প্রথম দিনেই সন্ধ্যায় মুখোমুখি সাকিব-তামিম

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টি ফোর ডটকম :  ২৪শে নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ। প্রথম দিনেই দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে সন্ধ্যায় তামিম ইকবালের মুখোমুখি হবে সাকিব আল হাসান। ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়। অন্যদিকে উদ্বোধনী ম্যাচে দুপুর দেড়টায় মুশফিকুর রহীমের বেক্সিমকো ঢাকার মুখোমুখি হবে মিনিস্টার রাজশাহী। গতকাল এই সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে এই আয়োজনে কোনো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান রাখা হয়নি। গতকাল আয়োজক কমিটির সভা শেষে বিসিবি’র মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের কোনো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নাই। এর কারণ বর্তমান করোনা পরিস্থিতি।
২৪শে নভেম্বর থেকে আমাদের টুর্নামেন্ট শুরু হচ্ছে। প্রথম খেলা শুরু হবে বেক্সিমকো ঢাকা ও মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীর ম্যাচ দিয়ে। ১৮ই ডিসেম্বর ফাইনাল, ১৯শে ডিসেম্বর রিজার্ভ ডে রাখা হয়েছে। এখানে শেষ চার দলের এলিমিনেটর, কোয়ালিফাইং আগের (বিপিএল) মতোই থাকবে।’ এর আগে ১২ই নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছে ক্রিকেটার্স ড্রাফট। সেখানে ১৫৭ ক্রিকেটার থেকে মোট ৮০ জনকে বেছে নিয়েছে পাঁচটি দল। তবে এবার চার-ছক্কার এই লড়াইয়ে মাঠে থাকবে না কোনো দর্শক। করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে দেশে প্রায় ৮ মাস ক্রিকেট বন্ধ ছিল। এই সময় একের পর এক ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্থগিত হয়েছে। সব শেষ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টাইগারদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার সুযোগ এসেছিল। কিন্তু সেটিও স্থগিত হয়। যে কারণে বিসিবি ক্রিকেট মাঠে ফিরাতে তিন দল নিয়ে আয়োজন করে বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ। সেই আসর সফল হয়। তাতে দ্রুত আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেয় বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ। তবে মাঠে ক্রিকেট ফিরলেও ভক্তদের তা বাড়িতে বসে টিভিতে দেখতে হবে। মাঠে আসার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ-নেপাল ফুটবল ম্যাচে দর্শক ফিরেছে মাঠে। তাতে ভাবা হচ্ছিল চার-ছক্কার এই লড়াই হয়তো দর্শকদের মাঠে বসে দেখার সুযোগ হবে। কিন্তু অবশেষে তা হচ্ছে না। করোনার কারণে বিসিবি কঠোর অবস্থানে আছে। এই বিষয়ে জালাল ইউনুস বলেন, ‘আপনাদের কি মনে হয় (ফুটবলে দর্শক ফেরা)! এটা কি কোভিড পরিস্থিতিতে ভালো হলো? জানি এটা আবেগের ব্যাপার। অনেকদিন পর ফুটবল খেলা শুরু হয়েছে, সেখানে দর্শক এসেছে। কিন্তু আমরা সবার কথা চিন্তা করে মাঠে দর্শক এলাউ করবো না। এটাই আমাদের প্ল্যান এবং দর্শকশূন্য মাঠ থাকবে।’
অন্যদিকে ৫টি দলের ক্রিকেটারদের বিসিবি নিয়ে আসবে জৈব সুরক্ষা বলয়ের (বায়ো-বাবল সিকিউরিটি) মধ্যে। তার আগে সব দলের ক্রিকেটার থেকে শুরু করে কোচিং স্টাফদের করানো হবে কোভিড-১৯ পরীক্ষা। এ বিষয়ে জালাল ইউনুস বলেন, ‘খুব সম্ভবত তারা হোটেলে উঠবে ২০ তারিখে। এর আগে তারা হয়তো নিজেদের আয়োজনে অনুশীলন করতে পারে। কিন্তু ২০ তারিখ থেকে হোটেলে উঠবে এবং সেখান থেকেই বায়ো-বাবলে ঢুকবে। আর আমার মনে হয় না, কেউ যদি ঝুঁকি নিতে চায় তাহলে করতে পারে। আমরা চাই, যারা স্পন্সরদের অধীনে চলে এসেছে সেসব প্লেয়াররা তাদের আয়োজনের মধ্যেই অনুশীলন করুক। কারণ দুই একজন ইতিমধ্যে করোনা পজেটিভ হয়েছেন। টুর্নামেন্টের সময় যাতে কেউ আক্রান্ত না হয় সে জন্য তারা যেন বায়ো-বাবলে প্রবেশের পরই অনুশীলন করে।’ সেই সঙ্গে তিনি নিশ্চিত করেছেন এখনো টুর্নামেন্টের প্রাইজ মানি চূড়ান্ত হয়নি। তিনি বলেন, ‘প্রাইজমানির ব্যাপারটার এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আলাপ-আলোচনা হয়েছে আজকেও। দুই একদিনের মধ্যে জানিয়ে দেব।’ এ ছাড়াও এই টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় মিরপুর শেরেবাংলার উইকেট। বিশেষ করে এখানে রান খরা শঙ্কা প্রবল। শুধু তাই নয়, মিরপুর ও দেশের প্রধান কিউরেটর গামিনি ডি সিলভা ৩ দিন আগে দেশে ফিরেছেন। তাই শঙ্কা আছে প্রেসিডেন্ট কাপের মতো উইকেট নিয়ে শুরু হতে পারে সমালোচনা। তবে জালাল ইউনুস উইকেট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করলেও বাস্তবতার কথাও বলছেন। তিনি বলেন, ‘সাধারণত টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের জন্য ফ্ল্যাট উইকেট করা হয়ে থাকে। যাতে প্রচুর রান হয়, খেলায় আনন্দ আসে, উত্তেজনা তৈরি হয়। বেশি রান হলে যেন চেজ করা যায়। এর সঙ্গে একটা চ্যালেঞ্জ অবশ্য আছে অস্বীকার করার উপায় নেই। কারণ একটা সিঙ্গেল উইকেটে প্রতি দিনই খেলা থাকবে। ব্যবস্থাপনার একটা ব্যাপার আছে। এটা একটা চ্যালেঞ্জ উইকেটগুলোকে ঠিক রাখা। আমরা চেষ্টা করবো যাতে উইকেটের যথাযথ ব্যবহার করা যায় এবং উইকেট থেকে কোনো বাজে কিছু না পাই।’

1