলাতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙ্গে জনতার বাহিনী প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। সমাজতন্ত্রে বিশ^াসী কর্নেল তাহের বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার প্রধান ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু সে অভ্যুত্থান ছিনতাই করে জেনারেল জিয়া রাষ্ট্রক্ষমতা করায়ত্ব করে। একটি প্রহসনের বিচারে মাধ্যমে কর্নেল তাহেরকে ফাঁসি দেয়া হয়। প্রকাশ্য আদালতে সিপাহী জনতার প্রিয় কর্নেল তাহেরের বিচার তারা করতে সাহস পায়নি, করেছে কারাগারের অভ্যন্তরে গোপন সামরিক আদালতে। কর্নেল তাহের আজ আমাদের মাঝে নেই, তবে তার চিন্তা দর্শন রয়েছে। ফলে কর্নেল তাহেরের দেশ প্রেমের চিন্তা দর্শন ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। এই উদ্দেশ্যেই অদম্য পাঠশালার ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে কর্নেল তাহেরকে নিয়ে উক্ত আয়োজন করা হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, করোনা সংক্রমনে বাংলাদেশ বিপর্যস্ত। সাধারণ নি¤œ আয়ের মানুষ ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। করোনা অবস্থায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ রয়েছে, ফলে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশুনায় বড় ধরণের ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষ করে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে নি¤œ আয়ের মানুষের সন্তানদের। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনলাইন শিক্ষা চালু হলেও নি¤œ আয়ের পরিবারের ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষে এতে শামিল হওয়া অসম্ভব। ফলে শ্রমজীবি মানুষদের সন্তানদের অনেকাংশের শিক্ষা থেকে ঝড়েপড়ার আশংকা তৈরি হয়েছে। এমতাবস্থায় ঝড়েপড়া রোধে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের বিনাবেতনের পাঠশালার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের পক্ষ থেকে এই ছাত্র ছাত্রীদের মাঝে খাতা ও কলম দেওয়া হয়।
সারাদেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের এই অদম্য পাঠশালার কার্যক্রম এই ঝড়ে পড়া কিছু পরিমান হলেও রোধ করতে পারবে বলে আমাদের বিশ^াস।

1