দেলোয়ার ও আবুলের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ সিএনজি চালকরা

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টি ফোর ডটকম :  নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সাওঘাট সিএনজি স্ট্যান্ডে দেলোয়ার ও আবুলের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ চালকরা। সাওঘাট সিএনজি স্ট্যান্ডে চলছে জাতীয় শ্রমিকলীগ আঞ্চলিক শাখা ও জাতীয় শ্রমিক লীগের নামে নীরব চাঁদাবাজি। আর এসব চাঁদার টাকা নিয়ে জাতীয় শ্রমিকলীগ আঞ্চলিক শাখার সভাপতি দেলোয়ার ও জাতীয় শ্রমিকলীগের সভাপতি আবুল হোসেনের মধ্যে চলছে দ্বন্দ্ব। বিপাকে পড়ছে সিএনজি চালকরা। সাওঘাট সিএনজি স্ট্যান্ডের লাইনম্যান রুমান বলেন, নজু ভূঁইয়ার মৃত্যুর পর থেকে সাওঘাট সিএনজি স্ট্যান্ড দেলোয়ারের সভাপতিত্বে চলতো। পরে গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের সাওঘাট ৭নং ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগের যুব ক্রিয়া সম্পাদক আবুল হোসেন কিছুদিন যাবৎ জাতীয় শ্রমিকলীগের সভাপতি পরিচয়ে স্ট্যান্ড দখল করে নিলে চালকরা বিপাকে পড়ে যায়। এতে প্রতিদিন স্ট্যান্ডের চাঁদা নিয়ে চলে মারামারি আর হানাহানির ঘটনা। এছাড়া শ্রমিক লীগের নামে চাঁদার টাকা যায় প্রশাসন থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট মহলের পকেটে। প্রকাশ্যে এসব চাঁদাবাজি চললেও এ ব্যাপারে প্রশাসন নির্বিকার। নেয়া হচ্ছে না কোনো পদক্ষেপ। সরোজমিনে ঘুরে জানা যায়, শ্রমিক লীগ নেতা দেলোয়ার ও আবুলের নামে প্রতিটি সিএনজি থেকে দৈনিক হারে চাঁদার টাকা উঠানো হচ্ছে। এই সাওঘাট স্ট্যান্ডে প্রতিদিন দেড়‘শ সিএনজি চলে। জাতীয় শ্রমিক লীগের আঞ্চলিক শাখা ও জাতীয় শ্রমিকলীগের নামে চালকদের সিএনজি প্রতি ৩০ টাকা করে দৈনিক চাঁদা দিতে হয়। এছাড়াও মাসিক চাঁদা ২০০টাকা করে দিতে হয়। আর এই চাঁদার টাকা নিয়ে প্রতিদিন দেলোয়ার ও আবুলের মধ্যে দ্বন্দ্ব হয়। দেলোয়ার ও আবুলের দ্বন্দ্বে যাত্রী ও চালকরা রয়েছে আতঙ্কে। এক স্ট্যান্ডে দুই সভাপতি আবারও কে হবে সভাপতি কে হবে লাইনম্যান তা নিয়ে প্রতিদিনই স্ট্যান্ডে বইছে সমালোচনার ঝড়। এছাড়াও কয়েকজন সিএনজি চালক জানান, জাতীয় শ্রমিক লীগ আঞ্চলিক শাখা ও জাতীয় শ্রমিক লীগের নামে প্রতিদিনই টাকা আদায় করা হয়। এসব টাকা আদায় করার জন্য রুমান নামে নির্ধারিত লোক রয়েছে। এ ছাড়া নতুন কোন গাড়ি স্ট্যান্ডে আসলেই জাতীয় শ্রমিক লীগ আঞ্চলিক শাখা ও জাতীয় শ্রমিক লীগের নামধারী কতিপয় লোককে ১ থেকে ২ হাজার টাকা দিতে হয়। কোন ড্রাইভার ইচ্ছা করলেই গাড়ি চালাতে পারে না। এছাড়া বিভিন্ন অজুহাতে চালকদের দৈনিক ও মাসিক চাঁদা দিতে হয়। একাধিকবার সিএনজি স্ট্যান্ড দখল ও পাল্টা দখলের ঘটনা ঘটেছে। আর এসব দখল বেদখলের নেপথ্যে রয়েছে জাতীয় শ্রমিক লীগের আঞ্চলিক শাখা ও জাতীয় শ্রমিক লীগের নামে লাখ লাখ টাকার চাঁদার বাণিজ্য। সিএনজি চালকদের দাবি, অবিলম্বে শ্রমিক লীগের নামে নেতাদের এ ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধ করে গাড়ি চালানোর সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে আনা হোক। সিএনজি স্ট্যান্ডের বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, চাঁদাবাজির বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ আসে নাই তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

1