বাইডেন প্রশাসনে ঠাঁই হয়নি বিজেপি-আরএসএস ঘেঁষা ডেমোক্রেটদের

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টি ফোর ডটকম:মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনে বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়োগ পেয়েছেন প্রায় ২০ জন ভারতীয় বংশোদ্ভূত। তবে যারা নিয়োগ পাননি, তাদের নিয়েই বরং আলোচনা বেশি। জায়গা হয়নি ওবামা প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা সোনাল শাহ ও অমিত জানির। আরএসএস-বিজেপি’র সঙ্গে তাদের কথিত সম্পর্কই এক্ষেত্রে প্রধান কারণ। তাদের আরএসএস সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি প্রায় এক ডজন ইন্ডিয়ান-আমেরিকান সংগঠন তুলে ধরেছেন। তারই প্রেক্ষিতে তাদেরকে নয়া ডেমোক্রেট সরকারের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত। ভারতের দ্য ট্রিবিউন পত্রিকা এই খবর দিয়েছে।
খবরে বলা হয়, বাইডেনের দলে রয়েছেন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক উজরা জেয়া। গৃহকর্মীর ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে ২০১৪ সালে নিউ ইয়র্কে ভারতীয় কূটনীতিক দেবযানী খোবরাগাড়ে গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনায় ভূমিকা ছিল তার।আরও স্থান পেয়েছেন সামিরা ফাজিলি।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত সামিরা যুক্তরাষ্ট্রে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল, নাগরিকপঞ্জী বা কাশ্মীর লকডাউন ইস্যুতেও প্রতিবাদে শামিল হয়েছিলেন তিনি।

কয়েকটি সূত্রের বরাতে খবরে বলা হয়, ধর্মনিরপেক্ষ ভারতীয়-আমেরিকান সংগঠনগুলোর চাপেই বাইডেন-হ্যারিসের দল আরএসএস-বিজেপি ঘেঁষা ব্যাক্তিদেরকে প্রশাসনের বাইরে রেখেছে। মূলত, হিন্দুত্ব-বিরোধী সংগঠনগুলোর চাপেই আরএসএস-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সরকারে রাখার বিষয়ে সতর্ক ডেমোক্রেটরা। আর এই সংগঠনগুলোর অব্যাহত প্রচারণার কারণেই হিন্দুত্ব-সমর্থক কংগ্রেস প্রার্থী শ্রী প্রেস্টন কুলকার্নি নির্বাচনে পরাজিত হন। পাশাপাশি, রাজনৈতিক গুরুত্ব হারান আরেক কংগ্রেস সদস্য তুলসি গাবার্ড।

ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসনে থাকা সোনাল শাহ এবার জায়গা পাননি। বাইডেনের ‘ইউনিটি টাস্কফোর্স’-এও দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। কিন্তু তার পিতা আরএসএস-এর অঙ্গ সংগঠন ‘একাল বিদ্যালয়’-এর প্রতিষ্ঠাতা। পাশাপাশি, তিনি‘ওভারসিস ফ্রেন্ডস অব বিজেপি-ইউএসএ’-এর প্রধান। সোনাল শাহ নিজে আবার এই সংগঠনটির জন্য অনুদান সংগ্রহ করেছিলেন।

আরএসএস-বিজেপি সংশ্লিষ্টতার জেরে বাইডেনের প্রশাসনে স্থান না পাওয়া অপর উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি হচ্ছেন অমিত জানি। তিনি বাইডেন প্রচার শিবিরের‘মুসলিম আউটরিচ’ কর্মসূচীর সমন্বয়ক ছিলেন।কিন্তু পরে জানা গেলো তিনি তার পরিবারের সঙ্গে বিজেপি ও মোদির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।পরে তাকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
বিজেপি-আরএসএস সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন কাউকে যেন প্রশাসনে রাখা না হয়, সেজন্য ১৯টি ভারতীয়-আমেরিকান সংগঠন বাইডেনের কাছে চিঠি লিখেছে। এতে উল্লেখ করা হয়, উগ্রডানপন্থী হিন্দু সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে এমন অনেকেই ডেমোক্রেট দলের সদস্য। তাই এক্ষেত্রে তাকে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়।

1